নওগাঁয় করল্যার চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ সবজী করল্যা এখন রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার করল্যা চাষীরা। করল্যা বিক্রি করে অনেকেই এখন স্বচ্ছল ভাবে হাসি খুসি জীবন যাপন করছে।

আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনবে সাপাহারকে, এমনটাই মনে করছেন উপজেলার অভিজ্ঞ কৃষক মন্ডলী। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার কৃষকরা করল্যা সবজি চাষে উৎসাহীত হয়ে তাদের হাইব্রীড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করল্যা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে কিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু
টাকা লাভ করত।

পরবর্তীতে সাপাহারে করল্যা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু দিন ধরে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কাঁচা তরিতরকারীর ব্যাবসায়ীরা ছুটে চলে আসেন সাপাহারে। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার করল্যা চাষীদের সেন্টার হিসেবে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের বাহাপুর মোড়ে গড়ে ওঠে মৌসুমী প্রতি দিনের জন্য ৩/৪ঘন্টার এক অস্থায়ী বাজার। ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকার করল্যা চাষীরা তাদের উৎপাদিত করল্যা নিয়ে চলে আসে এই বাজারে এবং ক্রেতারা তাদের নিকট বিভিন্ন দামে করল্যা ক্রয় করে মিনি ট্রাক যোগে সকাল ১০টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে যায় নিজ গন্তব্যে।

বর্তমানে প্রতি মন করল্যা হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে ওই অস্থায়ী বাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় হয়তো করল্যার বাজার কিছুটা বৃদ্ধি পবে বলেও অনেক করল্যাচাষী মনে করছেন। প্রতিবছর আগষ্ট এর ১৫তারিখ হতে অক্টোবরের ১৫/২০তারিখ পর্যন্ত চলে এই মৌসুমী অস্থায়ী বাজার। এবছর আগষ্টের ১২তারিখ ঈদ-উল আজহা পালিত হওয়ায় কয়েক দিন হল বাজারটি জেঁকে বসেছে এবং রাজধানী ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারী গনও আসতে শুরু করেছে এই বাজারে।

মঙ্গলবারে সরেজমিনে ওই বাজারে গিয়ে প্রতিমন করল্যা এক হাজার থেকে বারশ’ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।করল্যার অস্থায়ী এই বাজারে এসে ঢাকার কওরান বাজারের আনোয়ার হোসেন নামের এক সবজি ব্যাবসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, সাপাহারের করল্যা সবজির গুনগত মান ভাল ও এখান থেকে করল্যা কিনে লাভ ভাল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করল্যা রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে সরবরাহ করছেন।

এলাকার স্থানীয় করল্যা চাষী উকিল বাবু, আনারুল, ছয়ফুল ও আব্দুল মালেক সহ বেশ কিছু করল্যা চাষীর সাথে কথা হলে তারা জানান যে, অস্থায়ীভাবে উপজেলা সদরের বাহিরে এই স্থানে করল্যার বাজার গড়ে না উঠলে এখানকার করল্যা চাষীরা এই হারে করল্যা চাষাবাদ করতনা।

এখন করল্যা চাষ করে বিক্রি করার তাদের কোন ভয় নেই। বর্তমানে তারা সহ অনেকেই এখন করল্যা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। অস্থায়ী ওই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাগন জানান যে, প্রতিদিন এই অস্থায়ী কয়েক ঘন্টার বাজার হতে প্রায় ১শ’ থেকে ১৫০ টন করল্যা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মো: আতাউর রহমান সেলিম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, কয়েক বছর ধরে করল্যা চাষ এ উপজেলায় চাষীদের মাঝে এক নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশী, হাইব্রীড,সোনামুখী সহ বিভিন্ন জাতের করল্যা চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। কৃষি অফিসের তথ্য মতে এবছর উপজেলায় ১শ’৫০ থেকে ২শ’ বিঘা জমিতে করল্যা চাষাবাদ হয়েছে। করল্যা ক্ষনস্থায়ী ফসল হলেও এবারে এর ব্যাপক ফলন হয়েছে দামও রয়েছে কৃষকের মনের মত। আবহাওয়া আর কিছু দিন চাষীদের অনুকুলে থাকলে করল্যা চাষের মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে বলেও কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অস্থায়ী মৌসুমী করল্যা বাজারটি উপজেলা সদর হতে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দুরে বাহাপুর মোড়ে। প্রতিবছর একই সময়ে দুই থেকে আড়াই মাস ব্যাপী এবং প্রতিদিন সকাল ৭টায় বসে সাড়ে ১০টার মধ্যেই সমাপ্ত হয় এই বাজারটি। সাপাহার উপজেলার আম চাষীগন এবছর আম চাষে যেমন বিপ্লব ঘটিয়েছেন ঠিক তেমনটাই করল্যা চাষেও বিপ্লব ঘটাবে বলে করল্যা চাষী ও উপজেলা কৃষি দপ্তর মনে করছেন।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *