পলাশবাড়ীতে তর্কাতর্কির মাঝে মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত মামলা দায়ের ও হুমকিতে পরিবারটির সংবাদ সম্মলেন

সরকার লুৎফর রহমান,গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর একাধিক হয়রানি মূলক  মামলা-হামলা, হুমকি-ধামকি করার ফলে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের  সংবাদ সম্মেলন।
৯ সেপ্টেম্বর সোমবার উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রামের (খাঁপাড়ায়) বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দারের নিজ বাড়ীতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
আহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নান্নু মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের বরকাতপুর গ্রামের মৃত ময়েজ সর্দারের ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দার গত ১৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই গ্রামের খাঁপাড়ায় আলমগীরের দোকানের সামনে এলাকার কিছু উঠতি বয়সের যুবকরা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে গল্প করছিলেন।
এসময় একই গ্রামের আজাহার আলী সোনার ছেলে আজাদুল ইসলাম (৩৫) এসে এসব আলোচনা করতে বাঁধা নিষেধ করে। আজাদুলের বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী গল্প করতে থাকায় এ
সময় সে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাকে কিল-ঘুষি চর-থাপ্পর মারে। পরবর্তীতে আজাদুলের হুকুমে মৃত ছমছেল সোনার ছেলে মোশারফ হোসেন (২৮)সহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বীর
মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী মারডাং করে তার ডান হাত ভেঙ্গে দিয়ে হাড় ভাঙ্গা, ছেলা-ফোলা রক্তাক্ত জখম করে।
এসময় মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে ফজলু ও আলমগীর তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদেরকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া দিয়ে বেধরক মারপিট রক্তাক্ত জখম করে। এসময় স্থানীয়রা বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সর্দারের ছেলে নান্নু মিয়া বাদী হয়ে গত ২৩ আগস্ট ১০ জনকে আসামী করে পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা (নং-১২/১৫৪) দায়ের করে। উক্ত মামলা দায়ের পর আসামীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে হুমকি প্রদান করে যে, মামলা তুলে না নিলে তোমাদের উপর একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা চাপানো হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ আগস্ট আসামী খলিল মিয়া বাদী হয়ে (নং- ১৫/১৫৭) একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে ৩ সেপ্টেম্বর বজলু শেখ বাদী হয়ে (নং-০৫) আরো একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এক সময় তারা আর’ও বলে বাদী নান্নু মিয়ার মামলা তুলে না নিলে ওদের গ্রামে উঠতে দেয়া হবে না।
এমন হুমকিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং কাউন্টার মামলায় পুলিশি গ্রেফতার এরাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আসামিগণ। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি পুলিশ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সংবাদ সম্মলনের সময় উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধার ভাই মন্টু সর্দার, স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মেয়ে দুলালী  বেগম, নুরানী বেগম ও ফজিলা খাতুন প্রমুখ ।
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *