নওগাঁয় বন্যায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :-

নওগাঁয় আত্রাই নদী ও ছোট যমুনা দিয়ে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল এব আকাশের বৃষ্টিতে তৃতীয় দফা বন্যায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশংখায় ধান চাষীরা হতাশাই রয়েছে। দফায় দফায় বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়া এবং নতুন করে লাগানো নিয়ে কৃষকরা চোখে অন্ধকার দেখছে। এতে করে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূতে জানা যায়, জেলায় রোপা আমনের আবাদ ৩ হাজার ২১৪ হেক্টর জমি নিম্নজিত হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলা ১৬৮ হেক্টর, রানীনগরে ৬৯০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১ হাজার ৫৫ হেক্টর, বদলগাছীতে ১০০ হেক্টর, মান্দায় ৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ১০০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১৩৯ হেক্টর , সাপাহারে ৭০ হেক্টর , পোরশায় ৫২ হেক্টর, মান্দা ৭৭৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ১৫ হেক্টর।

কয়েকদিনের ভারী বর্ষন এবং ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নওগাঁ’র প্রধান দু’টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার মান্দা এবং আত্রাই উপজেলায় আত্রাই নদীতে পূর্বের ভাঙ্গনগুলো দিয়ে পুনরায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে রোপা আমনের আবাদ তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এদিকে মান্দা উপজেলায় কসব ইউনিয়নে বনপুরা নামকস্থানে আত্রাই নদীর ডানতীরে মুল বাঁধ নুতন করে ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে মান্দা উপজেলার কসব, নুরুল্যাবাদ ও বিষ্ণপুর ইউনিয়নসহ আত্রাই উপজেলা এবং রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জেলার আত্রাই ও মান্দা উপজেলার পাঁচটি স্থানে আত্রাই নদীর বেড়ীবাধ ভেঙে ওই দুই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে করে শত শত পুকুরের মাছ ভেসে যায়। দ্বিতীয় দফায় আগষ্টের শেষের দিকে আবারো নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় নদীর পানি কমে গেলে এবং লোকালয় থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তৃতীয় দফায় আবারো বন্যায় রোপা আমনের ফসল নিমজ্জিত হয়। মান্দার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের কৃষক মুনছুর আলী বলেন, গতবার জোতবাজার ও জোকাহাটের চারটি জায়গায় ভেঙে এলাকায় বন্যায় তার আড়াই বিঘা ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এক হাজার টাকা পুন (৮০ আটি) ধানের চারা কিনে জমি রোপন করা হয়।

তার কিছুদিন পর আবার ভাঙা জায়গাগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করে ফসল ডুবে যায়। এতে তার প্রায় ৮-১০ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও আর রোপা আমনের ধান লাগাবেন না। তবে পানি আরো বাড়ছে। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ বলেন, শনিবারের চেয়ে রোববার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় দফায় পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা রোপা আমন যে আবাদ করেছিলেন তার কিছু অংশ নিম্নজিত হয়েছে। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।নওগাঁয় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ উজ্জামান খান বলেন, আত্রাই নদীর পানি ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর ধামইরহাটে শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার, মান্দার জোতবাজার পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলষ্টেশন পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে নওগাঁ ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সিন্টমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *