মোংলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে মাঠে নেমেছে নৌবাহিনী

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বুধবার দুপুরে মোংলা নদীর ফেরীঘাট থেকে নৌ-সেনাদের বহর ও গাড়ী সহ শহরে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর সদস্যরা। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও এম্বুলেন্স সহ নৌবাহিনীর দুটি প্লাটুন নৌ-সেনা কাজ করবে মোংলা বন্দর ও পৌর শহর সহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাত মান্নান জানায়, মঙ্গলবার লেফটেন্যান্ট সালাউদ্দিন মাহমুদ’র নেতৃত্বে নৌ-বাহিনীর দু-প্লাটন নৌবাহিনীর সদস্যরা মোংলায় এসেছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয় তারা। এরপর মোংলা বন্দরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল দেওয়া শুরু করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করবে। নৌ-সেনাদের এ টহলে মোংলা উপজেলায় বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারাইন্টাইনের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন তারা।

এছাড়াও বাজার মনিটরিং ,দরিদ্র মানুষকে সহায়তায় কাজ করবে এখানকার টহলরত নৌ-সেনারা। মোংলা উপজেলায় দুই প্লাটনের বেশ সংখ্যাক নৌ-সেনা সদস্যের দুটি ভাগে ভাগ হয়ে এখানে অবস্থান করবেন বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন। মোংলা বন্দরসহ উপজেলার এই এলাকায় ইতালী, সিঙ্গাপুর, বাহারাইন ও ভারত সহ বিভিন্ন দেশ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩শতাধিক প্রাবাসী মোংলায় অবস্থান করছে।

ইতিমধ্যে তাদের ভিতর থেকে কয়েকজন ব্যাতিত প্রায় সংখ্যাক প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে রেখেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বন্দর চ্যানেলে বঙ্গোপসাগর মোহনা আউটারবার ড্রেজিং প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত চিনা কোম্পানীর প্রতিনিধি ও ইপিজেডে চিনা কয়েকটি কোম্পানীর কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে।

এখানের এ সকল প্রতিষ্ঠানে পুর্বে থেকে অবস্থান নেয়া ১৩৩জন চিনা নাগরিককেও নজরদাড়ীতে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বন্দরের আউটারবার ডেজিং এর কাজে নিয়োজিত চিনা নাগরিকদের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত খবর পাওয়ার সাথে সাথে বঙ্গোপসাগর মোহনায় তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা কি অবস্থায় রয়েছে তার প্রতিনিয়ত খোজ খবর রাখা সম্ভব নয় কিন্ত মোংলাস্থ চিনাদের অস্থায়ী অফিসের কিছু বাংলাদেশী কর্মকর্তারা কোন তথ্য গোপন করছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখবে নৌ-সেনারা বলে জানায় নির্বাহী কর্মকর্তা।

করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে বিদেশ থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণ ও আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বুধবার সকাল থেকে উপজেলায় নৌ-বাহিনীর সাথে পুলিশ সদস্যরাও টহলে নামেন, ফলে প্রায় স্থানীয়রা কার্যত ঘরবন্দি। বন্দরসহ উপজেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও করোন ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করবেন বলে জানায় নৌ বাহিনীর কন্টিজেন্ট কমান্ডার লেঃ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।

অপর দিকে পৌর এলাকা সহ স্থানীয় সকল মসজিদে স্প্রে ও পরিস্কার পরিছন্নতার কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া পৌর সভার পক্ষ থেকে জনসচেতনতায় মাইকিং সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরন করেছেন পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ জুলফিকার আলী।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *