বাংলাদেশে গূণীর সম্মান নেই – আসিফ আকবর

গান খেলা সাহিত্য অভিনয়ের মানুষরা সেলিব্রিটি হয় তার যোগ্যতা মানুষের ভালবাসা এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায়। মানুষ তাদের দেখে উদাহরন হিসেবে, যে কারনে একটা সামাজিক দারয়বদ্ধতা চলে আসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। মানুষ ধরেই নেয় সেলিব্রিটিরা সাধারন লেভেলের নয়, এ কারনে সবার প্রত্যাশা থাকে অসীম। বিশ্বব্যাপী সেলিব্রিটিরা নানান চ্যারিটি করে থাকেন মানুষের ভালর জন্য, কখনো মানুষের মুক্তির জন্য। পন্ডিত রবিশংকর জর্জ হ্যারিসনের মত কিংবদন্তীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বের কাছে যৌক্তিক প্রমান করতে সচেষ্ট ছিলেন এবং তারা সফলও হয়েছেন।আন্তর্জাতিক ফোকাসের পাশাপাশি আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অমর শিল্পীদের ভূমিকা ছিল গৌরবময়। জীবনের মায়া পরিত্যাগ করে গান গেয়ে উজ্জীবিত করেছেন স্বাধীনতাকামী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। উনাদের অনেকে আবার সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন বীরত্বের সাথে।
আইকনিক সেলিব্রিটিরা নিজ দেশকে গর্বের সাথে রিপ্রেজেন্ট করে বহির্বিশ্বে।অনেক সময় দেশের নাম না জানলেও তারকার নামেই দেশকে চেনে বিশ্ব। ঐ দেশের পাশে আমার দেশ কিংবা ম্যাপে আঙ্গুল দিয়ে চেনাতে হয়না। যেমন অ্যান্থনী নেস্টি সুরিনামের সাতারু, অলিম্পিকে গোল্ড পাওয়ার কারনেই দক্ষিন আমেরিকার দেশটি সম্বন্ধে জানতে পারি আমি। আন্তর্জাতিক তারকারা হচ্ছেন দেশের পতাকা। যেমন শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা আপা, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া সাতারু ব্রজেন দাস,  নোবেল লরিয়েট ডঃ ইউনুস ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ্যাম্বাসেডর। সারা পৃথিবী তাদের আইকনদের মাথায় করে রাখে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসাবে। বাংলাদেশে যদিও গুণীর সম্মান নাই তবুও ঘটনা সত্য, কিছু কারনও আছে। তারকাদের কাছে দেশপ্রেম আশা করে জনগন। যেমন চীনের সাথে ঝামেলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় তারকারা চীনের পন্য বর্জনের জন্য যার যার এঙ্গেল থেকে প্রচারনা চালাচ্ছে। এটা দেশের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শনের একধরনের শপথ। অন্য সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সাথে ভারত বাস্তবে ক্রমাগত মার খেয়েও তাদের নায়কদের দিয়ে মুভি বানিয়ে দেখাবে তারা ব্যাপক বীরের জাতি।
আজকেও নওগাঁয় ভারতীয়  বিএসএফের রুটিন নির্যাতনে আমাদের এক নাগরিক নিহত হয়েছে। দেশের কোন অঙ্গনের সেলিব্রিটিদের দেখিনা এই সীমান্ত হত্যা নিয়ে প্রতিবাদ করতে। উত্তাল বায়ান্ন ঊনসত্তর একাত্তরে শিল্পীরা ছিলেন আন্দোলনের অগ্রভাগে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রেখেছেন অসামান্য অবদান। দেশের স্বার্থের প্রতি কথিত এই তারকাদের উদাসীনতার কারনে একটা উৎকট প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে। তারা দেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ’র নাম না জানলেও সালমান খানের নাম জেনে পান্ডিত্য জাহির করে।
সূত্রঃ লেখকের পোস্ট।   
সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *