নওগাঁয় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার শিশু সন্তানদের প্রতি একেমন নিষ্ঠুরতা…..!

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠনঃ
নওগাঁয় কাতার প্রবাসী’র স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের প্রতি একেমন নিষ্ঠুরতা….! একের পর এক মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঐ প্রবাসীর স্ত্রী মোসাঃ হালিমা বেগম (৩৫), তার দু শিশু সন্তান, ছেলে বলিহার দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ ম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোঃ হাসিব (১৩) ও শিশু শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে রাফিয়া আক্তার (৭) কে নিয়ে অজানা আতংকের মধ্যেদিয়ে নির্ঘুম দিবারাত্রী পার করছেন।
প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের উপর অমানবিক ও মানসিক নির্যাতনের জঘন্যতম এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে।
শিকারপুর গ্রামে বসবাসকারী কাতার প্রবাসী এরশাদ আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, সংসারে অভাব ও সন্তানদের ভবিষৎ চিন্তাকরে অর্থ উপার্জনের জন্য ২০১৫ ইং সালের আগষ্ট মাসে আমার স্বামী বিদেশ ( কাতারে) পাড়ি জমান৷ স্বামী বিদেশে যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই শিকারপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের কতিপয় বখাটে শ্রেণীর লোকজন আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার শুরু করেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে নষ্টা বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কয়েক বছর ঈদুল আযাহাতে পশু (গরু) কোরবানীতে ও অংশনিতে দেয়নি যার কারনে আমি, ঈদের দিনে আমার দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘড়ের ভেতর কান্নাকাটি করেই পার করেছি, তবে গত ঈদে একজন আমাকে কোরবানীর পশু (গরু) তে একটি ভাগ নিয়েছিলেন, বলেই গত ঈদে আমার সন্তান দুটি কিছুটা হলেও ঈদের দিন ভালো কাটিয়েছেন।
হালিমা বেগম আরো জানান, প্রথমদিকে যা অত্যচার হয়েছে এখন তার চেয়েও ভয়াভয় অত্যাচার শুরু করেছে দূর্বৃত্তরা। গত বছর থেকে আমি ও আমার দুটি সন্তান এক প্রকার নির্ঘুম দিবারাত্রী পার করছি দূর্বৃত্তদের অত্যাচারে। মূলত কয়েকজন যুবক আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে বার্থ হওয়ার পর থেকে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেন এবং প্রথম দিকে একের পর এক আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করেন এমনকি নোংরা লেখা কাগজের ফটোকপি করে আমার বাড়ির সামনে ও ভেতরে সহ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখার মাধ্যমে আমার সম্মানহানী করেন।  বাড়ির বাহির থেকে রাতের আধারে মানুষের মলও আমার বাড়ির ভেতর ফেলে দেয় । এছাড়াও ইতিমধ্যেই ঐকুচক্রি মহল আমার ঘড়ে নাকি পর-পুরুষ ঢুকেছে এমন প্রচারনা গ্রামে চালিয়ে পরপর ১৭ বার আমার বাড়িতে তালা লাগিয়ে আমাকে ও আমার সন্তানদের অবরোদ্ধ করে রাখলে, খবর পেয়ে সদ্য বদলী হয়ে যাওয়া নওহাটামোড় পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ এস আই ফরিদ সঙ্গীয় ফোর্সনিয়ে এসে আমার ঘড়ের তালা খুলে দিলেও তিনি সে সময় দূর্বত্তদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকেই সিসি ক্যামেরা লাগানোর পরামর্শ দেন। প্রশাসনের নির্দেশনায় ও আমার ও দু’ সন্তানের নিরাপত্তার জন্য অভাবের মধ্যেই আমি বাড়িটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসি।
সিসি ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে গ্রামের ও পাশ্ববর্তী ভীমপুর গ্রামের কয়েকজন বখাটে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং আমার সামনে অশ্লিল মন্তব্য করা সহ বলেন, সিসিতে কাজ হবে না বলেও হুমকি দেন। ফলে আমি সন্তানদের নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যেই নির্ঘুম দিবারাত্রী পার করাকালে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে আমি মনিটরে লক্ষ্যকরি যে, কয়েকজন বখাটে (মুখ মন্ডল ও দেহ) বস্তাদিয়ে ঢেকে শুধু চোঁখের জায়গাঁয় বস্তা কাটা অবস্থায় হাতে লাঠি সহ আমার বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছেন। এদৃশ্য দেখার সাথে সাথে আমার দু শিশু সহ আমি নিজেও কান্নায় ভেঙ্গেপড়ি এবং ঘটনাটি পুলিশকে জানালে, নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়িতে  নতুন যোগদানকৃত এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ রাতেই ঘটনাস্থলে এসে বিস্তারিত শুনার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখাযায় বস্তাদিয়ে শরীর ঢেকে আসা  দূর্বৃত্তরা তাদের হাতে থাকা বাশদিয়ে সিসি ক্যামেরাও ভাঙ্গার চেষ্টা করেন কিন্তু আমাদের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পৌছার পূর্বেই পালিয়ে যান।
এরপরই গত ২৩ শে সেপ্টেস্বর মঙ্গলবার দিবাগত গভীররাতে পূর্বের একই কায়দায় হাতে লাঠি ও বড় হাতুড়ী নিয়ে আসলে আবারও আমি দেখতে পেয়ে ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠি এসময় আমার দু শিশুও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করলে সে সময় আমি কান্নারত অবস্থায় ফোন করে পুলিশ ফাড়িতে খবর দেই। কিন্তু পুলিশ পৌছার পূর্বেই দূর্বৃত্তরা হাতুড়ীদিয়ে বাড়ির সামনের দুটি সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে চলেযায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে আসেন এবং তিনি মনিটরে ফুটেজও দাখেন জানিয়ে হালিমা বেগম বলেন, আমি ও আমার সন্তানরা এখন হুমকির মুখে রেয়েছি, ঐ দূর্বত্তরা যে কোন সময় আমাদের জীবননাশ করতে পারেন বলেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সিসি ক্যামেরা ভাঙ্গা ব্যাপারে একটি অভিযোগও করেছি জানিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বলেন, যে দূর্বৃত্তরা আমাকে কু প্রস্তাব দিয়ে বার্থ হয়ে একের পর এক মানসিক নির্যাতন করেই এসেছে তাদের একজনকে সিসি ক্যামেরা ভাঙ্গার সময় দেখা গেছে যা মনিটরে এখনো রয়েছে জানিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী হালিমা বেগম নিজের ও তার দু শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে দূর্বৃত্তদের দ্রুত আটক পূর্বক ন্যায় বিচার দাবিতে মহাদেবপুর থানার ওসি মহোদয় সহ জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় সাহেব এর আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, আমি এ ফাঁড়িতে নতুন এসেছি এজন্য পূর্বের বিষয়ে বলতে পারছিনা, তবে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ও সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রথমবারে কাউকে সনাক্ত করতে পারেন নি, তবে পরে সিসি ক্যামেরা ভাঙ্গার পূর্বেই ক্যামেরা বন্দী হওয়া একজনকে সনাক্ত করেছেন ঐ প্রবাসীর স্ত্রী।এব্যাপারে আইনানুগ পক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও  তিনি।
ঘটনার ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান, প্রবাসীর স্ত্রী সহ দু’জন শিশু সন্তানের উপর মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি জেনেছি, তবে বর্তমানে আমি ছুটিতে রয়েছি, থানাতে আসার পর প্রথমেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত পূর্বক জড়ীত দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়ীত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *