নওগাঁয় দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরান্ত ও সাদ্দাম ও সুফিয়া দম্পতির করুন কাহিনী

 

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর সাদ্দাম ও সুফিয়া দম্পতির এক করুন কাহিনী। এ দম্পতির একমাত্র শিশু সন্তান অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য সুইট হোসেন নামের এক দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পড়ে পড়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা গ্রহন করার পরই এ দম্পতি জায়গাঁ-জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে ইতিমধ্যেই নিস্ব হয়ে পড়েছেন । এছাড়া ৯ লাখ টাকা পাওনার দাবিতে আদালতে পৃথক দুটি মামলা ও করেছে সেই দাদন ব্যবসায়ী বলে ও অভিযোগ পাওয়াগেছে। এমনকি যে শিশু সন্তানকে চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়ে ছিলেন সেই শিশুটিকে ও মা সুফিয়ার কোল থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টাও দাদন ব্যবসায়ীরা। এঘটনাটি নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের (বলিহার কশবা বাগানবাড়ি) গ্রামের।


ঐ গ্রামের মৃত জাহিদুল সরদারের বিধবা স্ত্রী রুবিয়া বেওয়া (৫৫) অভিযোগে বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের বলিহার বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (চা-পুড়ির দোকান) করে আমার ছেলে সাদ্দাম হোসেন স্ত্রী ও শিশু সন্তান সহ আমাকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। এরিমধ্যে কয়েক বছর পূর্বে আমার অজান্তে সাদ্দাম হোসেন তার একমাত্র শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য সুইট হোসেন নামের এক দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পড়ে পড়ে প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার টাকা লাভ দেয়ার শর্তে প্রথমে ২০ হাজার টাকা নেয়। এবং প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার টাকা করে লাভ দিয়ে আসাকালে এক পর্যায়ে ফের আরো ৫ হাজার নেয় আমার ছেলে সাদ্দাম।

এরপর প্রায় ২ বছরের ও বেশী সময় ধরে আমার ছেলের কাছে থেকে প্রতি সপ্তাহ লাভের টাকা নিয়েছেন দাদন ব্যবসায়ী সুইট হোসেন এবং এভাবেই চলার এক পর্যায়ে আমার ছেলে দিনদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লোকসানের মুখে পড়ে সাপ্তাহিক লাভের টাকা না দিতে পাড়ায় একদিন সুইট হোসেন এক ছেলে সহ আরো ৩ জন ছেলে আমার বাড়িতে এসে সাদ্দামের খোঁজ করেন এবং নোংরা ভাষায় গালীগালাজ করায় আমি এসময় কি কারনে গালীগালাজ করছে জানতে চাইলে সুইট হোসেন টাকা নেয়ার ঘটনাটি বলেন, এসময় আমি তাদের অনুরোধ করায় তারা চলে যান।

এরপর আমি ছেলের কাছে থেকে বিস্তারিত শুনে ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানিয় ব্যাক্তি বর্গের সহযোগীতায় আমার অল্প জমি টুকুও মানুষকে দিয়ে নেয়া সব টাকা সুইট হোসেনকে দিয়ে আমি আমার ছেলের চেক ফেরত চাইলে পরে এনে দিব বলে সে টাকা নিয়ে চলে যান। এর বেশকিছু দিন পর ফের আরো টাকার দাবী করে আমার ছেলেকে মারপিট ও করেন এবং এঘটনায় ফের স্থানিয় লোকজন সহ বসে বলিহার বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ও শেষ পর্যন্ত ছেরেদিয়ে তাকে সেই টাকা ও সুইট এর হাতে তুলেদিয়ে চেক ফেরত চাইলে সে কৌশলে চেক ফেরত না দিয়েই চলে যান ফলে স্থানিয় মোরশেদ সহ কয়েকজন পরে তার সাথে যোগাযোগ করে চেই ফেরত চাইলেও আজ-কাল দিব বলেও ফেরত দেয়নি।

পরবর্তীতে সুইট হোসেন নিজে বাদী হয়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ও আজিজুর রহমান নামের অপর একজনকে বাদী সাঝিয়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, মোট ৯ লাখ টাকা দাবী করে নওগাঁ আদালতে আমার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন জানিয়ে বিধবা রুবিয়া বেওয়া আরো বলেন, আমাদের পরিবারকে নিস্ব করা সহ আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করার পর সুইট আমার ছেলেকে একের পর এক হুমকি দেয়ার পর আমার ছেলে সাদ্দাম ভয়ে বর্তমানে মহাদেবপুর বাস ষ্টান্ডের ফুটপাতে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করে কোন রকমে আমরা খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছে আমাদের। এতোকিছুর পরও যে শিশু সন্তানকে চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়ে ছিলেন আমার ছেলে সেই শিশুটিকেই ও মা সুফিয়ার কোল থেকে কেড়ে নিয়েছিলো দাদন ব্যবসায়ী চড়া সুদখোঁড় সুইট ও তার সঙ্গীরা বলেও অভিযোগ করেন বিধবা রুবিয়া বেওয়া।


এসময় পাশাপাশি বাড়ির দম্পতি স্বামী-স্ত্রী মামলার একটি ফটোকপি হাতে করে এনে অভিযোগ করে বলেন, ঐ সুইট হোসেন অনেক দাপটশালীল বাবা। সে আমার ছেলে আহসান হাবিবকে ও মাত্র কয়েক হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে শুনেছি। কিন্তু আমার ছেলের কাছে থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর আমার ছেলের বিরুদ্ধে সুইট হোসেন নিজেই বাদী হয়ে মহামান্য নওগাঁ আদালতে আরো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবী করে চেকের মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা দেয়ার পরও চড়া সুদকারবারী সুইট হোসেন ও তার সঙ্গীদের একের পর এক হুমকি ধামকিতে জীবনের ভয়ে আমাদের না জানিয়ে একটি শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখেই আমার ছেলে আহসান হাবিব ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেই এসময় প্রতিবেদকের সামনেই তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ গ্রামের আরো অনেকেই তার পাল্লায় পড়ে নিস্ব হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। সম্পতি গত ২৪ আগষ্ট মহাদেবপুর উপজেলা সদর বাস ষ্টান্ডে সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আড়াই ঘন্টাব্যাপি এক বিশাল মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় জানিয়ে বিধবা রুবিয়া বেওয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা ও ঐ মানব বন্ধন কর্মসূচিতে যোগদিয়ে ছিলাম এবং এরপরই আমি নিজেই পরিবার সহ ছেলেকে রক্ষার জন্য বিস্তারিত সহ লিখে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করা সহ সদয় অবগতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ সুপার, র‌্যাব, জেলা প্রেস ক্লাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানায় পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে রেজিঃ করে লিখিত অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছি বাবা।

অপরদিকে, নওহাটামোড় বাজারের এক সুনামধন্য ধান-চাতাল ও মার্কেট ব্যবসায়ী ও দাদন ব্যবসায়ীর পাল্লায় পড়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ফাঁকা চেক দাদন ব্যবসায়ীর (চড়া সুদখোঁড়কে) দিয়ে কিছু টাকা গ্রহন করার পরেই গ্রহন করা টাকার বিপরিদে কয়েক লাখ টাকা দেয়ার পর চেক ফেরত না দিয়ে উল্টো ঐ ব্যবসায়ীর কাছে থেকে নিয়ে রাখা চেকের হুমকি দেখিয়ে কখনো ৭ লাখ আবার কখনো অর্ধকৌটি এমনকি সুদের উপর সুদ বাড়তি হয়ে নাকি ৭০/৭৮ লাখ টাকা হয়েছে বলেও লোকজনের মাঝে প্রচার করা সহ টাকা আদায়ের জন্য ঐ ব্যবসায়ীর ধান-চাতাল বিক্রির জন্য ঐ ব্যবসায়ীকে চাপ প্রয়োগ করা সহ ক্রেতা খুজছে চড়া সুদখোঁড়রা বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ও জেলার সাপাহার উপজেলার শিরন্টি গ্রামের সালেক নামের একজন ক্ষুদ্র ঔষুধ ব্যবসায়ী চড়া সুদ কারবারিদের পাল্লায় পড়ে জমি-জমা ও বশতবাড়ি সব হাড়িয়ে সর্বশান্ত হয়ে প্রায় ৪ বছর ধরে এলাকা ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র গিয়ে জীবন-যাপন করছেন বলেও জানাগেছে।
উপরোক্ত বিষয় গুলোর প্রতি জরুরী আশুদৃষ্টি দিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সচতেন নাগরিক সমাজ।

উল্লেখ্য- যে প্রশাসনিকভাবে অসাধু চড়া সুদখোঁড়দের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করার কারনেই নওগাঁয় চড়া দাদন বা সুদ কারবাড়িদের দৌরান্ত দিনদিন বেড়েই চলেছিলো। ফলে এসব সুদ কারবারিদের পাল্লায় পড়ে ইতি মধ্যেই অনেক পরিবার জাঁয়গাঁ-জমি বিক্রি করে নিস্ব হয়ে পড়েন এমনকি অনেক লোকজন নিজ বাড়ি ঘড় ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো সহ বেশ কয়েকটি পরিবার ইতি মধ্যেই ভারতে ও পাড়ি জমিয়েছে।

আর এমন ঘটনায় এ প্রতিবেদক ইতি পূর্বে ও বেশ কয়েক বার চড়া সুদখোঁড়দের বিরুদ্ধে নিউজ ও লেখা প্রকাশ করলে ও সম্পতি প্রতিবেদকের একটি লেখা মহাদেবপুর উপজেলার সচেতন মহলের নজরে পড়লে সেই লেখাটিই মহাদেবপুর উপজেলার সচেতন মহল সোস্যাল মিডিয়ায় সেয়ার ও কমেন্ট লিখার মাধ্যমে ব্যাপকহারে প্রচার চালিয়ে গত ২৪ আগষ্ট মহাদেবপুর উপজেলা সদর বাস ষ্টান্ডে আড়াই ঘন্টাব্যাপি এক বিশাল মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেন অসাধু দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর তরুন প্রজন্মের উদ্যোগে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নওগাঁ জেলা শহরের মুক্তির মোড়ে ও এক ঘন্টাব্যাপি মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তরুন প্রজন্ম।

এসব কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ভোদন উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর চেক দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে উদ্ধার করে ভুক্তভোগীর হাতে ফেরত দেন।
অপরদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ প্রশাসন ও ইতি মধ্যেই এলাকা ভিত্তিক দাদন ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করেছে বলে ও প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে

সময় নিউজ্২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *