//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js


পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত কৃষকের অর্থনীতি,পর্যটন,জীবন-মানে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট:

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা বাগেরহাটের সঙ্গে রাজধানীর নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হলো। এর মাধ্যমে বাগেরহাটের অর্থনীতি, পর্যটন, জীবন-মানে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে।সঠিক মূল্য পাবেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা বাগেরহাটের অবহেলিত কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি পাবেন কৃষকরা।রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন এমনটি মনে করছেন কৃষকরা।পদ্মাসেতু দিয়ে কৃষকরা সহজেই তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য,সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি ও সাদা মাছ সহজেই ঢাকার বাজারে নিয়ে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন, অপরদিকে পণ্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও কমে যাবে বহুগুন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার কৃষক আলম হোসেন বলেন, তিনটি ঘেরে গত বছর লাউ, ঢেঁড়স, মিস্টি কুমড়াসহ কয়েক প্রকার সবজির চাষ করি। ব্যাপক উৎপাদনও হয়। কিন্তু দেড় লাখ টাকা খরচে লাভ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। অথচ এই সবজি স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে না বিক্রি করে যদিঢাকায় পাঠাতে পারতাম লক্ষাধিক টাকা লাভ হত। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের খবরে ইতোমধ্যে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি তিনি সরাসরিসবজি নেবেন বলে কথা দিয়েছেন।

সদর উপজেলার খানপুর এলাকার গাউস মল্লিক ১০ বিঘা জমিতে বর্ষাকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ করেন দুই দশক ধরে। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদিত সবজি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হই আমরা। এখন পদ্মা সেতুর ফলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়ে যাবে। তবে সিন্ডিকেট ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসনের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

কচুয়া উপজেলার গজালিয়া এলাকার সবজি চাষি আব্দুর রহিম বলেন, শীতকালীন সবজির জন্য এ অঞ্চল প্রসিদ্ধ। আগে থেকে নদী পাড়ে দীর্ঘ সময় হওয়ার কারণে আমরা ঢাকার বাজারে সময়মত গিয়ে কৃষিপণ্য পৌঁছাতে পারতাম না। পথেই অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যেত। তাই স্থানীয় বাজারে বা ফড়িয়াদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হত। এখন সেতু দিয়ে সহজেই আমরা গাড়ি ভাড়া করে সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতে পারব। এছাড়া ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগেরহাটে এসে সবজি কিনতে পারবেন।

জেলা কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটে কৃষক পরিবার রয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮টি।চলতি অর্থ বছরে জেলায় ধান উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন। সবজি উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,বাগেরহাটের উপ পরিচালক মো.আজিজুর রহমান বলেন,পদ্মা সেতুর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন কৃষকরা।বাগেরহাট থেকে বছরে অন্তত ৭০ হাজার মেট্রিক টন সবজি জাতীয় পণ্যঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যায়।সেতুর ফলে কম খরচে, অল্প সময়ে এইকৃষিপণ্য পৌঁছে যাবে সর্বত্র।জেলার কৃষি বাণিজ্যিকরণে নতুন সম্ভাবনারদ্বার উন্মোচন হতে চলেছে।

এদিকে সরেজমিনে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া,ডেমা,কাশিমপুর এলাকার একাধিক মৎস্য চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিংড়ি ও কার্প জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল, টেংরা, পারসে, বেলে, তেলাপিয়া, পাতাড়ি) সহ উৎপাদিত মাছের বড় অংশের বাজার ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় স্থানীয় ফড়িয়া ও আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না প্রান্তিক চাষিরা।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬৬ হাজার ৭১৩ হেক্টর জমিতে ৭৮ হাজার ৬৮৫টি বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। জেলায় চাষি রয়েছেন প্রায় ৫৬ হাজার। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সাড়ে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে এই পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার মেট্রিক টন।

২০২১-২২ অর্থ বছরে উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ হাজার মেট্রিক টনে। টাকারঅংকে বাজার মূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।এ সময়ে সাদা মাছ উৎপাদন হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন। টাকার অংকে মূল্য ১৪ হাজ়ার কোটি টাকা।বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা এলাকার চাষি সাইদুল ইসলাম বলেন, ফেরির কারণে মাছ নিয়ে ঢাকায় যেতে দেরি হত ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেক সময় মাছ নষ্ট হয়ে যেত, আবার স্বাভাবিকভাবে গেলেও মাছের রং নষ্ট হওয়ার কারণে দাম কম দিত ব্যবসায়ীরা। এখন আর এই ধরনের সমস্যা থাকবে না। আমরা ন্যায্যমূল্য পাব আমাদের উৎপাদিত পণ্যের।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল বলেন, বাগেরহাটেরস্থানীয় চাষিরা পুকুর-ঘের থেকে যে মাছ ফজরের সময় ধরবেন, সকাল ১০টার মধ্যে সেই মাছ পাওয়া যাবে ঢাকার বাজারে।এতে চাষি যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ভোক্তারা টাটকা মাছ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটের মাছের বড় অংশের ক্রেতা রাজধানী ও শহরের মানুষ। এখন থেকে চাষিরা সহজেই মাছ ঢাকার বাজারে পাঠাতে পারলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে যাবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মধ্যে বাগেরহাট সবচেয়ে উন্নত হবে। অর্থনৈতিকভাবে এ জেলায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হল। কৃষকরা যেমন ন্যায্যমূল্য পাবে, তেমনি তাজা এবং টাটকা কৃষিপণ্য সরবরাহ করা সম্ভবহবে দেশের অন্যত্র। পাশাপাশি পর্যটন ও বন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে।ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহায় সারাদেশের মানুষই খবরে দেখে এই পদ্মা নদী পার হতে মানুষের কত কষ্ট করতে হয়। বৈরী আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ কীভাবে পার হয় এই নদী তা যে ওই পরিস্থিতির মোকাবিলা না করেছে সে অনুধাবন করতে পারবে না। ঈদে ফেরিতে শুধু মানুষ পারাপারের সময় মানুষের চাপে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয়। লঞ্চ, টলার বা স্পিড বোটে অত্যধিক যাত্রী বোঝাইর কারণে অসংখ্য প্রাণের মূল্য দিতে হয়েছে। পাশাপাশি ঘাট শ্রমিক, ঘাট নিয়ন্ত্রণকারীদের হাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষকে জিম্মি অবস্থা, তাদের বুক ফাটা কষ্ট সহ্য করার ইতিহাস। ফেরি পার হতে গাড়ির সিরিয়াল যখন শুরু হয়, বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘাটে বসে থাকতেও হয়েছে অনেক সময়ে। শতশত মালবাহী ট্রাক থাকে অপেক্ষায়, কাঁচামাল তো ঘাটেই পচে যায়, এসব মোটামুটি নিয়মিত চিত্র। মুমূর্ষু রোগী নদী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকার কষ্ট, যে করেছে সে বুঝে। ঘাটেই রোগী মারা গেছে, ঢাকায় এনে চিকিৎসা করানো যায়নি, এরকম নজিরও কম নয়।

ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী। খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা এবং বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ২১টি জেলার নাম। আর একটি সেতুকে ঘিরেই সোনালি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন এই অঞ্চলের মানুষ। দেশের এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে নতুন দিগন্ত উšে§াচন করবে যে সেতুটি তারই নাম, পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের এই ২১টি জেলার ফেরিবিহীন যোগসূত্র স্থাপিত হবে। বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের অবস্থা তেমন উন্নত ও যুগোপযোগী নয়। অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশ পেছনেই পড়ে আছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল। এই অঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদন হয় বটে, কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে দরিদ্র কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতু এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে। তাই আমরা বলতে পারি, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে যেমন ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে কৃষকরা আরও অধিক হারে উৎপাদন করবেন। পাশাপাশি এ সেতুকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পকলকারখানা গড়ে উঠবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখবে। বলা হচ্ছে, শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

পদ্মা সেতু শুধু একটি সাধারণ স্থাপনার নয়। এটি দেশের মানুষের অর্থে প্রতিষ্ঠিত একটি ইতিহাসের নাম, দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণের অনবদ্য উপাখ্যান। এটি বাংলাদেশের গর্ব, আত্মমর্যাদা ও অহংকারের প্রতীক। বাংলাদেশ তার আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নির্মাণ করেছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই পদ্মা বহুমুখী সেতু। যেখানে সড়ক ও রেল উভয় মাধ্যমেই সংযোগ স্থাপিত হবে এবং এর মাধ্যমে দেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর বিপ্লব সাধিত হবে। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি দেশের ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু।বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও জটিল রকমের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেদের অর্থেই নির্মিত হয়েছে নান্দনিক পদ্মা সেতু। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো উন্নয়নশীল দেশের মানুষ যে নিজেদের উদ্যোগে এরকম দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে, তা এক সময় ভাবতেও পারতো না বিশ্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় এবং বাঙালি জাতির অদম্য প্রচেষ্টায় তা আজ বাস্তব। এ দেশ নিজের অর্থায়নে এত বিশাল সেতু নির্মাণ করতে পারলে, ধীরে ধীরে আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিজ অর্থেই সম্পন্ন করতে পারবে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জাতীয় মনোবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পদ্মা সেতু সফলভাবে আমাদের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে শুরু করলে, অতিরিক্ত প্রায় ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসবে পদ্মা সেতু থেকে। আগামী বছর আমাদের জিডিপিতে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হিসাব করে জিডিপির আকার ৫১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাক্কলন করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করলে জিডিপিতে অতিরিক্ত আরও ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত হবে। ফলে, জিডিপির আকার ৫২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে।

ঢাকা থেকে খুলনা, মোংলা, বরিশাল, কুয়াকাটা অর্থনৈতিক করিডোর খুলে যাবে। এ সেতুকে ঘিরে বিশদ অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্ক। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। সেতু ঘিরে পদ্মার দুপারে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, যা ভ্রমণপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে থাকে। সুন্দরবন, কুয়াকাটা, ষাটগম্বুজ মসজিদের মতো অনেক পর্যটন কেন্দ্র ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার অনুপযোগিতার কারণে মানুষের কাছে অনাগ্রহের বিষয় ছিল। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে এখন তা নাগালের মধ্যে চলে আসবে। এসব পর্যটন কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে তা থেকেও প্রচুর অর্থ আয় করা সম্ভব হবে। নানা দিক বিবেচনায় নিঃসংকোচে বলা যায়, স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের অনাগত স্বপ্ন পূরণে সারথির কাজ করবে।

পদ্মা সেতুর আরেকটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। কেননা পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে রুট এএইচ-১-এর অংশ হওয়ায় তা যথাযথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সুবিধা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
%d bloggers like this: