ভিক্টোরিয়া কলেজ লাইব্রেরি; উদ্বোধনের ৩১ মাসেও সম্পন্ন হয়নি অনলাইন ক্যাটালগ

আবু সুফিয়ান।।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শতবর্ষী এ বিদ্যাপিঠে ৬৩ হাজারেরও অধিক বই রয়েছে। ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট সংস্কারকৃত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও অনলাইন পাবলিক একসেস ক্যাটালগের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের ৩১ মাস পরও কোন কাজ হয়নি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির। লাইব্রেরির জন্য শিক্ষার্থী থেকে প্রতি বছর মাথাপিছু ২৫ টাকা আদায় করা হয়।

রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাত চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল এ সময়ে অনলাইন ক্যাটালগ খুবই জরুরি। হাজার হাজার বইয়ের মধ্যে কাঙ্খিত বইটি সহজে পাওয়া যাবে।কলেজের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র মহিউদ্দিন আকাশ বলেন, তিন বছরের অনলাইন ক্যাটালগের কাজ হয়নি। বিষয়টি দুঃখ জনক। আমরা প্রতিবছর ২৫ টাকা করে লাইব্রেরি ফি দিচ্ছি। বিভাগের সেমিনারে আবার পৃথক ফি জমা দিচ্ছি।

সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, ২০১৮ সালে অনলাইন ক্যাটালগের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর আর কোন কাজ হয়নি।কলেজের লাইব্রেরি কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন সিটি নিউজকে বলেন, উদ্বোধনের সময় অনলাইনে শুধু একটি বই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আর কোন কাজ হয়নি। লাইব্রেরির নতুন কমিটি হয়েছে। লাইব্রেরিকে সুন্দর ও ডিজিটাল করার জন্য আমরা অধ্যক্ষ স্যারের নিকট
প্রস্তাবনা দিয়েছি। নতুন আরও বই সংযোজন করা হবে।

সকল বইয়ের তালিকা অনলাইনে থাকবে। বিভিন্ন অনলাইন লাইব্রেরির সাথে আমদের চুক্তি থাকবে, যেন বিনামূল্যে ই-বই পড়া যায়। শিক্ষাক-শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কর্নার থাকবে। পত্রিকা সংখ্যা বাড়ানো হবে। আরেকটি বিষয় হলো, একটি লাইব্রেরিতে যতো বেশী পুরাতন বই থাকবে, তা ততো সমৃদ্ধ হবে। শতবর্ষী এ কলেজে অনেক পুরাতন বই আছে, যা সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। শতশত বই লাইব্রেরির সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা তা বাঁধাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া  বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর লাইব্রেরিকে এ অবস্থয় পেয়েছি। করোনার কারণে দীর্ঘ দিন কলেজ বন্ধ ।লাইব্রেরিকে ডিজিটাল করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন আমাদের সব পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষে কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *