ফুটবলের মহানায়ক কিংবদন্তি ম্যারাডোনার চিরবিদায়

অনলাইন ডেস্কঃ

একজীবনে মানুষ কী পায়? ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা বুঝি সবকিছুই পেয়েছেন। তিনি এমনই এক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, যার প্রতিটা কর্মে ছটা ছিল দেখার মতো। আর্জেন্টিনার দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বের সমর্থকরদের মনে গেঁথে নিয়েছিলেন নিজেকে। এবং সেটি এক ফুটবলীয় কর্মকাণ্ড দিয়ে। একজীবনে সমর্থকদের যতটুকু ‍আনন্দ দিয়েছেন তা কম বৈকি, বরং তার ফুটবলীয় ক্যারিয়ারের পরতে পরতে ছিল রোমাঞ্চ-সাসপেন্সে ভরপুর। যেখানে আস্বাদিত হয়েছেন সবাই।খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন রাজার মতো। বলতে গেলে একাই আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপ। তার পায়ের জাদুকরী নৈপুণ্য এখনও চোখে ভাসে। আজ পুরো বিশ্ব যেখানে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে বিভক্ত, সেখানে নিজের দেশকে এই পর্যায়ে নেওয়ার পেছনে তার অবদান অনেকাংশে।

ফুটবলের মহানায়ক কিংবদন্তি ম্যারাডোনার চিরবিদায়

সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে? উত্তরে যখন উচ্চারিত হয়, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে ম্যারাডোনার নাম, তখন সমর্থকদের হৃদস্পন্দনও বাড়তে থাকে। ম্যারাডোনা তেমনই একজন। যিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত ফুটবলমোদীদের বিনোদন দিয়ে গেছেন। খেলা ছেড়েছেন সেই কবে। কিন্তু জৌলুস এতটুকু কমেনি, কখনও কোচ হয়ে, আবার কোনও সময় বিতর্কিত আচরণে সবসময়ই ছিলেন ভক্তদের মনে! বিশ্বে এমন উদাহরণ কমই আছে। সাংবাদিককে বন্দুক হাতে তাড়া করে ফেরা কিংবা সমর্থকদের দিকে ঢিল ছোঁড়া- আরও কত বিতর্কিত শিরোনাম হয়ে যে খবরে এসেছেন। এর সঙ্গে তো মাদক কেলেঙ্কারি আছেই। সমালোচনা সঙ্গী ছিল তার সারাজীবন, তাতে তার থোরাই কেয়ার, আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ছিলেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

একজন ম্যারাডোনা খেলোয়াড়ি জীবনে যতটুকু সফল ছিলেন, কোচ হিসেবে ততটা নন। বোকা জুনিয়র্স থেকে নাপোলি কিংবা জাতীয় দল আর্জেন্টিনা- সব জায়গায় সাফল্য ছিল আলোয় মোড়ানো। এখনও পায়ের কাজ দেখা কোনও খেলোয়াড় চোখে পড়লেই ম্যারাডোনার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার দেশ আর্জেন্টিনায় ব্যাপারটা একটু বেশিই। ভেরন-ওর্তেগা-রিকুয়েলমে কিংবা হালের লিওনেল মেসি।

খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনা কোচ হয়ে হাল ধরেছিলেন আর্জেন্টিনার। তার অধীনে ২০১০ বিশ্বকাপে খেলেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এর আগে ও পরে বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করালেও সেভাবে সাফল্য আসেনি। অবশ্য কোচ ম্যারাডোনার ব্যর্থতায় একটুও ঢাকা পড়ে না খেলোয়াড় ম্যারাডোনার কীর্তি। তিনি অতুলনীয়। যার পায়ের জাদুতে মোহিত হয়েছে পুরো বিশ্ব। ফুটবলকে যিনি নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।

ফুটবলের বাইরে তার আরও একটি চরিত্রের দিক হলো একজন প্রতিবাদী মানুষ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যিনি সবসময় ছিলেন সোচ্চার। চে গেভারার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। কিউবার ফিদের কাস্ত্রোর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলেছেন। মাঠের নেতা বাইরের জীবনেও প্রতিফলন ঘটিয়েছেন আপোষহীন চরিত্রে।

নানা সময় নানা চরিত্রে ধরা দেওয়া সেই ম্যারাডোনা ৬০ বছর বয়সে পাড়ি দিয়েছেন অন্যলোকে। গোটা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের থাবায় শঙ্কা-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে, সেই সময় এই ফুটবল কিংবদন্তির প্রস্থান আরও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ফুটবলাঙ্গনের জন্য।

বৈচিত্র্যময় চরিত্রে তার কর্ম যেন রূপকথার গল্পের মতো। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক তরুণ শুধু আর্জেন্টিনা না গোটা বিশ্বকেই মোহিত করেছিলেন তার ফুটবল জাদু দিয়ে। একক প্রচেষ্টায় জিতিয়েছিলেন বিশ্বকাপ। যার পায়ের জাদুতে এখনও বুঁদ হয়ে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা। জীবন থেকে শেষ বিদায় নিলেও সমর্থকদের মনে ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা এখনও চিরসবুজ। থাকবেন আজীবন!

সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *