নাম শহীদ জিয়া অডিটরিয়াম, তাই সংস্কার হয়নি এক যুগে

DreamHost

আবু সুফিয়ান রাসেল।।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ অডিটরিয়াম। ২৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রীরদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, বিভাগ ভিত্তিক অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস সমূহ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সহ সকল অনুষ্ঠানের একমাত্র মিলনায়তন এটি। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দৃশ্যমান কোন সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। ফলে ঝড়াজীর্ণ মিলনায়তলে জোড়াতালিতে বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান করছে সংগঠন ও বিভাগগুলো।

কলেজ সূত্র জানায়, উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি ছাড়াও ২২টি বিষয়ে স্নাতক ও ২০টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয় এই কলেজে। সকল বিভাগের বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান এ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠান করা হয়। রয়েছে এক ডজনের ও বেশী সামাজিক সংগঠন। প্রায় বিভাগে রয়েছে বিভাগ ভিত্তিক সমিতি। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষক পরিষদ, কর্মচারি কল্যাণ পরিষদ। অডিটরিয়ামের বেহাল দশার ফলে কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে পরিবেশ স্যাঁতস্যাতে। দেয়ালের আস্তর খসে পড়ছে। অডিটরিয়ামের তিন পাশে মশার আস্তানা। মুচে গেছে অডিটরিয়ামের নাম। আর ভেতরে মঞ্চ ভাঙ্গা, পর্দার কাপড়গুলো ছিড়ে গেছে বহু আগেই। দর্শকদের বাসার অধিকাংশ চেয়ার ভাঙ্গা। মঞ্চের দুই পাশের সাজসজ্জার কক্ষটিতে ব্যবহারের অকেজো।


নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিতর্ক পরিষদের একজন নিয়মিত নারী সদস্য জানান, অডিটরিয়ামের বেহাল দশার কারণে একান্ত বাধ্য না হলে কেউ এখানে আসতে চায় না। অনুষ্ঠান করার আগে কর্মীদের রুম নয় শুধু, ময়লা কাঁদাও পরিষ্কার করতে হয়।

কজেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও কলেজ মুখপত্র ক্যাম্পাস বার্তার সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন, বিগত কয়েক বছরে কলেজের অনেক পরিবর্তন সাধন হয়েছে। তবে কলেজ অডিটরিয়ামে পরিবর্তনের কোন ছোঁয়া লাগেনি।

ভিক্টোরিয়া কলেজ অডিটরিয়াম

মো. আল আমিন নামে একজন ছাত্রদল নেতা মন্তব্য করেন, অডিটরিয়ামে সমস্যার ছেলে মূল সমস্যা হলো নামে। এ অডিটরিয়াম শহীদ জিয়ার নামে তার কারণে সংস্কার করা হচ্ছে না। ক্যাম্পাসের বাস বেগম খালেদা জিয়ার নামে। যত ভবন আছে প্রায়গুলো বিএনপির আমলে তৈরি করা । এ সরকার বঙ্গবন্ধুর মূড়াল ছাড়া দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করতে পারেনি। তাই আবারো বলি, নাম শহীদ জিয়া অডিটরিয়াম, তাই সংস্কার হয়নি এক যুগে।

রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের সভাপতি আলি আকরর টিপু জানান, অডিটরিয়ামটি প্রায় পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। বিকল্প কোন পথ নেই বলে এখানেই বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান করতে হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠন প্রতিনিধিদের প্রাণের দাবি অল্প সময়ে সংষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হউক। সাথে উন্নত প্রযুক্তির সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার করা অবশ্যক। প্রতি মাসে ১৫-২২টি অনুষ্ঠান এখানে হয়ে থাকে, সাউন্ড সিষ্টেম ভাড়া আনতে হয়। অডিটরিয়ামে নিজস্ব সাউন্ড সিষ্টেম থাকা জরুরি।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের উপদেষ্টা মশিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের এ কলেজের একমাত্র সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রটি বহু দিন বেহাল যা সত্যি দুঃখ জনক। অডিটরিয়ামটি আধুনিকায়নে জোর দাবি জানাচ্ছি।


কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন। সম্পতি একটি বরাদ্ধ এসেছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় অডিটরিয়ামটি ঢেলে সামানো সম্ভব হয়নি। আশা করি দ্রুত সংস্কার করতে পারবো। তবে ২৭-২৮ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে এ কলেজ ৩০০ আসনের এ অডিটরিয়াম যথেষ্ট নয়। ৪ হাজার আসনের একটি মিলনায়তন তৈরির জন্য চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়েছে। যা শীতাপত নিয়ন্ত্রিত ও অত্যাধুনিক হবে। যদি নতুন অডিটরিয়ার হয়, আশাকরি সংকট সমাধান হবে।
DreamHost

সময় নিউজ ২৪.কম/এএসআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *