যশোর মনিরামপুরে ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে রাস্তার ২ লক্ষাধিক টাকার ৩১ টি সরকারী গাছ কর্তন

নিলয় ধর,যশোর:
ঝড়ের দোহায় দিয়ে যশোরের মনিরামপুরে সড়কের সরকারি ৩১ টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলার হরিহরনগর ইউপির ১ জন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে গাছ কেটে ভাগাভাগি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ পিচ মেহগনির লগ পার্শ্ববর্তি রোহিতা ইউনিয়নের মুড়াগাছা বাজারে একটি স -মিলে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আর এই বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায় যে ,উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের পুটিমারা বটতলা থেকে মদনপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যশোর জেলা পরিষদের আওতাধিন প্রায় কয়েক শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতের গাছ রয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে এসব গাছপালা রক্ষনাবেক্ষন করা হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ঝড়ের প্রভাবে এই সড়কের বেশ কিছু গাছ হেলে পড়ে।
অভিযোগ করা হয়েছে, এই সুযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের নেতৃত্বে জামিল হোসেন, আকবর আলী,সেকেন্দার আলী, বারীক হোসেন,আলীম হোসেন,শফিকুল ইসলাম,ইমন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন (২৮ মে) ৩১ টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন । জানা গেছে গাছ কাটার পর অধিকাংশ বিক্রী করা হয়। বাকী কাঠ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে।
এর মধ্যে ইউপি সদস্য শামছুর রহমান নিজে নেন ৫০ মন, কিছু দেওয়া হয় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ছবিরোন্নেছাকে,ঝিকরগাছার মহিনকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বিদুর কুমারকে দেয়া হয় ৫০ মন। তবে বিদুর কুমার জানিয়েছেন,তিনি ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকায় ৫০ মন জ্বালানী কাঠ ক্রয় করেছেন। ইউপি সদস্য শামছুর রহমান জানান, ১৩ জন শ্রমিক নিয়ে সড়ক থেকে গাছসমুহ কাটা হয়।
ফলে বিদুর কুমারের কাছে ৪ হাজার টাকার জ্বালানী কাঠ বিক্রি করে ওই শ্রমিকদের দেয়া হয়। গাছকাটার বিষয়টি জানা জানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে ইউপি সদস্য শামছুর রহমান রাতের অন্ধকারে ৩১ পিচ লগ গত বৃহস্পতিবার ২টি আলমসাধুতে বোঝাই দিয়ে পার্শ্ববর্তি রোহিতা ইউনিয়নের মুড়াগাছা বাজারের আবদুল মান্নানের সমিলে এনে স্তুপ করে রাখে। তবে সমিলের মালিক আবদুল মান্নান জানান, তার অনুমতি না নিয়েই রাতের অন্ধকারে ইউপি সদস্য শামছুর রহমান ৩১ পিচ মেহগনির লগ তার সমিলে রাখেন। এই ব্যাপারে কথা হয় ইউপি সদস্য শামছুর রহমানের সাথে।
গাছ বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, ঝড়ে গাছ পড়ে যাবার কারনে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের নির্দেশে তিনি শ্রমিক নিয়ে গাছ কাটেন। হরিহরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন,গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় ইউপি সদস্যকে বলা হয়েছিল অপসারন করতে। কিন্তু বিক্রি করতে বলা হয়নি।
জেলা পরিষদ সদস্য (শহিদুল ইসলাম মিলন) জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ওই কাঠ জব্দ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এমএ মনজু জানান,খবর পেয়ে তিনি মুড়াগাছা বাজারের আবদুল মান্নানের সমিলে গিয়ে ৩১ পিচ মেহগনির লগ জব্দ করেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে ২/১ মধ্যে দোষিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *