নানা অভিযোগে বিদ্ধ ইবির হল কর্মকর্তা সুজল

ইবি প্রতিনিধি:
নানা অভিযোগে বিদ্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শেখ রাসেল হলের শাখা কর্মকর্তা সুজল কুমার অধিকারী। শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম রিপন রায়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শেখ রাসেল হলের আবসিক শিক্ষার্থী।
তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ পত্র সূত্রে, রিপন রায় শেখ রাসেল হলের ১০২ নং কক্ষে (গণরুম) দীর্ঘদিন ধরে থাকেন। হল প্রশাসন গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একক সিট বরাদ্দ না দেওয়া পর্যন্ত গণরুমে শিক্ষার্থী তোলা হবেনা এবং নতুন কোন গণরুম চালু হবে না বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে হলের শাখা কর্মকর্তা সুজল প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ওই কক্ষে তুলে দিতে নিয়ে আসেন। এতে কক্ষে অবস্থানকারীরা অসম্মতি জানান।
চলে যাওয়ার সময় সজল তাদের কক্ষে একটি হিটার দেখতে পেলে হুমকির সুরে বলেন, ‘তোমাদের রুমে হিটার দেখে গেলাম।’ ভূক্তভোগী ও তার বন্ধুরা ব্রত পালন করতে মাসে দুয়েকদিন হিটারে নিরামিষ রান্না করেন বলে জানান। এরপর তিনি তাদের সাথে চড়াও হয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘এই ছেলে তোমাকে থাপরাইয়া সোজা করে দেব। তুমি জানো আমি হল প্রশাসন কী করতে পারি। তোমরা আসো আর বলো আমি গরীব অনেক দূরে বাড়ি, আমাকে একটা সিট দেন।’
এর আগেও একাধিকবার ভূক্তভোগী সহ তার সহপাঠীদের সাথে বিভিন্ন সময়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন। একইসাথে ওই হলের সিনিয়র-জুনিয়রদের সামনে মারার হুমকি এবং তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে সুজলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি ধামকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবরের শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা সজল কুমার অধীকারী বলেন, প্রথম বর্ষের এক ছেলেকে তাদের রুমে তুলে দিতে গিয়েছিলাম। এটা নিয়ে কোন ঝামেলা হয়নি। আমি শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো খারাপ আচরণ করিনি উল্টো ওরাই সিনক্রিয়েট করেছে। ওদের রুমে হিটার দেখে জিজ্ঞেস করছিলাম কি ব্যাপার হিটার চালাচ্ছ কেন। রিপন আমার সামনে এসে বলুক, আমি খারাপ আচরণ করে থাকলে তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. রবিউল ইসলাম বলেন, ওই ছেলে আমাকে দুইটার পর ফোনে বিষয়টি জানিয়েছিল। আমি ক্যাম্পাস থেকে চলে আসার কারণে অভিযোগপত্র সিলগালা করে অফিসে জমা দিতে বলেছি। সবকিছুর একটা অফিসিয়িাল সিস্টেম আছে। আমি জানি তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। একটা হল চালাতেও অনেক পেরেসানি নিতে হয়।
এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি ভূক্তভোগীর মাধ্যমে শুনেছি। যেহেতু এটা হলের ব্যাপার তাই শনিবার প্রভোস্টের সাথে বসবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *