//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js


মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হলে নারীশিক্ষার হার বাড়াতে হবে : মাতৃত্ব দিবসে চট্টগ্রামে জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
‘মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হবে যেতে’এ স্লোগান নিয়ে শনিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম নুরুল উলূম মাদ্রাসায় নানা আয়োজনে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সুচিকিৎসার বাস্তবায়নের একমাত্র সংগঠন জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে সংগঠনের উপদেষ্টা ডা.শাহাদাৎ হোসাইন’র সভাপতিত্বে পালিত হয়েছে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট গবেষক ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা জেলা শাখার আহবায়ক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা শাখার আহবায়ক ডা.বেলাল হোসাইন,সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক ডা.আনসার আলী।
নোয়াখালী জেলা শাখার আহবায়ক আনোয়ার হোসাইন সুমন’র সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডা.রফিকুল ইসলাম, রেবেকা আক্তার, শেলিনা আক্তার সহ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি ডা.এম এম মাজেদ তার বক্তব্যে বলেন একজন নারীর জীবনে পূর্ণতা আনে মাতৃত্বের স্বাদ। আর সে মাতৃত্বকে নিরাপদ করতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১৯৮৭ সালে কেনিয়ায় নাইরোবি কনফারেন্স এ নিরাপদ মাতৃত্বের ঘোষণা করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ২০০০ সাল নাগাদ ৫০ % মাতৃমৃত্যু কমানো।
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়। ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ উদ্যোগ টেকসই উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতি বছরের মতো এবারও ২৮ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস।  এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হবে যেতে’
আর একজন গর্ভবতী মা গর্ভধারণের পর থেকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। শুধু মা – ই নন, মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুরও যত্ন প্রয়োজন, যাকে বলা হয় গর্ভকালীন সেবা। এই গর্ভকালীন যত্নের লক্ষ্য হলো মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং গর্ভজনিত কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা । এককথায় মায়ের স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি না করে পরিবার , সমাজ ও দেশকে একটি সুস্থ শিশু উপহার দেয়া। আর তাই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।  পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৮৬-৯০ সালে প্রতি লাখে ৫৭৪ জন, ১৯৯১-৯৫ সালে ৪৮৫ জন, ১১৯৬ সালে ৪৪৮ জন, ১৯৯৮-২০০০ সালে ৩২২ জন, ২০০৭ সালে ২৯৮ জন, ২০১০ সালে ১৯৪ জন, ২০১৫ সালে ১৭৬ জন, ২০১৮ সালে ১৬৯ জন এবং ২০১৯ সালে ১৬৫ জন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়।আর গর্ভধারণ এবং প্রসবজনিত জটিলতায় প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার নারীর মৃত্যু হয়। ২৬ লাখ মৃত সন্তান জন্মসহ প্রায় ৩০ লাখ নবজাতক মারা যায়। প্রতিদিন বিশ্বে নিরাপদ মাতৃত্বের অবহেলায় ৮শ’ জন মাকে জীবন দিতে হয়।
 ডা.মাজেদ আরও বলেন,বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ হাজার ৭২০ মা এবং প্রতিদিন গড়ে ১২-১৩ জন মা মৃত্যু বরণ করেন প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবার অবহেলা আর অসতর্কতার কারণে। আর গত ১০ বছরে মাতৃমৃত্যু হার কমেছে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে প্রায় ৯৪ জন। যদিও গত ১০ বছরের পরিসংখ্যানে কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ৭০ জনের নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে গেছে। মায়েদের হোম ডেলিভারিতে নিরুৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। বন্ধ করা হচ্ছে যত্রতত্র ও অস্বাস্থ্যকর ক্লিনিকে মায়েদের ডেলিভারি। নিপোর্টের গবেষণায় বলা হয়, দেশের মাতৃমৃত্যু হারের কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষরণে ৩১ শতাংশ, একলামশিয়া ২৪ শতাংশ, পরোক্ষ কারণে ২০ শতাংশ, অনির্ধারিত কারণে ৮ শতাংশ, গর্ভপাত জটিলতায় ৭ শতাংশ, অন্যান্য কারণে ৭ শতাংশ এবং অমানসিক শ্রমে ৩ শতাংশ মৃত্যু হয়। যে অবস্থা পরিবর্তনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।পরিবর্তন এসেছে পরিবার পরিকল্পনার সূচকেও। ২০১৯ সালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩২ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৫ সালে যা ছিল ১.৩৭ শতাংশ। এ ছাড়া ঝরে পড়া ও অসম্পূর্ণ প্রয়োজনের (আনমেট নিড) হারও বেশ হ্রাস পেয়েছে। যা ছিল যথাক্রমে ৩৭ শতাংশ ও ১২ শতাংশ। প্রজনন সক্ষম (১৫-৪৯ বছর) নারীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির প্রতি সন্তুষ্টির হার ৭৭.৪ শতাংশ। যা আগে ছিল ৭২.৬ শতাংশ (এসভিআরএস-২০১৪)। শুধু অর্থনৈতিক সূচক নয়, বাংলাদেশ গত পঞ্চাশ বছরে মানবসম্পদ সূচকেও গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি করেছে। জাতিসংঘের সূচকে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৭৩.২ শতাংশ। এই সূচকের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মূলতঃ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫৩ জন। যেটি ২০১৮ সালে এসে প্রতি হাজারে মাত্র ২২ জনে নেমে আসে। এছাড়া বিবিএস ১৯৮১ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দিয়েছে প্রতি হাজারে ২শ ১২ জন। যেটি ২০১৮ সালে হয়েছে প্রতি হাজারে ২৯। ১৯৯১ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ৪.৭৮ শতাংশ। সেটি এখন ১.৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
রক্তক্ষরণ এবং একলাম্পশিয়াকে মাতৃমৃত্যুর প্রধান দুটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন । এ দুটি বিষয়ই প্রতিরোধযোগ্য। এছাড়া, উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস পরোক্ষভাবে মাতৃমৃত্যুর অন্যতর কারণ বলে জানান।তাই মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হলে নারীশিক্ষার হার বাড়াতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
%d bloggers like this: