প্রণোদনা ঋণ বিতরণে অনিয়ম হিলির সোনালী ব্যাংকের

মোসলেম উদ্দিন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের মাঝে প্রণোদনা ঋণ বিতরণের অনিয়ম পাওয়া গেছে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) শাখা সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত গ্রাহককে ঋণ না দিয়ে, চাকরি জীবিদের ঋণ দিয়েছেন এই ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের জন্য প্রণোদনা ঋণ এসেছে হাকিমপুর (হিলি) শাখা সোনালী ব্যাংকে। পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা, ঋণ দেওয়া হবে সর্বোচ্ছ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এই প্রণোদনা ঋণটি বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন চাকরিজীবিদের মাঝে। গরীব অসহায় কৃষক বা খামারিদের এই ঋণটি দেওয়া হয়নি। আবার সোনালী ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে অবস্থাশালী চাকরিজীবিদের এই প্রণোদনা ঋণ দিয়েছেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন ঋণটি তড়িঘড়ি করে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু খামারিদের জন্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কর্মকর্তার নিকট প্রণোদনা ঋণ সম্পর্কে কোন তথ্য ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীররা দেয়নি।

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম হোসেন শেখ জানান, করোনাকালীন কোন প্রণোদনা ঋণ সোনালী ব্যাংকে এসেছে কি না, আমার জানা নেই। উপজেলায় অনেক গরীব খামারিরা আছেন, তারা করোনা চলাকালীন অনেক ক্ষতিতে পড়েছেন। এই প্রণোদনা ঋণটি পেলে তারা খুব উপকৃত হতো।

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, প্রণোদনা ঋণ সম্পর্কে কোন তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। আমি এখানে নতুন আসছি, আগের কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পারেন।

আগের কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাজনিন জানান, আমি থাকাকালীন এই সোনালী ব্যাংকের কৃষি প্রণোদনা ঋণের বিষয়ে কোন তথ্য আমাকে জানানো হয়নি। তাছাড়া কৃষি প্রণোদনা ঋণের জন্য কোন তালিকা আমার নিকট থেকে নেওয়া হয়নি।

হিলির নওপাড়া গ্রামের মুরগী খামারি খোকন হোসেন জানান, আমার ১০ টা মুরগীর খামার আছে। করোনা চলাকালীন আমার খামার প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো হয়েছিলো। সে সময় আমার খামারের অনেক মুরগী মারা গেছে। খামারিদের জন্য প্রণোদনা ঋণ পাওয়া যাবে, এটা আমি জানতাম না। সে সময় যদি আমি প্রণোদনা ঋণটা পেতাম তাহলে অনেক উপকৃত হতাম।

সোনালী ব্যাংক হাকিমপুর (হিলি) শাখার ঋণ কর্মকর্তা আব্দুল রশিদের নিকট প্রণোদনা ঋণ প্রদানের সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি সব বিষয়ে এড়িয়ে যান। কাদের মধ্যে ঋণটি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন ব্যস্ত, পরে আসেন, আজ না অন্যদিন আসেন। আবার বলেন, এবিষয়ে ব্যাংক ম্যানাজারের নিকট যান।

সোনালী ব্যাংক হাকিমপুর (হিলি) শাখার ম্যানেজার গোলাম মামুনুর রশিদ জানান, প্রনোদনা ঋণ মুলত ঋণ কর্মকর্তা আব্দুল রশিদের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রদান করা হয়েছে। তিনিই এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন। সরকারি ব্যাংক হিসেবে সোনালী ব্যাংকের কোন তথ্য আমার কাছ থেকে নিতে হলে আাবেদন করে নিতে হবে। এরবেশি কোন কিছু জানাতে চাননি তিনি।

সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *