ভূঞাপুরে এক তারে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, ঘুষ নেয়ার অভিযোগ!

আব্দুল লতিফ তালুকদার
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ লাইন সংযোগ দিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক  গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভূঞাপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কর্তাদের বিরুদ্ধে। এক তারে সংযোগ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও উপজেলার রায়ের বাসালিয়া গ্রামে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ অফিস।

এভাবে বিদ্যুৎ পেতে ওই বিদ্যুৎ অফিসের দালাল কাবিল ও হায়দার আলি গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে কর্তাদের দিয়েছেন বলে তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার রায়ের বাসালিয়া এলাকায় ওই দালাল চক্রটি বিদ্যুৎ অফিসের কর্তাদের যোগসাজশে খুঁটি বিহীন এক তারের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্ধশত মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। এতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি হাতিয়ে নেয়া হয় গড়ে ১৫ হাজার টাকা।

সরেজমিনে উপজেলার রায়ের বাসালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হায়দার আলী সরকার ও কাবিল হোসেন  (ছোট বাবু) দুই পক্ষ বিদ্যুৎ অফিসের কর্তাদের ম্যানেজ করে রায়ের বাসালিয়া বাজার মোড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এক তারের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। সহকারী প্রকৌশলী পূর্ণচন্দ্র পাল ও অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পিডিবির পুল থেকে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এক তারের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

পরে ওই দুই গ্রুপ ও বিদ্যুৎ অফিসের সাথে আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে হায়দার আলী গ্রুপের লোকজন কাবিল হোসেনসহ কয়েকজনের মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় । এ নিয়ে কাবিল হোসেনের মা বাদী হয়ে গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বলে জানান তারা।

এবিষয়ে হায়দার আলী বলেন, ভূঞাপুর পিডিবির বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী পূর্ণ পালসহ অফিসের কয়েকজনের মাধ্যমে বিদ্যুতের খুটি স্থাপন ও তারের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানানো হয়। এরপর কাবিল হোসেন এক তারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫/২০ হাজার টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কর্তাদের ম্যানেজ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।

অবৈধভাবে এই মিটার সংযোগ ও টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। পরে বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী পূর্ণ চন্দ্র পাল লাইনগুলো কেটে দিতে বলে।

এবিষয়ে ছোট বাবু বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। নিজের টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানানো হয়েছে। গ্রামের হায়দার, মিন্টুসহ অনেকেই মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তারে মিটার বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছেন। তারা আমাদের বাড়ির লাইনসহ কয়েকজনের মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। পরে পুলিশ এসে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।

ভূঞাপুরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (পিডিবির) সহকারী প্রকৌশলী পূর্ণ চন্দ্র পাল একতারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। যারা অভিযোগ করেছে তারা মিথ্যা বলেছে।

ভূঞাপুরে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (পিডিবির) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক একতারে সংযোগ দেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি একবার বলেছেন ‘আছে’ অরেকবার বলেছেন ‘নাই’। পরে ঘুষ গ্রহণ করে একতারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন স্থানীয়দের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মিথ্যা, বানোয়াট বলে ব্যস্ততার অজুহাতে আর বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *