নড়াইলে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান’র নিজ হাতে রংতুলিতে আঁকা ছবিগুলির বিশাল ক্ষতি

 Gator Website Builder

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ

নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান এঁর নিজ হাতে আঁকা রংতুলিতে আঁকা তৈলচিত্রে বিম্বজুড়ে ছবিগুলি ক্ষতিগ্রস্থ!! ঢাকা থেকে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা মিউজিয়ামের কিউরেটর আছিয়া খাতুন বলেন, চিত্রশিল্পী সুলতান কমপ্লেক্সের ৮টি ছবি নষ্ট হয়ে গেছে।

এগুলি ধাপে ধাপে রিপিয়ার করা জরুরি। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৩টি ছবি রিপিয়ার করা হবে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, এগুলি ঠিক করতে ৮মাস অথবা ১ বছরর লাগতে পারে। নড়াইলে ছবিগুলি রিপিয়ার করার জন্য কোন ল্যাবরেটরি নেই। সেজন্য ছবিগুলি ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বেহাল ছবি ছবিগুলি ঢাকায় পাঠানো হয় অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে ছবিগুলি ক্ষতিগ্রস্থ, নড়াইলে বিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের সংরক্ষিত বেশিরভাগ চিত্রকমের বেহা’ল অবস্থা।

ইতোমধ্যে ন’ষ্ট হয়ে যাওয়া ৩টি পেইন্টিং মেরামতের জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে শিল্পকলা একাডেমীর মাধ্যমে ঢাকা থেকে নড়াইলে আসা তিন সদস্যের একটি টিম সকালে এ তিনটি ছবি ঢাকায় পাঠানো হয়। ছবি তিনটি হলো ‘জমি কর্ষণ’,‘ধান মাড়াই’ এবং ‘গ্রাম্য কাজিয়া’। ছবি তিনটি চটের ক্যানভাসের ওপর নির্মিত এবং তেল রং-এর পেইন্টিং।

সুলতান কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এস এম সুলতান কমপ্লেক্সে শিল্পীর আঁকা মোট ২২টি ছবি রয়েছে। এগুলি মেরামত এবং উপযুক্ত পরিবেশে স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে শিল্পকলা একাডেমী থেকে ১জন পুনরূদ্ধারকারক (চিত্রকর্মের চিকিৎসক) এসে শিল্পীর সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত ৩৮ ফুট লম্বা চিত্রকর্ম ‘সভ্যতার ক্রমবিকাশ’ ছবিটি মেরামতের কাজ শুরু করলেও তা সম্পন্ন হয়নি। তবে ‘চর দখল’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষণ,ফসল সংগ্রহ,মাঠ পরিস্কার, কলসি কাঁখে নারী কাজিয়া (কাইজ্যা) ও মাছ শিকার ছবিগুলি প্রায় নষ্ট হতে চলেছে। বাকি ছবিগুলিও পর্যায়ক্রমে মেরামত জরুরি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা গ্যালারি, আবহাওয়া, উপযুক্ত স্থানে না রাখা, ছবিগুলো বদ্ধ অবস্থায় রাখা, অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে ছবিগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং নষ্ট হতে চলেছে।

চারুকলা বিভাগের শিক্ষক চিত্রশিল্পী বিমানেশ, সমির দাস, তুতা সরদার, লিটন দাস, সুকলাল দাম বলেন, সুলতান কাকুর অনেকগুলো ছবি নষ্ট হবার উপক্রম। আমাদের দাবি ছবিগুলি যেন দীর্ঘস্থায়ী এবং সঠিকভাবে রিপিয়ার করা হয়। ঢাকা থেকে আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা মিউজিয়ামের কিউরেটর আছিয়া খাতুন বলেন, চিত্রশিল্পী সুলতান কমপ্লেক্সের ৮টি ছবি নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলি ধাপে ধাপে রিপিয়ার করা জরুরি। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৩টি ছবি রিপিয়ার করা হবে। এগুলি ঠিক করতে ৬মাস অথবা ১ বছরর লাগতে পারে।

 

নড়াইলে ছবিগুলি রিপিয়ার করার জন্য কোন ল্যাবরেটরি নেই। সেজন্য ছবিগুলি ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বেহাল ছবি ছবিগুলি ঢাকায় পাঠানো হয় অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণে ছবিগুলি ক্ষতিগ্রস্থ, ঢাকা থেকে আসা বাকি দু’সদস্য হলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর গ্যালারি সুপারভাইজার মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর রেষ্টোরার (চিত্রকমের চিকিৎসক) হাসানুর রহমান রিয়াজ। শিল্পী সুলতানের অনেকগুলো ছবি নষ্ট হবার পথে। ছবিগুলি দীর্ঘস্থায়ী এবং সুন্দর করতে শিল্পকলার মাধ্যমে রিপিয়ারের জন্য ঢাকায় নেয়া হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত এগুলি রিপিয়ার কওে আবার সুলতান কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে।

দর্শনার্থীদের হয়ত সাময়িক সমস্যা হতে পারে। প্রায় সমস্ত ছবিগুলিই ধাপে ধাপে রিপিয়ার করা হবে। এছাড়া সুলতান কমপ্লেক্সের ছবিগুলি উপযুক্ত পরিবেশে রাখার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, শুরুর অপেক্ষায় ‘নন্দন শৈলী সুলতান ঘাট’ বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান এঁর বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা ছবির মুল কনসেপ্টই ছিলো প্রান্তিক কৃষক, শ্রমজীবী মানুষকে নিয়ে। তার রংতুলিতে আঁকা তৈলচিত্রে বিম্বজুড়ে স্থান করে নিয়েছে প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক, জেলে, কুমার-কামারের আদিসত্বা। তাঁর ছবিসমূহে শক্তিশালী বাঙালীর প্রতিছাঁয়া। তাঁর স্বপ্ন ছিলো প্রকৃতির পরিবেশে নদীতে নৌকা করে কমলমতি শিশুদের নিয়ে ছবি এঁকে বেড়াবেন। সে স্বপ্ন পূরনের আগেই তিনি বিশ্বজগতকে ফাঁকি দিয়ে পরলোকগমন করেন।

 

শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্কিত ছবি ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বাসভবন, শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিষ্ঠান ‘শিশুস্বর্গ, শিল্পীর সমাধিস্থল এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকাকে ঘিরে ২০০৩ সালে নির্মিত হয় ‘এসএম সুলতান কমপ্লেক্স। এসএম সুলতান কমপ্লেক্স’কে ঘিরে গতবছর (২০১৮) জুন মাসে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা এবং নৌকা ভেড়ানোর জন্য চিত্রা নদীর পাড়ে একটি নন্দনশৈলী ‘সুলতান ঘাট’ নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

কিন্তু শুরুতেই নির্মাণ কাজের নক্সা পরিবর্তন ও আর্থিক সমস্যায় কাজটি দু’মাস পরেই বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে নড়াইলের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) জানান, গত বছর পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ঘাট নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয় এবং এর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া করে কাজও শুরু করা হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় এ টাকায় ঘাট নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই নতুন করে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ১কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে। আশা করছি এটি পাশ হলে এখানে একটি নান্দনিক ঘাট নির্মাণ সম্ভব হবে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জেলা প্রশাসক পরামর্শক্রমে নতুন নকশায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে সুলতান ঘাট নির্মাণের জন্য একটি প্রজেক্ট নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সুপারিশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ঘাটে সুলতান কমপ্লেক্স দেখতে আসা পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে আসা নৌকাও ভেড়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। ফলে তারা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।

এছাড়া ঘাটের পার্শ্বে রাখা শিল্পী সুলতানের নির্মিত নৌকাটি (শিল্পীর মৃত্যুর পর নৌকাটি আর নদীতে ভাসেনি। বর্তমানে এটি সুলতান কমপ্লেক্স সংলগ্ন চিত্রা নদীর তীরে একটি সেডের নীচে রাখা হয়েছে) সংরক্ষণের জন্য ছোটখাট সংস্কার এবং রং করা হবে। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগষ্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারনে যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
Gator Website Builder

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *