মোংলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতা অপব্যাবহারের অভিযোগ

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জাল সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিজের ক্ষমতার বলে স্কুলে না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, অহেতুক ছাত্র/ছাত্রীদের শাস্তি দেয়া ও ইচ্ছেমত অতিরিক্ত নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের সাহেবের মেঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নুর মোহাম্মদ’র বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন স্কুলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ছাত্র/ছাত্রী ও এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চাপা দেওয়া হচ্ছে এ শিক্ষকের আরও অনেক অনিয়ম। যার ফলে শিশু-কিশোরদের পাঠদানের নামে চলছে প্রতারণা।

অভিযোগে জানা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মোংলা উপজেলায় বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারের নামে টাকা বরাদ্ধ হয়। মিঠাখালী ইউনিয়নের সাহেবের মেঠ সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের নামে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তলনে নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক প্রতারনার আশ্রয় নেয়।

সভপতি ইউপি সদস্য শেখ আছাদুজ্জামানের স্বাক্ষর জাল করে সরকারী টাকা উত্তলনের সকল কাগজ পত্র ব্যাংকে জমা দেয় প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মাদ। বিষয়টি জানাজানি হলে টাকা উত্তলনে বাধা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন সভাপতি শেখ আছাদুজ্জামান।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির আর প্রতারনা করে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করার ব্যাপারে স্কুল মাঠে মাইকিং করে
ছাত্র/ছাত্রীদের অভিবাবকদের বিষয়টি জানায়। এছাড়াও স্কুলে দেড়িতে আসা,অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায়, খেলাধুলার সামগ্রী না কিনে টাকা আত্মসাৎ চাইল্ড ফ্রেন্ড স্কুল (সিএফএস) আওতায় ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বরাদ্দ পাওয়া ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অথচ নির্বিকার কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রাক প্রাথমিক পরিক্ষায় কোন ফি নেয়ার নিয়ম না থাকলেও তিনি ১০ টাকা হারে শিশুদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে।৩য় শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত বিশেষ একটি প্রকাশনীর গাইড (নোট বই) কিনতে বাধ্য করা হয় সকল ছাত্র/ছাত্রীদের। ওই প্রকাশনী থেকে তিনি বাৎসরিক মাসয়ারা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক গাজী নুর মোহাম্মাদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্কুলে আমি মাত্র একা শিক্ষক, ৩জন শিক্ষকের মধ্যে একজন পিটিআই পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে আর অন্য সহকারী শিক্ষক নাছিমা পারভিন ভোটার তালিকা তথ্য সংগ্রহ কাজের কথা বলে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাসায় থাকে। সময় সল্পতার কারনে কাগজপত্রে ভুল হয়েছে কিন্ত সভাপতির
সাথে অলোচনা মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। তবে অন্য অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

স্কুল কমিটির সভাপতি শেখ আছাদুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষক গাজী নুর মোহাম্মাদ আমার স্বাক্ষর জাল করে স্কুল মেরামতের নামে সরকারী বরাদ্ধের টাকা আতœসাৎ করার চেষ্টায় ব্যার্থ হয়েছে, তবে তার ভুল স্বীকার করে নিয়েছে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিসি ক্লাস্টার) মোঃ শাহিনুর রহমান মোড়ল বলেন, সভাপতি অভিযোগ তার কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছে, সাথে সাথে টাকা উত্তলন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতি লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাহাত মান্নান জানান, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নী, তবে অভিযোগ পেলে তদন্তে দোষী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন্ত পোদ্দার বলেন, প্রধান শিক্ষক গাজী নুর মোহাম্মাদ’র বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করা বা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্দেশ কোন ছাত্র/ছাত্রীকে শাস্তি দেয়া যাবেনা বা শাস্তিমুলক ব্যাবস্থও নেয়া যাবেনা, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানায় এ কর্মকর্তা।

সময়নিউজ২৪.কম / বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *