বাগমারায় জমে উঠেছে ফুটপাতের কেনাবেচা

বাগমারা প্রতিনিধি:

স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপথ হলেও এখন সবাই ঝুঁকছেন ফুটপাতের দিকে। আর ফুটপথেই মিলছে তাদের চাহিদামত শীতের রকমারী পোশাক। তুলনামূলক কম দামে পছন্দমত পোশাক কিনতে তাইতো ফুটপথে ভীড় করছেন ক্রেতারা। এ দিকে ভবানীগঞ্জ বাজারে হকারদের বসার নিদৃষ্ট জায়গা না থাকায় দূর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন হকাররা ভবানীগঞ্জ গরুটাহায় চাটি বিছিয়ে ব্যবসা করলেও তারা আশংকা করছেন হাটবারে তাদের ব্যবসার কথা চিন্তা করে। তবে হাট মালিকরা হকারদের দুশ্চিন্তার কারন নেই জানিয়ে বলেছেন তাদের জন্য বিকল্প বসার ব্যবস্থা অচিরেই করে দেওয়া হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভবানীগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে শীতের বিভিন্ন পোশাক নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানী। এখানেই মিলছে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী পুরুষের শীতের রকমারী পোশাক। বিশ টাকা থেকে শুরু করে হাজার বারশ’ টাকার পোশাক রয়েছে এসব দোকান গুলোতে। রয়েছে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত পুরানো পোশাক আশাক। তবে পুরানো কাপড়ের চাইতে নতুন কাপড়ের প্রতি ঝোক বেশি ক্রেতাদের। কারণ এসব ফুটপথের দোকানগুলোতে নতুন কাপড়ের দাম তুলনামূলক সস্তা এবং আকর্ষনীয় ডিজাইন হওয়ায় এগুলো সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

হামিরকুৎসা থেকে তিন বছর বয়সী নাতনীর জন্য শীতের পোশাক কিনতে এসেছেন আব্বাস আলী। তিনি জানান, মাত্র একশ টাকা দিয়ে তার নাতনীর জন্য জামা পায়জামা মিলে তিন জোড়া পোশাক কিনেছেন। এছাড়া একই বাজার থেকে তার স্ত্রীর জন্য মাত্র একশ সত্তর টাকা দিয়ে একটি সোয়েটার কিনেছেন।

কাপড় বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ও মোজাহার হোসেন জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা এখানে দোকান খুলে বসেন। হাটের দিন তাদের কারো কারো বেচা বিক্রির পরিমান ত্রিশ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে অন্যান্য দিন বিক্রির পরিমান দাঁড়ায় দশ থেকে পনের হাজার টাকা। ফুটপাতের এসব ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ঢাকা নারায়নগঞ্জ সহ বড় বড় শহর থেকে এক সঙ্গে কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে সব বয়সী নারী পুরুষের বিভিন্ন পোশাক কিনে আনেন।

এতে তাদের পাইকারী মূল্যে ও পরিবহন খরচে অনেক সাশ্রয় হওয়ায় তারা স্বল্প মূল্যে সেগুলো বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া ফুটপাত হওয়ায় তাদের দোকান ভাড়াও নেই শুধু হাটের ইজারাদারদের সামান্য কিছু দিলেই চলে। এসব মিলে তাদের ব্যবসা বেশ ভালোই চলছে। তবে শীত আরো জেঁকে বসলে তাদের বেচা বিক্রি আরো জমে উঠবে বলে তাদের প্রত্যাশা। ফটপাতের এসব ব্যবসায়ীরা জানান, ভবানীগঞ্জ বাজারে তাদের জন্য নিদৃষ্ট কোন জায়গা নেই । আজ এখানে কাল সেখানে মালপত্র নিয়ে তাদের দৌড়ঝাপ করতে হয়। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে তাদের দূর্ভোগের শেষ থাকে না। তারাও হাট মালিক ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবসা করার স্থায়ী জায়গার দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার রহিদুল ইসলাম জানান, এসব ব্যবসায়ীদের জন্য ভবানীগঞ্জ মেডিকেল সাব সেন্টার এলাকায় অস্থায়ী বসার জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। অচিরেই তাদের বসার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী লিটন মিয়া বলেন, হকারদের জন্য বিকল্প একটি বসার জায়গা করার জন্য আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। পৌর মেয়র আব্দুল মালেক মন্ডল বলেন, হকারদের হতাশার কারণ নেই। তাদের বসার জায়গা অচিরেই করে দেওয়া হবে।

সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *