পুলিশের ভুলের কারণে দুই মাস সাত দিন কারাগারে

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ:

পুলিশের ভুলের কারণে আসামী না হয়েও দীর্ঘ দুই মাস সাত দিন জেল খাটার পর উক্ত মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার টগবী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের পুত্র মোঃ লোকমান (২৮) প্রকৃত আসামী না হয়েও পুলিশের অজ্ঞতার কারণে জেল খাটতে হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সায়েদুর রহমান খান এ সংক্রান্তে একটি মামলা শুনানী শেষে তাকে অব্যাহতি দেয়। জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সগড়া গ্রামের আমির উদ্দিনের কন্যা মদিনা বেগম রূপসা তার স্বামী মোঃ লোকমান (২৮), পিতা- মফিজুল ইসলাম, সাং- টগবী, থানা- বোরহান উদ্দিন, জেলা- ভোলার বিরুদ্ধে ২৭/০৭/২০১৬ তারিখ ১৯৮০ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটির বিচারে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকবাল মাহমুদ বিগত ইং ২০/০৬/১৭ তারিখ আসামীর অনুপস্থিতিতে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
উক্ত সাজা পরোয়ানা ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন থানায় প্রেরণ করলে উক্ত থানার এস.আই মোঃ মোহাইমিনুল ইসলাম (বিপি নং- ৮৫১৩১৫২২৯৩) বিগত ইং ১০/০৩/২০১৯ তারিখ আসামী লোকমান, পিতা- মফিজুল ইসলামের পরিবর্তে একই গ্রামের আসামী লোকমান, পিতা- মোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে ০৬/০৫/২০১৯ তারিখ কিশোরগঞ্জ কারাগার থেকে জামিন লাভ করে। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ বাদিনী মদিনা বেগম রূপসাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আসামীকে সনাক্ত করার নির্দেশ দেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বাদিনী আদালতে এসে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী তার স্বামী নন। তার স্বামী কুয়েত অবস্থান করছেন এবং ইমুতে (নম্বর +৯৬৮৯১৯৯০৯৪১৩) তে তার যোগাযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত আসামীকে বাদ দিয়ে পুলিশ ভুল ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ করায় চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া লোকমান জানান, যে দারোগার কারণে আমার জীবন থেকে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে দুই মাস সাত দিন হারিয়ে গেছে তার জবাব দেবে কে ?

সময় নিউজ২৪.কম/ এ এস আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *