নওগাঁয় খাদ্যমন্ত্রী’র রোপনকৃত সারিবদ্ধ তালগাছের নিচে পালিত হলো তাল পিঠা উৎসব

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন,স্টাফ রির্পোটারঃ
বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী’র রোপনকৃত সারিবদ্ধ তালগাছের নিচে তাল পিঠা উৎসব পালিত হয়েছে।নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গায় সড়কে সারি সারি তালগাছের মনোরম সৌন্দর্যের পরিবেশে প্রথমবারের মতো পালিত হলো তাল পিঠা উৎসব। এতাল পিঠা উৎসবে গানের সুরে সুরে নানা রকমের তালের পিঠার স্বাদে মেতে উঠেছিলেন বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজারো মানুষ। পিঠা উৎসবে অংশ নেয় অর্ধশতাধিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৩০ ধরনের তাল পিঠা ছাড়াও বিভিন্ন উপককরণ দিয়ে বানানো অর্ধশতাধিক রকমের পিঠা ছিলো এ উৎসবে। পাকান, পুলি, হৃদয়হরণ, ঝিনুক পিঠা, তালের কেক, তালের ফুলঝড়ি, পাখির বাসা, তালের সিংড়াসহ বিচিত্র রকমের পিঠা উঠে এ উৎসবে।
গত শুক্রবার ছুটির দিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এপিঠা উৎসব। ঘুঘুডাঙ্গা সড়কে সারি সারি তালগাছ মনোরম সৌন্দর্য বৃদ্ধি করায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়তই মানুষ আসে দলে দলে। তাই সড়কটিকে পর্যটকদের কাছে পরিচিত করতে তাল পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন স্থানিয় হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ।
পিঠা উৎসবে প্রতিটি পিঠার দাম ছিলো ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি স্টলে প্রায় ২০ থেকে ৩০ রকমের পিঠা দেখা যায়। বাড়ি থেকে তৈরি করে আনা পিঠার পাশাপাশি অনেক স্টলে বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরিও করা হয়।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা থেকে পিঠা উৎসবে আসা রবিউল, হান্নান ও সাজ্জাদ জানান, ঘুঘুডাঙ্গায় সারি সারি তালগাছের সড়কে আসলে এমনিতেই হৃদয়ে একটা প্রশান্তি অনুভব হয়, এজন্যই আমরা মাঝে মাঝেই আসি। তবে আজ পিঠা উৎসবকে কেন্দ্রকরে হাজারো লোকজন সমাগম হওয়ায় ভালো লাগছে ।পিঠা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।
এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেন, আমি আবেগ আপ্লুত। নিজের চোঁখকে ধরে রাখতে পারছি না। চোঁখে পানি এসে যাচ্ছে। মানুষ কাঁদে এক দুঃখে, আর এক সুখে। আজ আমার চোঁখে পানি এসেছে সুখে। আমি হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে আশির দশকে হাজিনগর-ঘুঘুডাঙা দুই কিলোমিটার সড়ককে তালগাছগুলি আমি রোপন করেছিলাম। আজকে সেই সব তালগাছ বড় হয়ে সড়কটিকে সৌন্দর্যময় করে তুলেছে। মানুষজন এই সড়ক দিয়ে যখন যায়, তালগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে একটু প্রশান্তি পায়। আমি নিজেও এলাকায় আসলে তালগাছগুলি দেখতে আসি। একটা অন্য রকম প্রশান্তি অনুভূত হয়।
খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সড়কটি পর্যটকদের কাছে পরিচিত করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাল পিঠা উৎসবের যে আয়োজন করেছে এটা একটি ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে মানুষ একটা নির্মল বিনোদন পাচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা অনেক ধরণের পিঠার সঙ্গে পরিচিত ও হচ্ছে এ প্রজন্ম। আমি হয়তো থাকবো না, কিন্তু আমার দাবী বিশেষ করে ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামবাসীর কাছে প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর যেন তাল পিঠা উৎসব এখানে হয়।
হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবারের উৎসবে যে পরিমাণ মানুষের সাড়া পেয়েছি তাতে আমি অভিভূত । অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হরেক রকমের পিঠার সমাহার নিয়ে এখানে স্টল দিয়েছে। আগামীতে প্রতি বছর এখানে পিঠা উৎসবের আয়োজনের ইচ্ছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *