যুদ্ধাপরাধী সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করায় পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ:

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড.সোহরাব উদ্দিনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ঘোষনা করায় নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও তাকে উক্ত পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবীতে মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গতকাল শনিবার পাকুন্দিয়া জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠন করেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন। এতে বক্তব্য রাখেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবীর,পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন, জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদ, নারান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক,বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ টিটু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।বক্তাগণ অবিলম্বে আহবায়ক পদ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানান। পরে তার অপসারণের দাবীতে ঘন্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সোহরাব উদ্দিনএর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী,স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে তাকে ২০১৯ সনে সংসদ নিবার্চনে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হবার কারণে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, পাকুন্দিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের আউলিয়াপাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনকে আসামী করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং- ৩, কিশোরগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তনাধীন রয়েছে। মামলার বিবরণীতে বলা হয়, সোহরাবউদ্দিন একজন চিহ্নিত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান। তিনি তৎকালীন পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্র সংঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্যের আপন চাচা মোহাম্মদ আলী ছিলেন পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভাতিজা সোহরাব উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত রাজাকার ক্যাম্পে থাকতেন। ওই সময় মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে সোহরাব উদ্দিন পাটুয়াভাঙ্গা এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে যুবক ছেলেদের প্ররোচনা ও প্রলোভন দিয়ে কৌশলে আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যেতেন। পরে সেখান থেকে ওই লোকদের প্রশিক্ষণ করিয়ে এলাকায় নিয়ে সোহরাব উদ্দিন রাজকারদের উসকানি দিয়ে হিন্দু বাড়ি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন হাটবাজারে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, গণহত্যা ও নারী নিযার্তনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন।
গত বৃহষ্পতিবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় তাকে এ পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসান শাহজাহান। সভা শুরু হবার পর পাকুন্দিয়া উপজেলা কমিটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আহবায়ক হিসেবে সোহরাব উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হলে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেণুসহ জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। সভাটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ আফজল। একটি অসর্মথিত সূত্র জানায়, সভায় কতক নেতা অর্থের বিনিময়ে সোহরাব উদ্দিনকে সমর্থন দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *