-
- খুলনা বিভাগ, লিড নিউজ, সারাদেশ
- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির অভিমত:অন্ধ্যকারে মাস্টারের ভুলের কারণেই বন্দর চ্যানেলে সার বোঝাই কার্গো ডুবির মুল কারণ
- আপডেট টাইম : January, 27, 2023, 12:54 am
- 21
মোংলা প্রতিনিধি:
মোংলা সমুদ্র বন্দরের হারবাড়িয়া নৌ-চ্যানেলে সার বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় চালকের গাফিলতিই মুল কারণ পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি। তারা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে এই তথ্য পেয়েছেন। এই প্রতিবেদন দু’ একদিনের মধ্যে তারা নৌপরিবহণ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর মুল চ্যানেল রেখে গাফিলতির অভিযোগে দায়ী মাষ্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ। তবে এই মুহুর্তে নৌ দূর্ঘটনায় বন্দরের নৌচ্যানেলে দেশ-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বুধবার মধ্যরাতে হারবাড়িয়া এলাকায় সার নিয়ে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এমভি শাহজালাল এক্সপ্রেসের মাষ্টার (চালক) ওবায়দুর রহমানের গাফিলতি পাওয়া গেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওই সময় ঘন কুয়াশা থাকায় মাষ্টারের উচিৎ ছিল কার্গো জাহাজটি না চালিয়ে কোন এক জায়গায় অবস্থান করা। কিন্ত মাষ্টার সেটি না করে ভুল সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী হারবাড়িয়া-৯ এ অবস্থান করা ‘এমভি ভিটা অলিম্পিক’ নামে বিদেশি জাহাজ থেকে ৫০০ টন সার বোঝাই করে যসোরের নওয়াপাড়ার উদ্দোশ্যে ছেড়ে আসে। এরপরে পথিমধ্যে হারবাড়িয়া-৫ এ অবস্থান করা অন্য আরেকটি বিদেশি জাহাজ ‘সুপ্রিম ভ্যলো’র টার্ণ করার সময় ঘন কুয়াশায় দেখতে না পেয়ে সেটিতে ধাক্কায় লাগায় শাহাজালাল এক্সপ্রেস কার্গোটি। ওই সময়ই দূর্ঘটনার কবলে পড়ে কার্গোটি ডুবে যায়।
এদিকে এ ঘটনায় বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মার্কিন বয়া (লাল সতর্ক বয়া) বসিয়ে তদন্ত শুরু করে বন্দর কর্তৃপেক্ষের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি হারবার মাষ্টার ক্যাপ্টেন শাহাদাৎ হোসেন, পাইলট ফারুক আহেম্মেদ এবং মেরিন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রিয়াদ খাঁন এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এমভি শাহাজালাল এক্সপ্রেসের মালিকানাধীণ প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই শিপিং লাইন্সের মালিক আজাহার সিদ্দিক দাবি করেন, কার্গোটি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মাষ্টার ওবায়দুর রহমানের কোন গাফিলতি ছিলনা। সে একজন দক্ষ চালক। বন্দর কর্তৃপক্ষ দূর্ঘটনার যে কারণ উল্লেখ করেছেন, তার ব্যাখা দিয়ে আজাহার সিদ্দিক বলেন, কোনও বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই হওয়ার পর সেখানে এক মূহুর্তে থাকতে দেওয়া হয়না শ্রমিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। কার্গো বোঝাই শেষ হলে সেখান থেকে অন্যত্র অবস্থান নেওয়ার জন্য ঘন কুয়াশায়ও মাষ্টারের কার্গোটিকে চালাতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে এই জাহাজটি উঠানো সম্ভব না, কারণ হারবাড়িয়া এলাকা অনেক গভির। তাই অনেক সময় লাগবে। ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ থেকে প্রাথমিকভাবে সার অপসারন করতে এখনও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দবনের অভ্যন্তরে হারবাড়িয়া নৌ চ্যানেলে সারবাহী কার্গো জাহাজ ডুবির ফলে জলজ সম্পদের মারাত্বক ক্ষতি হবে এবং ওই জাহাজে থাকা যে জালানী তেল রয়েছে সেগুলো সুন্দরবনের আশেপাশের পরিবেশকে দূষন করবে। একই সঙ্গে বারবার এসব ট্যাংঙ্কার, লাইটার বা কার্গো জাহাজ ডুবির ফলে বন্দরের নাব্যতা সংকট বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মোংলা বন্দরে হারবাড়িয়া চ্যানেলে দূর্ঘটনায় কবলিত হয়ে শাহাজালাল এক্সপ্রেক্স কার্গো জাহাজটি ডুবে গেলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ওই জাহাজে থাকা মাস্টার সহ ৮ নাবিক।কার্গো জাহাজটিতে বহন করা সার বাংলাদেশ এগ্রিকালচার কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বলে জানা গেছে।
Like this:
Like Loading...
Related
Leave a Reply