ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নিতির অভিযোগ

 

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটী ইউনিয়নে অবস্থিত শত বছরের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান আউলিয়াপাড়া ফাজিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবুলের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধভাবে মাদ্রাসার গাছ কাটা, মাদ্রাসার বিভিন্ন আয়ের অর্থ আত্মসাৎ সহ ব্যপক দুর্নিতির অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে।
অভিযোগপত্র ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার বর্তমান গর্ভণিং বডির সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবুল বিগত ২০১৪ সালের ২৪শে এপ্রিল সভাপতি মনোনীত হয়েই উক্ত মাদ্রাসাকে তার স্বেচ্ছাচারিতার আখড়া বানিয়ে নেন।

তিনি সভাপতি হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষক, ৩য় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীসহ মোট ৮টি পদে নিয়োগে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ হিসাবে নিয়ে অদক্ষ শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন।

এছাড়াও শত বছরের এই প্রাচীন মাদ্রাসার বড় বড় কয়েকটি গাছ কোন আইনী নিয়ম ছাড়াই স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে কেটে অল্প কিছু কাঠ নামকাওয়াস্তে মাদ্রাসার বেঞ্চ বানিয়ে বেশিরভাগ কাঠ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এবং মাদ্রাসার বিভিন্ন ধরণের আয়ের কোন টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যবহার না করে নিজের পকেট ভারী করেছেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনা। কারণ তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মাদ্রাসায় ঢুকেন তিনি। কেউ মুখ খুললেই তার উপর নেমে আসে অসহনীয় অত্যাচার। এলাকাবাসী সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবুলের দুর্নিতি, অন্যায়, অনিয়ম ও অত্যাচার হতে রক্ষা পেতেও জোর দাবি জানান।

সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসা সভাপতির সাথে কথা হলে তিনি অনিয়ম দুর্নিতির বিষয়ে কোন সদোত্তর দেননি। এমনকি মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতেও নারাজ বলে জানান তিনি।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাঃ হারুনুর রশিদ মোল্লা এ প্রতিনিধিকে জানান, আমি দুই মাস হয় নিয়োগ পেয়েছি, আমাকে এখনো হিসাব-নিকাশের খাতা-পত্র বুঝিয়ে দেননি কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবুল সভাপতি হওয়ার পর থেকে আমরা সারাক্ষণ খুব ভয়ে ভয়ে থাকি। তার সাথে কথা বলতে হলে মাথা নত করে কথা বলতে হয়। নতুবা বিনা কারণেই অযথা অযুহাতে অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা করেন। তিনি খুব ক্ষমতাধর লোক বলে নিজেকে নিজেই জাহির করে বেড়ান।

প্রদর্শিত কোন ব্যবসা না থাকলেও অল্প কিছুদিনে সাধারণ কৃষক থেকে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। রাজধানী ঢাকার রামপুরাতে ৭তলা বাড়ী, নিজস্ব গাড়ী সহ তার নিজ নামে কিশোরগঞ্জে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের গৌরবে তিনি এই মাদ্রাসাকেউ তার কুক্ষিগত করে রেখেছেন। আগামীতেও এই মাদ্রাসার সভাপতি হওয়ার জন্য অবৈধ পায়তারা শুরু করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, অভিযোগপত্রটি পেয়েছি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান (শিক্ষা ও আইসিটি) এ প্রতিনিধিকে বলেন, তদন্ত করে দোষ প্রমাণ হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *