মোংলার বহুল আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার ৭ কার্য দিবসের মধ্যে রায়, আসামির যাবজ্জীবন ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মাসুদ রানা,মোংলাঃ
মোংলার বহুল আলোচিত ৭ বছরের শিশু ধর্ষন মামলার রায়ে একমাত্র আসামি আবদুল মান্নান সরদারকে (৫৩) যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় সোমবার দুপুরে এ ধর্ষণ মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণা করে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবদুল মান্নান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রোববার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে সোমবার রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারক।
দেশে শিশু ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ফৌজদারি মামলায় এত কম সময়ে বিচারকাজ শেষের নজির এটিই প্রথম। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিচারাঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মোংলা উপজেলার মাকড়ঢোন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় পিতৃহীন সাত বছর বয়সী এক শিশু তার মামাবাড়িতে থেকে বড় হচ্ছিল। গত ৩ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে মাদ্রাসা পড়–য়া এক শিশুকে ঘরে নিয়ে ধর্ষন করে মান্নান (৫০) নামের এক ব্যাক্তি। ধর্ষীতা ওই শিশুর ডাক চিৎকারে এলাবাসী ছুটে এসে হাতে-নাতে মান্নানকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে পুশিশ তাকে গ্রেফতার করে। আটক মান্নান তিন সন্তানের জনক এবং একই এলাকার আহাম্মাদ সরদারের ছেলে। এর পর পরই ধর্ষণের শিকার অসুস্থ্য ওই শিশুকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করে পুলিশ। এব্যাপারে  শিশুটির মামা মিলন শেখ বাদী হয়ে মান্নান সরদারকে আসামী করে মোংলা থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। মামলার দায়েরের পর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরীর নির্দেশনায় মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক বিশ্বজিৎ মুখার্জ্জী উপর। মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে এসআই বিশ্বজিত মুখার্জ্জী ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করার পর চার্জ গঠন করে। বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলাটি গুরুত্বে সাথে বিবেচনা করে বিচার কার্য শুরু করে। ১৩ অক্টোবর ১৬ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং ১৫ অক্টোবর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া পর ১৮ অক্টোবর রোববার বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে সোমবার রায়ের দিন ধার্য করে আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মুখার্জি ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে আট দিনের মাথায় আবদুল মান্নানের বির“দ্ধে ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল জানান, মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে পাঠান। আদালতের বিচারক গত ১১ অক্টোবর মামলাটি আমলে নিয়ে পরদিন অভিযোগ গঠন করেন। ১৩ অক্টোবর বাদীপক্ষের মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ১৪ অক্টোবর মামলার সংশ্লিষ্ট সাক্ষী চিকিৎসক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। ১৫ অক্টোবর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। রোববার বিকেলে বিচারক দীর্ঘ সময় বাদী ও বিবাদীপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে সোমবার রায়ের দিন ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, মামলাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে আদালতে রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়ে থাকবে।
এদিকে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ধর্ষিতা শিশুটির মা স্বজনসহ এলাকাবাসী।
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *