বিদ্যুতের খুঁটি ‘বাঁশ’ দিয়ে পেলা; সংবাদকর্মীর ফোনে মেরামত

Jetpack
আব্দুল লতিফ তালুকদার, (ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সারপলশিয়া গ্রামে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে একটি বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি রাস্তার উপর হেলে পড়েছিল। এতে করে রাস্তা দিয়ে চলাচলে ঝুঁকিতে ছিলেন এলাকার মানুষ। রাস্তায় মধ্য হেলে পড়া খুঁটির ২০ মিটার দূরেই রয়েছে একটি মসজিদ। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী গ্রামে রাস্তার সাথে সিরাজকান্দি বাজার, স্কুল-মাদরাসাও রয়েছে। যাতায়াতের জন্য ওই রাস্তাই ভরসা এলাকাবাসীর।

এদিকে, রাস্তার পাশে বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি হেলে পড়ে থাকার বিষয়টি দায়িত্বরত বিদ্যুৎ লাইনম্যান খলিল কে জানালে সে কোনো কথায় পাত্তা দিচ্ছে না বলেও জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সারপলশিয়া গ্রামের আঞ্চলিক রাস্তার পাশে বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি পড়ে থাকার বেহাল দশার চিত্র দেখা যায়।

 

ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির এমন বেহাল দশার চিত্র চোখে পড়লে শনিবার দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও সকালের সময় ও বিডি২৪লাইভ ডটকম এর প্রতিনিধি ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। আমি অফিসের লোকজন পাঠিয়ে দিচ্ছি ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি ঠিক করার জন্য। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণও করলেন। কিছুক্ষণ পর ভূঞাপুর বিদ্যুৎ অফিসের সাব-ইঞ্জিনিয়ার মো. ইবরাহীম সংবাদকর্মীকে ফোন করে এলাকার নাম জেনে সরেজমিনে যান।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির কাজ সম্পূর্ণ করেন ভূঞাপুর বিদ্যুৎ অফিস। নিশ্চিত করেছেন ভূঞাপুর বিদ্যুৎ অফিসের সাব-ইঞ্জিনিয়ার মো. ইবরাহীম এর আগে রাস্তার মধ্যে পড়ে খুঁটির পাশে দুর্ঘটনার আতঙ্ক ও প্রাণহানি ঝুঁকিতে থাকা ভুক্তভোগি সারপলশিয়া গ্রামের মো. আব্দুল আলিমসহ কয়েকজন বলেন, গত কোরবানি ঈদের আগে খুঁটির গোড়া থেকে বন্যার পানিতে মাটি ধসে যায়। পরে এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি ঈদের দিনই হেলে পড়ে রাস্তার মধ্য। নিজে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশ দিয়ে ঠিকনা দিয়ে রেখেছি। তাছাড়া খুঁটি সোজা করতে ও উঁচু স্থানে সরাতে বিদ্যুত লাইনম্যানদের বললেও এটা সরাতে কয়েক হাজার টাকা দাবি করেন।এলাবাবাসীরা টাকা না দিতে পারায় খুঁটিও সরাচ্ছে না তারা।

ওয়ার্ড মেম্ববার নূহ আলম মন্ডল (নূহু) বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওই হেলে পড়া খুঁটি সরাতে বিদ্যুত লাইনম্যানদের অনেক বার বলা হয়েছে। তাদের বলার পরেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। হেলে পড়া খুঁটির কারণে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার আতঙ্কিত হয়ে আছেন।

ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক আরোও জানান, ওই গ্রামে রাস্তার উপর বিদ্যুৎ লাইনের যে খুঁটি পড়ে রয়েছে এ বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। আপনাদের (সংবাদকর্মী) মাধ্যমে জানতে পারলাম। দু’এক দিনের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ওই এলাকার বিদ্যুৎ লাইনম্যানের কাছে স্থানীয়া খুঁটির বিষয়ে বলার পরেও লাইনম্যানরা কেন বিদ্যুৎ অফিসকে জানায় নি সেটিও ক্ষতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Jetpack

সময় নিউজ্২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *