নড়াইলে ভূয়া সনদে চাকুরী

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি

(২০ এপ্রিল) ভূয়া সনদে চাকুরী প্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক এস এম মাহবুব আলম বিদ্যুৎ এর অনিয়ম ও দূর্নীতিতে অতিষ্ট হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত করেছে এলাকাবাসী। এর আগে উপজেলা শিক্ষা অফিসে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবরে এলাকাবাসী আবেদন করলে তদন্ত করার প্রস্তুতি নিলে সেটাও আটকে দেন ওই ভূয়া সনদে চাকুরী প্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক এস এম মাহবুব আলম বিদ্যুৎ।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, এলাকায় মারামারি কাইজে ডাংগার অন্যতম হোতা ভূয়া সনদে চাকুরী প্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এস এম মাহবুব আলম বিদ্যুৎ বর্তমানে কামাল প্রতাপ এস জে ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বানিজে দেনদরবারে ব্যস্ত এমনটা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আফছার শেখ জানান, বিদ্যুৎ নড়াইলের বাশগ্রাম ইউনিয়নের বিএনপির নড়াইলের কামাল প্রতাপ (৪ নং)ওয়ার্ড সভাপতি হয়েও আওয়ামীলীগ আমলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক হয়নি। বরং আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে মাতববরি করে বেড়াচ্ছে।সেজন্য প্রকৃত আওয়ামীলীগের লোকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে যে বিএনপির সময় বিএনপি করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আওয়ামীলীগদের নির্যাতন করেছে আবার আওয়ামীলীগের সময়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি করছে। আমরা ডিসি স্যারের কাছে এসব দুর্নীতির সরেজমিনে তদন্ত চাই।

বিদ্যুৎ বর্তমানে কামাল প্রতাপ এস জে ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে কর্মরত আছেন।দরখাস্তে স্বাক্ষরকারী ২১ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ স্কুল প্রতষ্ঠার পর হতে সাবেক তৎকালীন সভাপতি শেখ আজিবর রহমান(সাবেক চেয়াম্যান) আত্বীয় হওয়ায় যোগ্যতা না থাকা স্বত্বেও কেরানী পদে চাকুরী নেন। স্কুলের কাছে বাসভবন হওয়ায় তখন থেকেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান না করে কেরানি হয়েও প্রধান শিক্ষকের সমস্ত কাজ নিজে করে আসছেন।

বর্তমানে ও বিদ্যুতের ভাই ওই স্কুলের সভাপতি হওয়ায় তার দূনীতি সীমাহীন পর্যায়ে পৌছালে এলাকার লোক অতিষ্ট হয়ে ডিসি বরাবর দরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

যে দরখাস্ত জেলা প্রশাসক এর দিয়েছেন এলাকাবার ২১ জন স্বাক্ষরিত তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি ভূয়া সনদে চাকুরী প্রাপ্ত নানান দূর্নীতি করে অদ্যাবধী টিকে রয়েছেন। তিনি স্কুলের পানির ট্যাংকির লাইনের সংযোগ নিজ বাসভবনে টেনে নিয়ে পারিবরিক কাজে অদ্যাবধি ব্যবাহার করে চলেছেন। ফলে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল বেশি হচ্ছে।

এলাকাবাসী আরো জানান বিগত ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অফিস খরচের কথা বলে অত্র বিদ্যালয়ের নির্বাচনকালীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে জন প্রতি ৩০০টাকা করে নিয়েছেন। এবং ওই সকল শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার সিট তৈরি করে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। এবিষয়ে এলাকায় সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী লিখিত দরখাস্তে জানান,এস এম মাহবুব আলম (বিদ্যুৎ) গ্রন্থাগারিক এর ভূয়া সনদে চাকুরী প্রাপ্তী হইয়াছেন।অনৈতিক ভাবে চাকুরী গ্রহন করেও তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। উল্লেখ্য যে সহকারী গ্রন্থাগারিক এর পূর্বে একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কোন ছুটি না নিয়েই অফিস সহকারী পদে কর্মরত থেকে গ্রন্থাগারিক এর ভূয়া সনদ সংগ্রহ করেন। অফিস সহকারী পদে থেকে তিনি নানা অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে পদোন্নতি হয়ে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট ৩০০টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর পরই আমরা টাকা দিয়ে দিয়েছি। পরে আমাদের নিকট থেকে জোর করে টাকা দেইনি এই মর্মে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। আমরা এখানে স্বাধিনভাবে ইচ্ছামত চাকুরী করতে পারিনা। বিদ্যুতের বাড়ির পরে স্কুল আবার তার ভাই সভাপতি বিধায় ওনারা যা বলেন আমাদের তাই করতে হয়।

স্কুল থেকে পানির লাইনের সংযোগ বিদ্যুতের নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, বিদ্যুত ও তার ভাই সভাপতি টুলু যে সিদ্ধান্ত নেয় তা আমাদের মেনে নিতে বাধ্য করে। তাই আমরা উপর মহলের সরেজনিনে তদন্ত চাই।

বিদ্যুতের ভাই সাংবাদিকের কাছে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে জানান ভ’য়া সনদ ও পানির লাইনের বিষয়ে কিছু জানিনা তবে ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অফিস খরচের কথা বলে অত্র বিদ্যালয়ের নির্বাচনকালীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে জন প্রতি ৩০০টাকা করে আমাকে দেওয়ার কথা বলে নিয়েছেন এটা সত্য। তবে বিষয় অনেক পরে জেনে উক্ত টাকা শিক্ষকদের কাছে টাকা ফেরত দিতে বিদ্যুতকে বল্লে টাকা ফেরত দিতে না চাইলে কথাকাটির এক পর্যায়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং খুন করার হুমকি দেয়। সেটা আমার মোবাইলে রেকর্ড করা আছে। এবং পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজাদী বেগমের নিটক ঘটনার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি ছোট চাকুরী করি আপনারা নিউজ কইরেন না।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বেগম, নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়কে বলেন, এস এম মাহবুব আলম (বিদ্যুৎ) গ্রন্থাগারিক এর ভূয়া সনদে চাকুরী প্রাপ্তী স্কুলের পানির লাইন নিজ বাসায় ব্যবহারের দরখাস্তের বিষয়টি আমি জেনেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূর্নীতি করলে কেউই ছাড় পাবেননা। 

সময়নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *