যশোরে করোনার বন্ধে এক মাদরাসার ২০ ছাত্রীর বিয়ে!

নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি  :
যশোর মণিরামপুরে করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক স্তরের একটি মাদরাসার ২০ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছেন, বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির দুইজন, সপ্তম শ্রেণির চার, অষ্টম শ্রেণির ছয়, নবম ও দশম শ্রেণির চারজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন। গত ১০ মাসে উপজেলার পাড়িয়ালি আদর্শ বালিকা দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিয়ের শিকার হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সুপার আব্দুল হালিম মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার দাবি, বাল্য বিয়ের খবর প্রশাসনকে দিয়ে তেমন কোন ফল আসে না। তাই করোনার বন্ধে ছাত্রীদের বিয়ের ব্যাপারে টের পেলেও প্রশাসনকে খবরগুলো জানায়নি তিনি।
মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষকরা জানায়, করোনার কারণে গত (১৭ মার্চ) থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অসচেতন অভিভাবকরা মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। বাড়িতে বিয়ে দিলে সমস্যা হবে ভেবে তারা বাইরের এলাকায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছে। করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২০ ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে বলে জানায় তারা।
মাদরাসার শিক্ষক অম্বরীশ রায় বলেছেন, ‘আমাদের দশম শ্রেণির ঋতু নামে এক ছাত্রীকে স্বজনরা পুলেরহাট এলাকায় আত্মীয়র বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বাইরের এলাকায় হওয়ায় আমরা খবর পেয়েও কিছু করতে পারিনি।
মাদরাসার সুপার আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক স্তরে ১৫০ জন ছাত্রী রয়েছে। করোনার বন্ধে কয়েক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার খবর টুকটাক পাচ্ছিলাম। আমরা প্রতিষ্ঠানে নেই বলে খবর নিতে পারিনি। গত পহেলা নভেম্বর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার জন্য মাদরাসা খোলা হয়। এরপর কয়েকজন ছাত্রী না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তখন হিসেব নিয়ে দেখি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২০ জনের বিয়ে হয়েছে।
তিনি আরো বলেছেন, ‘আগে কয়েকবার ছাত্রীদের বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে ইউএনওকে জানিয়েছি। থানা থেকে পুলিশ এনে এক ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করেছি। কিন্তু পরে আবার অভিভাবকরা বাইরের এলাকায় নিয়ে গোপনে তাদের বিয়ে দিয়েছে। তাই করোনার বন্ধে ছাত্রীদের বিয়ের বিষয়টি প্রশাসনকে জানাইনি।
মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশচন্দ্র সরকার বলেছেন, করোনার বন্ধে কতজন ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে তেমন কোনো তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানরা আমাদের জানায়নি। এই ব্যাপারে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
মণিরামপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি আক্তার বলেছেন, গত ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া থেকে পহেলা ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা ১৭টি বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে সবগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু পাড়িয়ালি বালিকা দাখিল মাদরাসার ছাত্রীদের বিয়ের ব্যাপারে মাদরাসার সুপার আমাদের কোনো খবর দেয়নি। যে কারণে ওই বিয়েগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়নি।।
সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *