নড়াইলের কৃষকরা কাচি নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছে কামাররা

 

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ

নড়াইল জেলা সদর সহ নড়াইলের কালিয়া উপজেলা-নড়াইলের-লোহাগড়া উপজেলা-নড়াইলের-নড়াগাতী থানার গ্রামীন বাজার গুলোর কামাররা এখন ব্যাস্ত সময় পার করছে। আর কিছু দিনের মধ্যেয় কৃষকের ঘরে উঠবে সোনালি ফসল, কৃষানীরা বাড়ীর খোলাট পরিস্কার করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন, আর নড়াইলের কৃষকরা কাচি পোড়াতে তাড়াহুড়া করছেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, যার কারনে কামারদের ব্যাস্ততা বেড়ে চলেছে।

প্রতি ধানের মৌসুমেই কৃষকরা নাওয়া খাওয়া হারাম করে সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে, অনেক খাটুনির পর যখন সোনালী ফসল ঘরে ওঠে তখন সব খাটুনির কথা ভুলে যাই, ক্লান্তির নিস্বাস ফেলে কৃষক। তার মধ্যে কামাররা ও ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। যেন কামারদের মৌসুমের আগেই কৃষকের কাচি তৈারি, ধার কাটার কাজ শেষ করতে হয়। যার কারনে থানার গ্রামীন বাজার গুলোর কামাররা এখন ব্যাস্ত সময় পার করছে। যদিও বিজ্ঞানের যুগে কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, তার পরও গ্রামের গরীব কৃষকের সম্বল কাচি, টোকা, নিগড়ানি যেন তারা হাত ছাড়া করতে না রাজ।

অপরদিরক, নড়াইলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে নড়াইল জেলায় রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষ’তি হয়েছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ের প্রভাবে অধিকাংশ জমির পাকা ধান পড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষ’তি বেশি হয়েছে। এদিকে রবি মৌসুমে সরিষা, খেসাড়ী, মুসরসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষ’তি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, গত দুইদিনে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে নড়াইল জেলায় রোপা আমান ধান এবং রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ৩ হাজার ৮’শ ৪৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষ’তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭’শ ১০ হেক্টর জমির রোপা আমন, রবি মৌসুমের সরিষা ১’শ ৮০ হেক্টর, খেসাড়ী ৭’শ ৫০ হেক্টর, মসুর ১’শ হেক্টর, মুগ কলাই ৫০ হেক্টর, মাস কলাই ২০ হেক্টর, সবজি ১ হাজার ৩৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষ’তিগ্রস্থ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, দুইদিনে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে নড়াইল জেলায় রোপা আমন ধান এবং রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ৩ হাজার ৮’শ ৪৫ হেক্টর জমির ফসল আক্রা’ন্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষ’য়-ক্ষ’তির পরিমাণ নির্নয়ের জন্য কাজ করছেন। আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে ক্ষ’তির পরিমাণ নির্নয় করা সম্ভব হবে। অপরদিকে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সদরে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ঝড়-বৃষ্টিতে নড়াইল সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাস চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে হাসপাতালের এ দৃশ্য নতুন কিছু নয়। প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া ওই ঝড়ে জেলার পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের অসংখ্য গাছপালা ও বহু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে এসব এলাকায় সদ্য বোনা প্রায় ৬ হাজার একর জমির রবি ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপজেলার, নড়াইলের কালিয়া পৌরসভা, সালামাবাদ, কলাবাড়িয়া, বাঐসোনা, পহরডাঙ্গা, জয়নগর ও খাশিয়ালসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলো অতিক্রম করে।

ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এ ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে উপজেলা জুড়ে থাকা বিদ্যুতের লাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো নাজমুল হুদা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিধ্বস্ত জনপদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিরূপণের জন্য কাজ করছেন।’

অফিস সূত্রে জানা গেছে, সামন্যতম বৃষ্টি হলে এ সদর হাসপাতল ক্যাম্পস চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। নড়াইল সদর হাসপাতালের চারিদিকে নির্মিত হয়েছে এ ড্রেন। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোন লিংক বা পয়েন্ট আমাদের চোখে পড়েনি। এছাড়া ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের জন্য নেই কোন আউটলেট ব্যবস্থা। এদিকে সচেতন মহলের অভিমত অপরিকল্পিত নির্মাণ ও সংস্কার জনদূভোর্গ বাড়াচ্ছে এবং সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। বিষয়টি কি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিয়ে দেখুন।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *