নওগাঁয় মাত্র ৪ দিনে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য সহ আটক-১১ জন

শহিদুল ইসলাম(জি এম মিঠন), নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

যুব-সমাজ ও তরুন সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল, একই সাথে চিন্তিত সচেতন সমাজ। নওগাঁর ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা গুলো দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অহরহ প্রবেশ করছে মাদক দ্রব্য। নওগাঁয় মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে পৃথক পৃথক অভিযানে ৪৫৮ বোতল ফেন্সিডিল, এক কেজি গাঁজা ও ১১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ১৫ লিটার চোলাই (বাংলা) মদ ও ১৫ বোতল কারেন্ট উদ্ধার সহ মাদক কেনাবেচার সাথে জরীত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, নওহাটামোড় ফাঁড়ি ও থানা পুলিশ সহ বিজিবি।

তবে এই ৩ দিনে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে শীর্ষে রয়েছেন নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও নওহাটামোড় ফাঁড়ি পুলিশ।

সর্বশেষ নওগাঁর নওহাটামোড় ফাঁড়ি পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার রাত সারে ১০ টারদিকে ১৫ লিটার চোলাই (বাংলা) মদ ও ১৫ বোতল (মাদক হিসাবে ব্যবহারীত) কারেন্ট সহ মহাদেবপুর উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম এর ছেলে হারুন অর রশিদ ওরফে তারা (৫০) নামের এক কুখ্যাত মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।

নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই ফরিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত হারুন অর রশিদ ওরফে তারা একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং কয়েকটি মাদক মামলার আসামী। রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাট-চকগৌরী বাজারে তার দিনার মেডিকেল ষ্টোর নামক ঔষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৫ লিটার চোলাই (বাংলা) মদ ও ১৫ বোতল (মাদক হিসাবে ব্যবহারীত) কারেন্ট সহ তাকে আটক করা হয়েছে এবং রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই দিন রবিবার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পরুস্কার প্রাপ্ত অফিসার এস আই মিজানুর রহমান মিজান এর নের্তৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জেলার রানীনগর উপজেলার পাঁচুপুর গ্রাম এলাকায় পৌছে বেলা ১১ টারদিকে অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজা সহ হক সাহেব (৫২) নামের এক ব্যাক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন। হক সাহেব হলেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার রামনগড় গ্রামের মৃত বেলাল আলীর ছেলে।

এর মাত্র কয়েক ঘন্টা পূর্বেই শনিবার রাত ৮ টারদিকে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার কিসমত কশবা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ঐ গ্রামের খোরশেদ আলমের স্ত্রী মোছাঃ সাবিনা বেগম (৩৫) ও মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতীপুর-ভীমপুর গ্রামের জাহের আলীর তরুন ছেলে আবু সাঈদ (১৯) কে হাতেনাতে আটক করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই ফরিদ উদ্দিন তালুকদার সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ পিড়া গ্রামের কছির এর ছেলে দুলাল হোসেনকে হাতেনাতে আটক করেছেন।

বৃহস্পতিবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফেরদৌস, সোহেল, আহসান হাবিব, মেহেদীসহ একটি চৌকষ দল নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন । আটককৃত ব্যক্তিরা হলো, পত্নীতলা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের মোঃ আলম হোসেনের ছেলে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মাসুদ রানা (২২) এবং একই এলাকার মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ রাজিব হোসেন (২৫)।

একই দিন নওগাঁর পোরশায় থানার এসআই মাসুদ, এসআই মোস্তফা ও এএসআই শাহরিয়ার যৌথ অভিযান চালিয়ে গানইর বীল থেকে ১২০ বোতল ফেনসিডিল সহ নুরুল ইসলাম ও হাসান নামের ২ জনকে আটক করেছেন। এসময় পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করে কয়কেজন পালিয়ে গেছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ-১৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন পত্নীতলা (বিজিবি)র অধীনস্থ শিমুলতলী বিওপি’র টহল কমান্ডার হাবিলদার এনায়েত হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ২৬০/১-আর হতে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মনোহরপুর নামক এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৪৮ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন।

তারমাত্র কয়েক ঘন্টা পূর্বে নওগাঁর নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই ফরিদ সঙ্গীয় ফোর্স সহ একটি যাত্রীবাহী বাসে সাহসীকতার সাথে অভিযান চালিয়ে ৯০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার পূর্বক দুজন যুবককে আটক করেন।

একের পর এক মাদকের চালান ভারত থেকে পাচার হয়ে (চোরাইভাবে) বাংলাদেশের অভ্যান্তরে আসার পরই বিশেষ করে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ সহ বিজিবি আটক করার ঘটনায় নিজেদের সন্তান বিশেষ করে যুব-সমাজ ও তরুন সমাজের ভবিষৎ নিয়ে দিশেহারা বা আতংক অবস্থার মধ্যে আছেন অভিভাবকরা একই সাথে সচেতন মহল ও উদ্বিগ্ন।

সীমান্তে এতো কড়াকরিভাবে নিরাপত্তা বাহিনী (বিজিবি) থাকার পর ও বিজিবি যোওয়ান দের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু চোরাকারবারিরা একের পর এক মাদকের চালান দেশের ভেতর বিশেষ করে অনেক অভ্যান্তরে আসার পরই নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ সহ বিজিবি কর্তৃক আটক করার ঘটনাটি ই অভিভাবকদের আতংকের মধ্যে ফেলেছে।

বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক এব্যাপারে বলেন, আমাদের দেশে মাদকের ব্যবসা বন্ধ করতে প্রথমেই দেশের প্রতিটি সীমান্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখতে হবে এবং সীমান্ত বাহিনী বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কে টহল দল গুলোকে আরো সতর্ক হয়ে অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।

সীমান্তে কঠোর হতে না পারলেও ভবিষৎতে আমাদের যুব-সমাজ বা তরুন সমাজ মাদকের ছোবলে পরে দিনদিন ধ্বংস হয়ে যাবে জানিয়ে তারা মাদক নিয়ন্ত্রনে সারাদেশ ব্যাপি সারাশী অভিযানের পাশাপাশি দেশের সীমান্ত গুলোতে কঠোরভাবে প্রশাসনের অবস্থান বা মাদক বিরোধী অভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *