নওগাঁয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অধিক লাভজনক মাল্টা চাষ..

শহিদুল ইসলাম নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

মাল্টা বিদেশী ফল হলেও সেই মাল্টা ই এখন চাষ হচ্ছে নওগাঁয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার নামে পরিচিত নওগাঁ জেলা। ধান উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ এ জেলায় বর্তমানে ধানের পাশাপাশি ইতি মধ্যেই অনেকেই মাল্টা চাষ শুরু করেছেন এমনকি অধিক লাভজনক হওয়ায় দিনদিন নওগাঁয় মাল্টা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে । নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা বর্তমানে ধানের পাশাপাশি এখন মাল্টা চাষের উপজেলা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে।

ধানের দাম না থাকায় রানীনগর উপজেলার কৃষকরা ধানে লাগাতার লোকসান দিয়ে আসছেন। যার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ ধানের পাশাপাশি অধিক লাভজনক মাল্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই মাল্টা চাষের পরিসর। আবার মাল্টা বাগান দেখে উপজেলার অনেক মানুষই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন নতুন মাল্টার বাগান তৈরি করার জন্য।

বর্তমানে নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় ৬ হেক্টর জমিতে উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ভার্মিক পদ্ধতিতে বারি-১ জাতের মাল্টার বাগান তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই সব বাগানে মাল্টার গাছে থোকায় থোকায় মাল্টা এসেছে। এই বাগানগুলো দেখার জন্য প্রতিদিনই অন্যান্য এলাকার মানুষরা আসছেন। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জাতের মাল্টা গাছের চারা রোপণ করতে পারলে এবং নিবিড় পরিচর্যায় মাল্টার ফলন ভালো হয়। এই অঞ্চলে উৎপাদিত মাল্টার স্বাদ ও গুনগত মানও খুবই ভালো।

উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের মাল্টা চাষী সরফরাজ খাঁন বলেন তিনি ১৫ শতাংশ পতিত জমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দু’বছর আগে তাদের সরবরাহকৃত মাল্টা চারা নিয়ে তৈরি করেন মাল্টা বাগান। বর্তমানে তার বাগানের প্রতিটি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে। গাছ লাগানোর ১৮মাস পরই গাছে মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। স্বাদে ও গুনে বিদেশী মাল্টার মতই। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি মাল্টা ৭০-৮০টাকা দরে কেজিতে বিক্রি করছেন।

চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে প্রায় ১০কেজি করে মাল্টা ফল এসেছে। আগামী বছরে প্রতিটি গাছে ৭০-৮০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন। তিনি আগামীতে এই বাগানের পরিসর আরো বৃদ্ধি করবেন বলে ও জানান। প্রতিদিনই তার মাল্টার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। তারাও এই রকম বাগান তৈরি করার আশা প্রকাশ করায় তিনি ও তাদের বাগান তৈরি করার সকল পরামর্শ দিয়ে আসছেন বলেই জানিয়েছেন। প্রথম বছরেই তিনি মাল্টা চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন বলে জানান।

সরফরাজ খাঁনের মাল্টা বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম, জব্বার মিয়াসহ অনেকেই বলেন মাল্টা চাষে সরফরাজ খাঁন একজন মডেল। তার বাগানে গাছে মাল্টা ফল দেখে মন ভরে গেছে। তিনি দেখে দিলেন বিদেশী ফলও আমাদের এলাকায় চাষ করা সম্ভব। এটি নাকি অনেক লাভজনক একটি ফসল। তাই আমরাও আগামীতে মাল্টার বাগান তৈরি করবো।

রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শহীদুল ইসলাম বলেন, এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই পজেটিভ। মাল্টা পুষ্টিকর ও রসালো একটি ফল। বাজারে মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভাল রয়েছে। তাই মাল্টা চাষীরা দাম ভালো পেয়ে অনেক খুশি। ধানে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার মানুষরা দিন দিন অধিক লাভজনক ফসল মাল্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। যারা এই ধরনের বাগান তৈরি করবেন তাদের জন্য আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য সব সময় আমার অফিসের দুয়ার খোলা আছে।

এছাড়া জেলার মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগীতায় মাল্টা চাষ শুরু করেছেন কয়েকজন কৃষক। মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের বাগধানা গ্রামের হেলাল হোসেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় মাল্টা গাছের চারা সংগ্রহ করে রোপন করেছিলেন। ইতি মধ্যেই হেলাল হোসেনের রোপনকৃত সেই গাছ গুলোতে ও থোকায় থোকায় রসালো মাল্টা ধরতে শুরু করেছে বলেই জানিয়েছেন মাল্টা চাষী হেলাল হোসেন।

আগামীতে আরো মাল্টা গাছের চারা রোপনের আশা ব্যাক্ত করে হেলাল হোসেন বলেন, প্রথমে আমি পরিক্ষা মূলক বেশকিছু মাল্টা গাছ রোপন করেছিলাম কিন্তু যা দেখলাম যেভাবে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় মাল্টা ধরা শুরু করেছে এভাবে যদি মাল্টা চাষ করা যায় ধানের থেকে অনেক লাভ জনক হবে মাল্টা চাষ এজন্যই আগামীতে আরো বেশি গাছ রোপনের আশা ব্যাক্ত করেন তিনি।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *