বাঞ্ছারামপুর শফিকুল ইসলামের মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শাহিন আহমেদ সাজু,বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি।
দেশের মানুষ যখন করোনা ভাইরাসে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তখন এক শ্রেণীর মানুষ  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  ঈদ উপহার গরিব মানুষকে দিচ্ছে। কিছু ইউপি সদস্য সহ নানান পেশার মানুষ অসহায় মানুষকে পুঁজি করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার  আত্মসাৎ করে নিচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্যের বিরুদ্ধে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ উপহারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওয়ার্ডের ত্রাণ কমিটির ৯ জন সদস্য ও এক ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত  টিম গঠন করেছেন। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার  ঈদ উপহার নগদ আড়াই হাজার টাকার অর্থ সহায়তা দিতে ৯ হাজার ৩২০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের ৬৫২ জন এই সহায়তা পান।
এরই এক পর্যায়ে ১ ও ২ জুন হতদরিদ্র বিপ্লব মিয়া ও এই ওয়ার্ডের ত্রাণ কমিটির সদস্যরা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই ওয়ার্ডের ত্রাণ কমিটির সদস্যদের অভিযোগ- প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে হতদরিদ্র মানুষের তালিকা প্রনয়ন করেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিপ্লবের করা অভিযোগে বলা হয়, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ উপহারের ২ হাজার ৫শ টাকা পেতে ঘুষ নিয়েছেন তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। কিন্তু  তার নাম অন্য কোন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় শফিকের কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন।
৮ নং ওয়ার্ডের ত্রাণ কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, ত্রাণ কমিটির সাথে আলোচনা না করেই শফিকুল ইসলাম এমন অপকর্ম করেছেন।অভিযোগকারী হতদরিদ্র বিপ্লব মিয়া জানান, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঈদ উপহারের ২ হাজার ৫শ  টাকা দিতে তার কাছ থেকে  ঘুষ নিয়েছেন। তালিকায় তার নাম যুক্ত করার কথা বললেও তা তিনি করেননি।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি।অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযো করা হয়েছে এটা সত্য নয়, এটা আমারা বিরুদ্বে চক্রান্ত করা হচ্ছে, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রিপন বলেন, অভিযোগকারীকে ডাকা হয়েছিলো বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। অভিযুক্ত আসলেও, অভিযোগকারীরা আসেনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান নৌশাদ মাহমুদ বলেন, ’ইএনও স্যার ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দুটি অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই বিষয়টির তদন্তকাজ শুরু করব। ’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার জানান, দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের ইউপির এক সদস্যের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগ  পাওয়াগেছে, তিন সদস্যের এক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়নিঊজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *