নওগাঁয় এক ব্যাক্তির মৃত্যুর ৭ দিন পর রির্পোট আসলো করোনা পজেটিভ, জেলায় মোট ৩২ জনের মৃত্যু

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠনঃ
নওগাঁয় মৃত্যুর ৭ দিন পর রির্পোট আসলো মৃত ব্যাক্তি  করোনা পজেটিভ। এছাড়া জেলায় নতুন করে আরো এক গৃহবধূ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন, এনিয়ে নওগাঁতে মোট ৩২ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।নওগাঁ জেলা শহরের জগন্নাথ (৬২) নামের এক ব্যাক্তি সর্দ্দি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার ৭দিন পর তার স্বজনরা জানতে পারলেন তাদের অভিভাবক জগন্নাথ করোনা আত্রান্ত ছিলেন।
মৃত্যুর ৭ দিন পর রির্পোট পেলেও জগন্নাথের পরিবারের অপর সদস্যরা সুস্থ আছেন, তবে রির্পোট আসার পর তাদের মাঝে করোনা আতংক বিরাজ করছে। তবে ইতি মধ্যেই স্বাস্থ্য বিভাগ করোনার নমুনার ফলাফল আসার পর শনিবার জগন্নাথের পরিবারের সকল সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলা শহরের হাট নওগাঁ মহল্লায়। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারি জগন্নাথ হাট নওগাঁ মহল্লার রাধেসামের ছেলে।
জগন্নাথের ছেলে উদয় কুমার জানান, আমার বাবা কয়েকদিন ধরে সর্দ্দি ও জ্বরে আক্রান্ত থাকায় গত বুধবার (৭ এপ্রিল) নওগাঁ  সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত ডাক্তাররা চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি করোনার নমুনাও সংগ্রহ করেন। এরপর বাবাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।বৃহস্পতিবার অবস্থার অবনতী হলে বাবাকে ফের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (৯ এপ্রিল) শুক্রবার রাতে মারা যান, এরপর পারিবারিকভাবে মরদেহের সৎকার করা হয় স্বজনদের নিয়ে। এর ৭ দিনপর শুক্রবার(১৬ এপ্রিল) করোনা ভাইরাস নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে জগন্নাথের স্বজনরা জানতে পারেন জগন্নাথ করোনা আক্রান্ত ছিলেন।
ছেলে উদয় কুমার আরো জানান, করোনার রির্পোট পাবার পর থেকে আমরা কেউ আর বাসা থেকে বের হইনি। পরিবারের সকলেই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন বলেও জানিয়েছেন সে।
এ বিষয়ে নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মন্জুর-এ মোর্শেদ প্রতিবেদককে জানান, মৃত জগন্নাথের পরিবারের সকল সদস্যকে হাসপাতালে এসে নমুনা দিতে বলা হয়েছে। ফলাফল এলে জানা যাবে জগন্নাথের পরিবারের আর কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কিনা।
উল্লেখ্য যে, ১১ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তারপরও নওগাঁ জেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য নেই কোন পিসিআর ল্যাব এবং জটিল রোগীর আ্ইসিইউ বেড, যার ফলে নওগাঁয় সংগ্রহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় রাজশাহী ও ঢাকায়।
এ কারনে নওগাঁ জেলায় কেউ করোনার নমুনা দিলেও ফলাফল পেতে সময় লাগে। এ অবস্থায় করোনা আক্রান্তরা ভালো হয়ে যাবার পর অথবা মারা যাবার পর নমুনার ফলাফল জানতে পারেন, যা ইতি পূর্বেও ঘটেছিলো।
অপরদিকে গত২৪ ঘন্টায় নওগাঁতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো এক গৃহবধূর মৃত্যুু হয়েছে । মৃত গৃহবধূ সেলি আক্তার (৫০) নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মাটিন্দর ইউপির বামইল গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী।
এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ( শুক্রবার ১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত নওগাঁ জেলাতে নতুন আরো ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নওগাঁ জেলায় বর্তমানে হোম-কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭ শত ৮৫ জন। এছাড়া ১০ জন করোনা রোগী আছেন প্রাতিষ্টানিক কোয়ারেন্টাইনে ও আইসোলেশনে আছেন ২জন বলে জানাগেছে।
সর্বশেষ গৃহবধূর মৃত্যুনিয়ে নওগাঁ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো মোট ৩২ জনে।নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মন্জুর-এ মোর্শেদ জানান,  নওগাঁ জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট ১৮শ ৩৬জন । এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৬শ ২৩ জন। বর্তমানে হোমকোয়ারেন্টাইনে আছেন
৭ শত ৮৫ জন। এ ছাড়া ১০ জন করোনা রোগী আছেন প্রাতিষ্টানিক কোয়ারেন্টাইনে ও আইসোলেশানে আছেন ২ জন। শুক্রবার ১৬ এপ্রিল রাতে পাওয়া  ১৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে নতুন করে ৩৫ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে।
তবে করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সেই শুরু হওয়া লকডাউন এর প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জেলা প্রশাসন ও নওগাঁ জেলা পুলিশ প্রশাসন। লকডাউনের তৃতীয় দিন শুক্রবারও জনগণকে লকডাউন মানাতে যথেষ্ট তৎপর ছিল পুলিশ প্রশাসন। পথে পথে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। জরুরি কাজে কেউ বের হলেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রতিটি যানবাহনে চালানে হয়েছে তল্লাশি। জেলা ও উপজেলা গুলোর মোড়ে মোড়ে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় সব যায়গায় মানুষের উপস্থিতি ছিলো তুলনা মূলক খুবই কম। শুধু মাত্র জরুরী প্রয়োজনীয় দোকানপাট ছাড়া অন্য কোন দোকানপাট খোলা ছিলনা বললেই চলে। তবে কিছু কিছু এলাকায় লোকজন কিছুটা বেশি উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে কাঁচা বাজার গুলোতে।
সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *