নড়াইলের চাঞ্চল্যকর টনিক হত্যা রহস্য ৪বছর পর খুব অল্প সময়ে উন্মোচিত করল পিবিআই

 
Create a professional-looking website today!

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন এবং মামলার বাদীর অসহযোগীতায় কেটে গেছে চারটি বছর। অবশেষে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হাতে মামলা যাওয়ার অল্প সময়ে উন্মোচিত হয়েছে নড়াইলের চাঞ্চল্যকর আমিরুল ইসলাম টনিক হত্যা রহস্য। এই হত্যাকান্ডে টনিকের চাচাতো ভাইসহ চার জন জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়, জানান, পিবিআই এর হাতে আটক হওয়া সজিব খান, পুলিশ ও আদালতের কাছে জবানবন্দি এবং মামলা সুত্রে জানা গেছে, নড়াইলের দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের নুরুল ইসলাম শেখ’র ছেলে আমিরুল ইসলাম টনিক (৩৬) বিগত ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার মশাঘুনি
গ্রামের নতুন বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দৃর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। আহতের পর প্রতিবেশি শাহজাহান সাজু ও আবুল বাশার তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

টনিকের শরীরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন। যশোর থেকে খুলনা, অতপর ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি বাঁচতে পারেননি। ওই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী সে মারা যান। উক্ত ঘটনায় নিহতের পিতা-মাতা,স্ত্রী ও বড় ভাই জিবিত থাকা সত্বেও রহস্যজনকভাবে চাচাতো ভাই আবু সাঈদ শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ৪ বছরে ৫জন তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করলেও হত্যা রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হন। অবশেষে মামলাটি গত আগষ্ট মাস থেকে পিবিআই তদন্ত কাজ শুরু করেন।

এ মামলায় গত ১৮ অক্টোবর রাত পৌনে একটার দিকে পিবিআই সদস্যরা নড়াইলের তালবাড়িয়া গ্রামের সবুর খানের ছেলে ও আন্ত জেলার ডাকাত দলের সদস্য সজিব শেখকে তার বাড়ি থেকে আটক করেন। আটকের পর সে পুলিশেকে ওই হত্যাকান্ডের স্ববিস্তার বর্ণনা দেয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সেখানেও সে একই জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘটনার দিন রাতে তারা চারজন টনিকের বাড়িতে হানা দিয়ে বাথরুমের ভেন্টিলেটন ও জানালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। টনিকের চাচাতো ভাই এবং এই মামলার বাদী আবু সাঈদের আপন ছোটভাই তূষারসহ তিনজন ঘরের ভেতরে যায়। সজিব তখন বাহিরে পাহারায় ছিলেন। ঘরের ভেতরে আলমিরা খোলার শব্দ শুনে টনিক ঘুম থেকে জেগে চাচাতো ভাই তুষারকে চিনে ফেলে তার নাম ধরে ডাক দেয়। সাথে সাথে তুষার তার মাথায় ছ্যানদা দিয়ে কোপ মেরে পালিয়ে যায়।

অন্যরাও তুষারের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় টনিক গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে কিছুদুর ধাওয়া করেন। তুষার শেখ আন্ত জেলা ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য। তার নামে নড়াইলের লোহাগড়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতিসহ, হত্যা,ধর্ষন, চুরি ও ছিনতাইয়ের আন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। ক্ষমতাশীন দলের তকমা লাগিয়ে তুষারের সকল অনৈতিক কাজের সহযোগীতা করেন তার ভাই দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ শেখ।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, মামলার তদন্তভার গ্রহন করে এসআই শরীফুল ইসলাম ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করেন। সে কারনে দ্রুত এই মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং আসামী আটক করা গেছে। অভিযুক্ত সজিব খান শনিবার (১৯অক্টোবর) বিকালে নড়াইলের বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।

Create a professional-looking website today!

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *