বন্ধু তুই- সামি আহমেদ

সকাল ৭টার ট্রেনে সিলেট যাচ্ছে অপূর্ব।মোটামুটি সামনের বগিতেই সিট পেয়েছে সে। এসি কম্পার্টমেন্ট, তাই জানালা খোলার সুযোগ নেই। মৃদু বাতাস খাওয়ার সুযোগটা মিস  হয়ে গেল। “আরে অপূর্ব তুই,এখানে!” চমকে তাকাতেই দেখে তার মেডিকেল লাইফের প্রিয় বন্ধু দীপ্র। “আরে ব্যাটা তুই এখানে,”
আনন্দে বলে উঠল অপূর্ব। “হুম, ওসমানী মেডিকেলে জয়েনিং পরশু থেকে।” তুই কই যাস? জিগ্যেস করে,   দীপ্র।” এই তো ঘুরতে, “অপূর্ব বলে।  “চল দরজার কাছে যেয়ে সুখটান দিই একসাথে “,বলে একসাথে কম্পার্টমেণ্টের দরজার দিকে এগোতে থাকে দুইজন৷
সিগারেট ধরাতে ধরাতে  অপূর্ব বলে, ” ইন্টার্নির পর তো আর দেখাই হল না। কোথায় যে হারিয়ে গেলি তুই?” ” ইন্টার্ন এন্ডিংয়ের ওই ঘটনার পর তোর সাথে দেখা করার সাহস ছিল না রে”,   বলে উঠে দীপ্র । কথাটা বলতেই যেন অপূর্ব যেন ফিরে গেল ৬বছর আগের স্মৃতিতে।
২৪তম ব্যাচ ইন্টার্ন এন্ডিং প্রোগ্রাম। সবাই একসাথে বসে গল্প করছে অডিটোরিয়ামের সামনে। হঠাৎ করে শ্রিপ্রাকে পছন্দ করা নিয়ে দুই বেস্ট ফ্রেন্ড অপূর্ব আর দ্রীপের মধ্যে তুমুল মারামারি। ভুল বুঝাবুঝি এমন অবস্থায়  পৌছাল যে ৬বছরের বন্ধুত্বের সেখানেই ইতি ঘটল। আবার যেন বর্তমানে ফিরে এল অপূর্ব।
“তুই এত দিন ধরে এটা নিয়ে পড়ে আছিস।শিপ্রা তো দিন শেষে  রায়হান ভাইয়ের হাত ধরেই চলে গেল”। ভুল বুঝাবুঝির জন্য নিজেদের বন্ধুত্বটা আর মাটি না করি দোস্ত,  দিন শেষে বন্ধু তুই ই আমার।
লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ।
সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *