বাংলার হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

একটি নামই একটি দেশ । যে নাম শুনলে নত হয়ে আসে ১৬ কোটি মানুষের হৃদয় । বাংলার মানচিত্রে ও পতাকায় যে মানুষটা অদৃশ্য মুখশ্রী আঁকা, তিনি আর কেউ নন আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু । জাতীর মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান ।

বাংলাদেশ মানেই শেখ মুজিব, শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ । বিশ্বের যে কোন প্রান্তে শেখ মুজিবের নাম বললে আলাদাভাবে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে হয়না । তদরুপ বাংলাদেশের নাম বললে আলাদাভাবে শেখ মুজিবুরের নাম বলতে হয়না । এই দেশের মাটি, জলে, আলো ও হাওয়ায় মিশে আছেন তিনি । তাঁকে ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশের কথা
কল্পনা করা যায়না । তিনি হলেন বাংলার জনগণের জপমন্ত্র পূর্ণনামের আরাধনা । ৫৬ হাজার বর্গমাইলের অদৃশ্য এক আয়না । যেখানেই চোখ রাখা যায় সেখানেই ভেসে উঠে প্রিয় জনকের অসামান্য মুখোচ্ছবি ।

তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন । পাকিস্তানী সরকার শেখ মুজিবকে স্তব্ধ করে দেওয়াসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। কিন্তু তিনি তাতে দমে যাননি বরং ১৯৬৬ সালে ৬দফা দাবী পেশ করলে পাকিস্তানী সরকার ভয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় । তাতে বাংলার জনগন ফুসে উঠে এবং ১৯৬৯ তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় । বাধ্য হয়ে পাকিস্তানী সরকার মুজিবকে মুক্তি দিয়ে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন । নির্বাচনে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের নিরংকুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করলেও মুজিবের হাতে ক্ষমতা অর্পন না করে টালবাহানা শুরু করে ।

শেখ মুজিব ৭ মার্চ ঢাকা রেইস কোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক ভাষণ দেন । পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন । প্রায় ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হয় । বিজয়ের আনন্দে লাল সবুজের পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো বাংলাদেশ ।

দেশ স্বাধীন হলে সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট পরিচালনার উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করার মাধ্যমে যুদ্ধে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুর্নগঠনে আত্মনিয়োগ করেন । কিন্তু চার পাশে যে দেশ বিরোধী চক্র উৎপেতে আছে তা জানা স্বত্বেও মহৎ প্রাণ শেখ মুজিব তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন ।ফলশ্রুতিতে একদিন তাদের হাতেই শেখ মুজিব স্ব-পরিবারে হত্যার স্বীকার হন । স্বাধীনতা ৪৯ বছর অতিবাহিত হলে দেশ বিরোধীচক্র এখনো আগেরমত সক্রিয় । এদের চিহ্নিত করা বেশ কঠিন হলেও শেখ মুজিব
কণ্যা শেখ হাসিনা এদের মুলোৎপাটনে বদ্ধপরিকর । আমাদের বিশ্বাস শেখ তনয়া একদিন বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করবে ইনসাল্লাহ্ ।

শেখ মুজিবের স্বপ্ন ছিল দেশকে স্বাধীন করে ক্ষুদ্র ও দরিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা । তারই ধারাবাহিকতায় তিনি পল্লী উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন যা পল্লী এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচনে বিরাট ভুমিকা রয়েছে । এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্তৃক ১৯৭২ সালে এশিয়া অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীনদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের উন্নয়নে সুপারিশমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে একটি ষ্ট্যাডি প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয় । ১৯৭৪ সালের সুপারিশ অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৭৫-৭৬ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি আওতায় Small Farmers and Landless Labourer Development Project (SFDP) শীর্ষক একটি প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হয় । এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি সূচনা হয় । কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবরকে হত্যা করে দেশে এক কলংকজনক অধ্যায়ের সূচনা হয় । ফলে প্রকল্পটিও বাধাগ্রস্থ হয় । ক্ষমতা পালাবদলে দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ মুজিবের যোগ্য উত্তরসুরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রকল্প, ক্ষুদ্র কৃষক ও ভুমিহীন উন্নয়ন প্রকল্পটি একটি ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন । এরই ধারাবাহিতকায় সরকার কর্তৃক টাক্স ফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনের আওতায় প্রকল্পটি ২০০৫ সালে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন লিমিটেড নামে কোম্পানীতে রূপান্তর হয় । উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিনা জামানতে একেবারে সহজ ও সবচেয়ে কম সুদে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে আয় ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পল্লী এলাকায় ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।

এ ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানটি পল্লী এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবারের কল্যাণসহ অন্যান্য উৎপাদন বৃদ্ধিমূলক উন্নয়ন কার্যক্রমে ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারকে সহযোগিতা প্রদান করে । যেহেতু বাংলাদেশ একটি কৃষি ও গ্রাম প্রধান দেশ সেহেতু কৃষকদের টেকসই উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশে কখনোই ডিজিটালে বাংলাদেশে রূপ নিতে পারেনা । তাই উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বঙ্গবন্ধ সোনার বাংলা গড়তে বদ্ধপরিকর ।

লেখকঃ—- 

মো: আশরাফ চঞ্চল
সিনিয়র মাঠ কর্মকর্তা
উপজেলা কার্যালয়
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ। 

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *