নওগাঁয় গুজব ছড়িয়ে মহূর্তের মধ্যে চড়া মূল্যে লবন বিক্রির হিরিক ৩ দোকানীর ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

 Gator Website Builder

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহূর্তের মধ্যে চারিদিকে গুজব ছড়িয়ে চড়া মূল্যে লবন বিক্রির হিরিক। সুযোগ বুঝে অসাধু কতিপয় ব্যবসায়ীরা পর্কৃত মূল্যের থেকে ২ থেকে ৩ গুনবেশী মূল্যে প্রতি কেজি লবন বিক্রি শুরু করলে, ঘটনার খবর জানতে পেরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান ও মহাদেবপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল সঙ্গীয় ফোর্স সহ তাৎক্ষনিক উপজেলা সদর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার পরিদর্শনে নামেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলার নওহাটামোড় চৌমাশিয়া বাজারের মেসার্স-পাল ট্রেডার্স নামক একটি মুদি দোকানে চড়া মূল্যে লবন বিক্রি করতে দেখে তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মেসার্স-পাল ট্রেডাস এর মালিক আশুতোষ পালের নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া,সরস্বতীপুরহাট ও মহাদেবপুর উপজেলা সদরে চড়া মূল্যে লবন বিক্রি করার অপরাধে পৃথক আরো ২ জন লবন ব্যবসায়ীর ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, (১৯ নভেম্বর) মঙ্গলবার মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গুজব রটিয়ে চড়ামূল্যে লবন কেনাবেচা চলছে এবং গুজবে কান দিয়ে সাধারন লোকজন ও লবন কিনে মজুত করতে দোকানীগুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন।

এমন সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলার হাট-বাজার সরজমিনে পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই সঙ্গীয় ফোস সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার পরিদর্শন করার পাশাপাশি গুজবে পরে হাট-বাজারে লবন কিনতে আসা জন-সাধারনের মাঝে সচেতনতা মূলক বক্তব্য প্রদান করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোঃ মিজানুর রহমান ও মহাদেবপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আসলে বাজারে লবনের মূল্য বাড়েনি বা লবন সংকট সৃষ্টি হয়নি।

মূলত গুজব ছড়ানো হয়েছে, আর মোবাইল ফোনে গুজবটি মহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলেই আপনারা সাধারন লোকজন ও লবন কিনতে দোকানী গুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন। এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কতিপয় অসাধু কিছু ব্যবসায়ীরা ও আপনাদের ঠকিয়ে চড়া মূল্য আদায় করছে, এজন্য আপনারা যাদের বাড়িতে লবন আছে, অযথা লবন কিনে মজুদ করে রাখার দরকার নেই।

 

এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মেসার্স-পাল ট্রেডাস এর মালিক আশুতোষ পালের নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি আরো বলেন, নওহাটামোড় চৌমাশিয়া বাজার, সরস্বতীপুরহাট ও মহাদেবপুর উপজেলা সদরে ৩ টি দোকানীর ( ভোক্তা অধিকার আইনে) মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

উল্লেখ্য- (১৯ নভেম্বর) মঙ্গলবার নওগাঁ জেলার সর্বত্র গুজব ছড়িয়ে পরে যে, বাজারে লবন সংকট তাই যে কোন সময় পেঁয়াজের মতই লবন ও ২ থেকে ৩ টাকা প্রতি কেজি মূল্য হবে।

আর এ গুজবটি মহূর্তের মধ্যেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পরলে সাধারন লোকজনরা লবন কিনতে ভির জমান জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকান গুলোতে। ফলে সুযোগ বুঝে অসাধু কতিপয় দোকানীরা ও চড়া মূল্যে এমনকি জেলার কোথাও কোথাও ৬০/৭০ বা ১২০ টাকা দরে প্রতি কেজি লবন কেনা বেচার ঘটনা ও ঘটেছে বলেও জানাগেছে। তবে শেষ পর্যন্ত জেলা বা উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাটি জানতে পেরে এবং মাঠ পর্যায়ে হাট-বাজারে নেমে পদক্ষেপ নেয়ার কারনে পরিস্থিতি সন্ধার দিকে স্বাভাবিক অর্থাৎ গুজবের ঘটনাটি জনসাধারন বুঝতে পারেন।
Gator Website Builder

সময় নিউজ২৪২.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *