নওগাঁয় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা

মো.আককাস আলী (নওগাঁ) মহাদেবপুরঃ

 

গ্রামাঞ্চলে একসময় হা-ডু-ডু, কাবাডি, লাঠিখেলা, দাড়িয়াবান্দা, দড়িঝাঁপ, গোল্লাছুট, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, এক্কা-দোক্কা, ডাংগুটি, চোর-পুলিশ, বৌচি, হাঁড়িভাঙ্গা, কিত-কিত, গাদন, লুকোচুরি, মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াইসহ প্রায় শতাধিক খেলাধুলার প্রচলন ছিল। অথচ দিনকে দিন হারিয়ে যেতে বসেছে নওগাঁয় এ সমস্ত গ্রামীণ খেলাধুলা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব খেলাধুলার প্রচলন না থাকায় গ্রামীণ জনপদ তাদের নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, বর্তমানে আর এসব খেলাধুলা চোখেই পড়ে না। শুধু তাই নয় গ্রাম-বাংলার অনেক খেলাধুলার নাম এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও বলতে গেলে জানে না। গ্রামাঞ্চলের এসব খেলার বদলে এখন স্থান দখল করে নিয়েছে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলা। গ্রামাঞ্চল এবং শহরগুলোতে আগে জমজমাটভাবে হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করা হতো। বিশেষ করে হা-ডু-ডু ও লাঠিখেলার জন্য এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই বিভিন্ন হাটবাজারে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হতো। খেলা দেখার জন্য বহু দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসতো।

 

এক জেলার খেলোয়াড় অর্থের বিনিময়ে অন্য জেলায় খেলতে যেতো। একজন ভালো হা-ডু-ডু খেলোয়াড়ের কদর ছিল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে। লাঠিখেলা এবং হা-ডু-ডুর মতো দাড়িয়াবান্দা ও গোল্লাছুট খেলাও এখন বিস্মৃতি হয়ে গেছে। গোটা নওগাঁ জেলা ঘুরলেও এসব খেলা কোথাও চোখে পড়বে না। পাশাপাশি শহরের পাড়া-মহল্লার শিশুরা বাড়ির আঙিনায় মার্বেল খেলা, লাটিম খেলা, কেরমবোর্ড খেলা, লুডু খেলা, এক্কা-দোক্কা খেলায় মাতিয়ে রাখতো সকলকে।

 

মহল্লার ফাঁকা স্থানগুলোতে কানামাছি, এক্কা-দোক্কাসহ আরো বেশ কিছু খেলা চোখে পড়তো। বর্তমানে শহরের পাড়া-মহল্লায় ফাঁকা জায়গা পাওয়াই দুষ্কর। এদিকে হারিয়ে যাওয়া ওইসব খেলাধুলা ধরে রাখার জন্য সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো উদ্যোগই নেয়া হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জানান, এসব খেলার সঙ্গে নাড়ির সম্পর্ক রয়েছে। এসব খেলাধুলা বাঙালি জাতির ঐতিহ্য। অথচ গ্রামীণ খেলাধুলা ধরে রাখার জন্য সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

 

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *