ভৈরব  ঘুষ নিয়ে মাদক কারবারীকে ছেড়ে দেওয়ায়  শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বদলি,

রাজিবুল হক সিদ্দিকী , কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: সেলিম মিয়াকে বদলি ও এএসআই মো: আরিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর রাতে লাখ টাকার বিনিময়ে মাদক কারবারি মাইগা আলম ও সুমিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি গতকাল সোমবার দুপুরে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহিন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। অভিযুক্ত শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: সেলিমকে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কাঠখাল পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয় এবং এএসআই আরিফকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনস এ নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ডিসেম্বর রাতে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সেলিমের নেতৃত্বে এএসআই আরিফসহ পুলিশের একটি টিম পৌর এলাকার পঞ্চবটি পুকুরপাড়ের চিহ্নিত মাদক কারবারি মাইগ্যা আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাইগ্যা আলম ও সুমি নামের দুই মাদক কারবারিসহ আরো ৪ যুবককে আটক করেন। এসময় ফেন্সিডিলের ৫টি খালি বোতল জব্দ করা হয়। কিন্তু এঘটনায় রাতেই অভিযানের নেতৃত্বকারী শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: সেলিম মিয়ার ঘটনাস্থলেই মাদক কারবারি মাইগ্যা আলম ও সুমিকে ১লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়।
পরে তার পুলিশের সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে রাতেই পুলিশকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং আটককৃত ৪ যুবককে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর শর্তে বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার মৌখিক চুক্তি হয় ইনচার্জ সেলিম মিয়ার সাথে। পরদিন সকালে ওই চার যুবককে ৩৪ ধারায় চালান না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালাতের প্রস্তুতি নিলে মাদক কারবারি মাইগ্যা আলম ও সুমি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে পুরো ঘটনা প্রকাশ করে দেয়। এ ঘটনায় তখন ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার বৃথা চেষ্টা করেন।
পরে এঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নজরে আসলে এর সত্যতা যাচাই করতে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তকারি কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পুলিশ সুপারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করার পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এএসআই আরিফকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: সেলিমকে গত রবিবার কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কাঠখাল পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *