নড়াইলে শতবর্ষের পাঠক হারা রামনারায়ন পাবলিক লাইব্রেরী আছে সুধু পাহাড়সম অনিয়মর অভিযোগ

 
Bulletproof your Domain for $4.88 a year

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ

নড়াইলে শতবর্ষের অধিক পুরোনো নড়াইলের জেলার রামরানায়ন পাবলিক লাইব্রেরী। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব পাকা ভবন রয়েছে। বই সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এরমধ্যে অনেক দুর্লভ বইও রয়েছে। প্রতিদিন ৮টি জাতীয় সংবাদপত্র রাখা হয়। যথেষ্ট প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র রয়েছে। সরকারি অনুদান আসে বেশ।

আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, লাইব্রেরীর জমিতে দ্বিতল পাকা ভবনে মার্কেট রয়েছে। মার্কেটে একটি বেসরকারী ব্যাংকসহ ১৬টি দোকানঘরের ভাড়াও তোলা হয় নিয়মিত। আছে পরিচালনা পর্ষদ। একজন খন্ডকালীন লাইব্রেরিয়ান বিকাল ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত নিয়মিত লাইব্রেরীর দরজা খোলেন আর বন্ধ করেন। আছে বই পড়ার জন্য কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি পরিবেশ। শুধু পাঠক নেই। আছে পাহাড়সম অনিয়মের অভিযোগ।

বিগত ১৯০৭ সালে লোহাগড়া রামনারায়ন পাবলিক লাইব্রেরীটি স্থাপিত। খাতা কলমে সদস্য সংখ্যা প্রায় দু’হাজার। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের কোন সদস্য এখন আর বেঁেচ নেই। বিগত ২০ বছর আগ পর্যন্ত সময়ে হওয়া সদস্যরা এখন নিস্ক্রিয়। তারা কেউ এখন আর লাইব্রেরীতে আসেননা। নিয়ম অনুযায়ী চাঁদাও দেননা। বইয়ের তালিকা ও ক্যাটালগ না থাকায় বইগুলোর ক্যাটালগ ভিত্তিক তালিকায় সাজানো নেই। ফলে পছন্দের বই খুঁজতে সময় চলে যায়। পাঠকদের পড়ার সময় থাকে না। পাঠকরা এজন্য পাঠাগারে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পাঠকদের বসার স্থানে গ্রাম্য শালিস বৈঠক ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া লাইব্রেরীর চত্বরে একটি মন্দির রয়েছে। সেখানে দুর-দুরান্ত থেকে সনাতন ধর্মের হাজারো ভক্তবৃন্দ আসেন। চত্বরটি ভাগাড় বা, মালখানায় পরিণত। যে কেউ প্রথমে দেখলে মনে হবে সরকারী মালখানা বা, পৌরসভার কোন নির্দিষ্ট স্থান। এই হচ্ছে উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীনতম রামনারায়ন পাবলিক লাইব্রেরীর ধুঁকে ধুঁকে চলার চালচিত্র।

লাইব্রেরীতে আব্দুল মালেক বিশ্বাস নামের একজন লাইব্রেরীয়ান ও কাজী গোলাম মোস্তফা মিলন নামে সহকারী লাইব্রেরীয়ান নিযুক্ত রয়েছেন। লাইব্রেরীয়ান বার্ধক্যজনিত প্রায় এক বছর অসুস্থ থাকায় সহকারী লাইব্রেরীয়ান প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইব্রেরীর দরজা খোলেন আর বন্ধ করেন। তাকে মাসে ৩হাজার ৫’শ টাকা ভাতা দেওয়া হয়।

তিনি জানান, পাঠকরা সংবাদপত্র পড়তে আসেন। এছাড়া আর কোন পাঠক তেমন একটা আসেননা। এলাকার অধিবাসী এবং লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য সলিমুল্লাহ পাপ্পু, মোল্যা মনিরুজ্জামান ও তাওহিদ শেখ জানান, লাইব্রেরীতে কোন পাঠক আসেন না। নিয়মিত কোন সদস্য নেই।

কোন মাসিক মিটিং হয়না। বাৎসরিক সাধারন সভা (এজিএম) সহ সব কিছুই হয় শুধু খাতা-কলমে। অনিয়ম আর অগণতান্ত্রিক ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে শতবর্ষের এই প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ধংশের দাঢ় প্রান্তে। তারপরও ঘরে বসে ঘুরে ফিরে কয়েক জনকে নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আর পাঠাগারের সাধারন সম্পাদক বদল নেই। তিনি রয়েছেন ২৭বছর ধরে।

চলতি বছরের ২৫ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান কমিটির মেয়াদ থাকলেও তড়িঘড়ি করে কোন প্রকার প্রচার প্রচারনা ছাড়াই নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা করা হয়েছে। অধিক সদস্যদের অবহিত করে নির্বাচনের নতুন তফসীল ঘোষনার দাবী ও সম্পাদকের অনিয়ম-দুনীতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন একাধীক আজীবন সদস্য।

এ বিষয়ে লাইব্রেরীর সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আকরাম আলী আখিদুল অভিযোগ ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে লাইব্রেরীর সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কোন অনিয়ম করেন নাই। লাইব্রেরীর পাশে নিজস্ব জমিতে একটি দ্বিতল পাকা ভবন রয়েছে। সেখানে একটি বেসরকারি ব্যাংকসহ ১৬টি দোকান ঘর ভাড়া দেওয়া রয়েছে।

সেখান থেকে প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকার অধিক ভাড়া আসে। এটাই নিয়মিত আয়ের উৎস। এছাড়া সরকারি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান পাওয়া যায়। পদাধিকার বলে লাইব্রেরীটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাইব্রেরীটি সম্পর্কে তিনি বিশদ জানেন না, নির্বাচনের নতুন তফসীল ঘোষনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Bulletproof your Domain for $4.88 a year

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *