নওগাঁয় ১০টাকা কেজি চাল বিক্রয় শুরু হওয়ায় স্বস্তিতে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষরা

 

শহিদুল ইসলাম নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্রদের মাঝে সোমবার থেকে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু করা হয়েছে। অতি দরিদ্র পরিবারের কার্ডধারী ব্যক্তিদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে ৩০কেজি করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে এ কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্র পরিবারের কার্ডধারী ব্যক্তিরা ১০টাকা করে ৩০কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। প্রতিজন ডিলার ১মেট্টিকটন চাল বিক্রি করতে পারবেন। শুক্রবার ছুটির দিন ব্যতিত সপ্তাহের প্রতিদিনই এ কর্মসূচী চলবে। এদিকে অতিদরিদ্র মানুষদের ডিলারের দোকানগুলোতে চাল কিনতে উপড়ে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ২০৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ১লাখ ১৮ হাজার ৯২৮ জন কার্ডধারী অতিদরিদ্রদের মাঝে এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। বছরের মার্চ-এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর এই দুই সময়ে এই চাল বিক্রি করা হয়। কারণ এই দুই সময়ে দুটি বড় ধানের চাষাবাদের পূর্ব মুহুর্ত। এই সব চাল বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে এই চাল কেনার জন্য।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কার্ডধারী অতিদরিদ্র মানুষরা বলেন বছরের ইরি-বোরো ও রোপা-আমন ধান চাষের সময় বাজারে চালের দাম অনেক বেশি থাকে। তাই আমাদের মতো দিনমজুর ও খেটে খাওয়া গরীব মানুষদের পক্ষে বেশি দামে বাজার থেকে চাল কিনে খাওয়া খুবই কষ্ট্যসাধ্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু শেখ হাসিনার দেওয়া ১০টাকা কেজি দামে চাল পেয়ে আমরা খুবই খুশি ও আনন্দিত কারণ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে পারছি। তাছাড়া দিনে যা আয় হতো তার সব কিছু দিয়ে চাল কিনতে হতো অন্যান্য বাজার করাই যেতো না। এই চাল বিক্রি করায় আমরা খুবই উপকৃত হচ্ছি।

রাণীনগর উপজেলার ভাটকৈ বাজারের ডিলার মন্টু সেপাই বলেন সরকারের এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অতিদরিদ্র মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ থাকায় দফায় দফায় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছিলেন গরীব খেটে খাওয়া মানুষরা। এতে সাধারনদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠে। এই চাল বিক্রি শুরু করায় বাজারে চালের দাম কমতে থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষরা স্বস্তি পেতে শুরু করেছে।

সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ডিলার আবু হাসান বলেন, এই ভাবে বছরের অর্ধেক সময় যদি সরকার কম দামে চাল বিক্রয়ের কার্যক্রম হাতে নিতো তাহলে খেটে খাওয়া গরীব মানুষদের জন্য খুবই ভালো হতো। আমরা নিয়ম অনুসারে সুশৃঙ্খলভাবে শান্তি পূর্ন পরিবেশে অতিদরিদ্রদের মাঝে এই চাল বিক্রয় করছি। এই কর্মসূচির সময় ও বরাদ্দ আরও বাড়ালে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার খেটে-খাওয়া গরীব অসহায় মানুষরা আরও উপকৃত হতো।

আমরা ডিলারের মাধ্যমে সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এই চাল বিক্রয় করার কারণে চালের বাজার কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং হলে আগামীতে আরো কমার সম্ভবনা রয়েছে। এই কর্মসূচিটি প্রধান দুই ধানের মৌসুম শুরুর দিকে চালু করা হয়।

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী বলেন, সরকারের বিভিন্ন ভিশন বাস্বায়ন করাই আমাদের মূল কাজ। খোলা বাজারে ১০টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি প্রধান মন্ত্রীর একটি বড় পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই আমরা সকল নিয়ম-কানুন মেনে এই চাল বিক্রি করার সকল প্রস্তুতি শেষ করে চাল বিক্রয় শুরু করা হয়েছে।

এই চাল বিক্রিতে কোন প্রকারের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এই চাল বিক্রয় সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আমি সর্বক্ষণিক জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে ডিলারদের দোকান পরিদর্শন করছি এছাড়াও আমার অন্যান্য কর্মকর্তারা তো সব সময় মাঠে রয়েছেন। আশা রাখি শেষ পর্যন্ত ভালো ভাবেই এই চাল বিক্রয় সম্পন্ন হবে।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *