বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়; জেনে দিন কারণ সমূহ

অনলাইন ডেস্ক:

শেষ হাসিটা হাসল বাংলাদেশ। কি দুর্দান্ত এক ম্যাচ উপহার দিলো সাকিব,তামিম, মাশরাফিরা। এই জয়ের কোনও বিশেষণ নেই। টনটনে আজ বাঁচা-মরার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল টাইগাররা। উইন্ডিজদের দেয়া ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে বাংলাদেশের লেগেছে মাত্র ৪১.৩ ওভার।সমারসেটের টনটনে টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বোলিংয়ের। ক্যারিবীয়দের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরু থেকেই চেপে ধরে মাশরাফি-সাইফউদ্দিন। ইংনিসের চতুর্থ ওভারেই গেইলকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। বড় রান তাড়ায় ওপেনাররা এনেছিলেন ভালো শুরু। ওয়ান-ডাউনে সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের জুটিও জমে গিয়েছিল। কিন্তু হুট করে পরপর তামিম আর মুশফিকুর রহীম ফেরাতে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ থেকে দলকে টেনে তুলতে সাকিবের সঙ্গে দারুণ ব্যাট করে খেলা শেষ করে দেন লিটন দাস। ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে নামা লিটনের জন্য প্রশংসা ঝরল নায়ক সাকিবের কণ্ঠে।

সাকিব ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যদি রানের কথা বলেন, তাহলে ক্যারিয়ারের বেস্ট ফর্মে আছি। তা ছাড়া সবকিছু মিলিয়েই এই অবস্থানে আছি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। তবে এই সাফল্যের কারণ কি সেটা জানিনা। পরিশ্রম করছি বলেই হয়তো এমন পারফর্ম করতে পারছি।’

এমন সাফল্য পাওয়ার জন্য মানসিক দৃঢ়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার, ‘আসলে এমন সময়ে যুদ্ধটা নিজের সঙ্গে নিজকে করতে হয়। আর এই যুদ্ধে জিততে পারলেই সাফল্য আসে।’

দুই বছর পর ওয়ানডে টানা দুটি সেঞ্চুরি পাওয়া প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘দুই বছরের মধ্যে এক বছর তো আমাকে খেলতে হয়েছে পাঁচ নম্বর, তাই হয়তো সুযোগ আসেনি। আর সুযোগ পেলেও অনেক সময় কাজে লাগাতে পারিনি।’

এদিনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ছয় হাজার রানের মাইলফলক গড়েছেন সাকিব। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ২০২ ম্যাচে নয়টি সেঞ্চুরি ও ৪৪টি হাফসেঞ্চুরিতে ৬১০১* রান করেন তিনি।

এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল লক্ষ্য ৩২২ রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। টনটনে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সাত উইকেটে জিতেছে লাল-সবুজের দল। এই জয়ে ইতিহাস গড়েছে মাশরাফিরা। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতেছে তারা।

জুটিতে দুজনেই ছিলেন সাবলীল, ব্যাট করেছেন দাপট  নিয়ে। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও লিটন ক্রমেই মেলেন ডানা। ৬৯ বলে অপরাজিত থাকেন ৯৪ রানে। যাতে ৮ চারের সঙ্গে আছে ৪ ছক্কা। এর মধ্যে তিনটাই শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে মারা টানা তিন বলে। এই সময়ে লিটনের নান্দনিক ব্যাটিং আর শটের পসরা নন-স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে মুগ্ধ হয়ে দেখার কথা জানালেন সাকিব, ‘উইকেট খুব সহজ ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, যদি উইকেটে থাকতে পারিস, তাহলে খেলাটা শেষ করা যাবে। প্রথম ১০, ১৫ বল পর যেভাবে সে ব্যাট করল তা ছিল চোখ ধাঁধানো। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে আমি তার ব্যাটিং উপভোগ করেছি।’

বড় রান তাড়ায় সব সময়ই রান রেট ঠিক রাখার চাপ ছিল। মারকুটে লিটনের অ্যাপ্রোচের কারণে এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও সুবিধা পাওয়ার কথা জানান সাকিব, ‘এমন রান তাড়ায় সে কখনোই আমাকে চাপে পড়তে দেয়নি। এটাই তার ইনিংসের সেরা দিক বলব। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ, তিন-চার ম্যাচ দলের বাইরে বসে থাকার পর মাঠে নামা সহজ নয়। কিন্তু সে যেভাবে চাপ সামলেছে, তা ছিল দুর্দান্ত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *