ফেন্সিডিলসহ আটক অর্থ নিয়ে খালাস ক্লোজড-৩: ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে বাল্য বিয়ে এসআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অর্থ’র বিনিময়ে মাদক বিক্রেতাদের আটক করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে এস,আই ফরিদসহ ৩জন ক্লোজড অথের বিনিময়ে দু’ মাদক বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে এস,আই ফরিদসহ তিন জনকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এস,আই ফরিদ ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরীহ মাসুষকে হয়রানি মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের সঙ্গে সক্ষতা গড়ে তোলা ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগে গতকাল উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে তাদেরবে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টহলরত অবস্থায় থানার শরুলিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে মাদক বিক্রেতা জনৈক মন্টু ও প্রকাশ ঘোষকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ আটক করে। এরপর গভীর রাতে দেন-দরবার শেষে টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কর্ণগোচর হলে গতকাল দুপুরে বিতর্কিত পুলিশের কর্মকর্তা হলেন এস,আই ফরিদ এ,এস,আই সুজিত ও গাড়ি চালক বিল্লালকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

এ ছাড়া দীর্ঘ দিন যাবৎ এস,আই ফরিদ’র বিরুদ্ধে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের সাথে সক্ষতা গড়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাটকেলঘাটার থানার অফিসার্স ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান গত ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টহলরত অবস্থায় থানার শরুলিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে মাদক বিক্রেতা জনৈক মন্টু ও প্রকাশকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ আটক করে। এরপর গভীর রাতে দেন-দরবার শেষে টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কর্ণগোচর হলে গতকাল দুপুরে বিতর্কিত পুলিশের কর্মকর্তা হলেন এস,আই ফরিদ এ,এস,আই সুজিত ও গাড়ি চালক বিল্লালকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।

অপরদিকে গণধ’র্ষণের বি’চার না করে স্বামীকে তা’লাক দিয়ে ধ’র্ষকের সঙ্গে গৃ’হবধূর বিয়ে দিলো পুলিশ এক গৃ’হবধূকে দ’লবেঁ’ধে ধ’র্ষণের পর অ’ভিযুক্ত এক ধ’র্ষ’কের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে। মা’মলা না নিয়ে স্থানীয় প্র’ভাবশালীদের ম’ধ্যস্থতায় থানায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পুলিশ। পাবনা সদর থা’নায় গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গৃ’হবধূর অ’ভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উ’পজেলার দাপুনিয়া ই’উনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামে ওই নারী স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার স’হযোগীকে নিয়ে ওই না’রীকে অ’পহরণ করে নিয়ে যায়।

সেখানে গৃ’হবধধূকে পা’লাক্র’মে ধ’র্ষণ করে তারা। গৃ’হবধূ কৌ’শলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর পাবনা জে’নারেল হা’সপাতালে ভ’র্তি করে। পরে গৃ’হবধূ বা’দী হয়ে পাবনা সদর থা’নায় লিখিত অ’ভিযোগ দিলে রাসেলকে আ’টক করে পুলিশ। তবে বিষয়টি মা’মলা হিসেবে এ’জাহারভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চ’ক্রের মধ্যস্থতায় স্বামীকে তা’লাক দিয়ে ধ’র্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ঘটনার নি’ষ্পত্তির চে’ষ্টা করে পু’লিশ। গৃ’হবধূর বাবা জানান, আমার মেয়ে অ’পহৃত হওয়ার কয়েকদিন পর তাকে খুঁ’জে পেয়ে হা’সপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ দেই।

পুলিশ আমাদের অভিযোগটি মা’মলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে মেয়েকে থানা হেফাজতে রেখে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি থানায় রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বামী সন্তান থাকা অবস্থায় রাসেলের সঙ্গে তাকে কীভাবে বিয়ে দেয়া সম্ভব তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ঘটনায় আমরা সামাজিকভাবে অ’পদস্থ হয়েছি। আমরা ধ’র্ষণের বিচার চাই। দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দৌলত আলী বলেন, ধ’র্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আ’টক করে নিয়ে যান সদর থানার এসআই একরামুল হক। পরে শুনি থা’নায় তাদের বিয়ে হয়েছে। এ বিয়ে কোনোভাবেই শরিয়তসম্মত নয়।

এলাকাবাসী জানান, স্বামী ও তিন সন্তান থাকা অবস্থায় কি করে একই সময়ে তালাক ও বিয়ে দিল পুলিশ। পাঁচজন ধ’র্ষণের অভিযোগে অ’ভিযুক্ত হলেও একজনের সঙ্গে কীভাবে বিয়ে হলো? ধ’র্ষণের ঘটনা ত’দন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই আমরা। এ বিষয়ে নি’র্যাতিত গৃহবধূ বলেন, রাসেলকে আ’টক করে আনার পর ওসি নিজেই থানায় কাজি ডেকে এনে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন। অ’ভিযুক্ত রাসেল আহমেদ বলেন, আমি ধ’র্ষণের সঙ্গে জড়িত নই, আমাকে পুলিশ মিথ্যা অভিযোগে আ’টক করে মা’মলা ও রি’মান্ডের ভয় দেখিয়ে জো’রপূর্বক বিয়ে দিয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। থানায় আমাদের বিয়ের সময় এসআই একরাম আমাদের ছবিও তুলে রেখেছেন।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি বলেন, ধ’র্ষণের বিচার না করে, ধ’র্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া সামাজিক মীমাংসার নামে প্রহসন। থানায় এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি উভয়ের সম্মতিতেও এ বিয়ে হয়, তবুও তা ধ’র্ষককে উৎসাহিত করার সামিল। যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক বলেন, গৃহবধূ প্রথমে ধ’র্ষণের অভিযোগ দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। ওই দিন রাতে তাদের বিয়ের কথা শুনেছি। থানায় কোনো বিয়ের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় বিয়ের বি’ষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ত’দন্ত সাপেক্ষে এ বি’ষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ক্র’সফা’য়ারের ভ’য় দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে জো’র করে বিয়ে করলো পুলিশের এসআই রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকার কদম ভূইয়ার কিশোরী কন্যা ও স্থানীয় কর্ডোভা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বন্যা আক্তারকে (১৩) নিয়ে কক্সবাজার রয়েছেন একই গ্রামে আব্দুল মালেক ওরফে সাদ্দামের ছেলে তুরাগ থানার এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজ (৩৬)। গত ১৯ জুলাই ভ’য়ভীতি দেখিয়ে সবুজ ওই কিশোরীকে বিয়ে করে।

এমন সংবাদ পেয়ে বিয়ের ৩দিন আগে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাল্যবিয়ে বন্ধ ও কন্যার পরিবারকে ভ’য়ভীতি না দেখানোর জন্য এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজকে বলা হয়। ওই নিষেধ অমান্য করে বিয়ে করে কিশোরীকে নিয়ে কক্সবাজার চলে যান সে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও বাগবেড় সিডি মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান সবুজ একই গ্রামের কদম ভুঁইয়ার কিশোরী কন্যা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বন্যা আক্তারকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বন্যা আক্তারের পরিবারের লোকজনকে ক্র’সফা’য়ারের হু’মকি দিয়ে অবশেষে সবুজের কাছে বিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়। বন্যার একাধিক বান্ধবী জানান, সরকার বাল্য বিয়ে বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রতিরোধ করা হলেও পুলিশের এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজ নিজেই বাল্য বিয়ে করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে? রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বাল্য বিয়ের ব্যাপারে সরকার কঠোর।

তবে ওই বিয়ে বন্ধের জন্য তুরাগ থানার এসআই মাহামুদুল হাসান সবুজকে নিষেধ করা হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কিশোরী বন্যা আক্তারের পরিবারকে ভ’য়ভীতি দেখিয়ে গোপনে বিয়ে করে বেশি অন্যায় করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Your personal, business or professional blog website is just a click away!

সময় নিউ্জ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *