যেমন চলছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

আবু সুফিয়ান রাসেল।।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যা সংকটে চলছে র্দীঘ দিন। অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিদায় নিয়েছেন একাধিক অধ্যক্ষ। ১২১ বছরে ৫৩ জন এ কলেজের প্রধান হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে সে হিসাবে কলেজের উলেখ্য যোগ্য পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করেন ভিক্টোরিয়ার সাবেক বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষাথীরা।

সরেজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বহু সমস্যার কথা জানা যায়। তার মধ্যে রয়েছে শ্রেণি কক্ষ সংকট, বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব, শৌচাগার সংকট ও অপরিচ্চন্ন, ছাত্রীদের কমন রুম ও নামাজের স্থান সংকট, পরিবহন সংকট, আবাসিক হলের সীমাবদ্ধতা, খেলার মাঠ না থাকা, জলাবদ্ধতা, ডিগ্রি শাখায় ব্যাংকের শাখা না থাকা। এছাড়াও রয়েছে নানান অপূর্ণতা আর অভিযোগ।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন আকাশ বলেন, যে ক্লাস রুম খালি পাওয়া যায়, সে রুমে ক্লাস করতে হয়। নির্ধারিত কোন ক্লাস রুম নেই। কোথায় ক্লাস হবে অনেক ছাত্র-ছাত্রী জানেই না। তাই কলেজে আসতে চায় না। আসলে কোন কোন দিন শিক্ষক ক্লাসে আসেন না।


রসায়ন বিভাগরে শিক্ষার্থী আশিক ইরান বলেন, বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই। ছাত্রদের জন্য সাধারণ পানির ব্যবস্থাও নেই। পানি পান করতে হলে হয়তো কলেজ ক্যান্টিনে নয়তো বাহিরে দোকানে যেতে হয়। ভবনের প্রতিটি তলার সিঁড়ির পাশে যদি বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা থাকে তাহলে সবাই উপকৃত হতো। পানি মানে জীবন, দোকানের পানি নিরাপদ বলে মনে করি না।

ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু রায়হান মনে করেন, বিভাগ ভিত্তিক ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক পৃথক শৌচাগার থাকা প্রয়োজন। কলা ভবনের নিচে দুটি শৌচাগার আছে যার একটি এখন স্টোর রুম অন্যটি অপরিচ্চন্ন। তিন তলায় একটি শৌচাগার আছে নামে মাত্র। দরজা ভাঙ্গা, সিটকানি নেই, পানির টেপ ভাঙ্গা, বদনার বদলে ডিব্বা দেওয়া আছে। কলেজের মোটামুটি প্রায় টয়লেটগুলোর একই অবস্থা তবে শিক্ষকদেরগুলো ব্যতিত। ছাত্ররা প্রায় মসজিদের টয়লেট ব্যবহার করে।

কলেজের দ্বি-মাসিক পত্রিকা ক্যাম্পাস বার্তার সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইসরাত জাহান রিপা বলেন, প্রতিটি ভবনে কমন রুমের সাথে ছাত্রীদের নামাজরে ব্যবস্থা থাকা জরুরি। প্রায় ভবনে ছাত্রীদের কমন রুম নেই, সেমিনার কক্ষ থাকলেও ক্লাস রুম সংকট হলে সেখানেও ক্লাস হয়। জোহরের নামাজের সময় ছাত্রীরা কলেজে থাকে, এছাড়া পরিক্ষা চলাকালিন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দিনেও আসর, মাগরিবের নামাজের সময় কলেজে অবস্থান করতে হয়।


রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফ হোসেন সবুজ মন্তব্য করেন, প্রতিবছর পরিবহন খাতে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় তহবিলে টাকা জমা দিচ্ছে। দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, শতবর্ষী কলেজ অথচ এতদিনে কলেজের টাকায় একটি বাসও ক্রয় করতে পারেনি কতৃপক্ষ। ভাড়া বাসে আর কত দিন?

আরো পড়ুন —–

তাদের বিচার আল্লাহ করবে – রতন কুমার সাহা

বাংলা বিভাগের ছাত্রলীগ সভাপতি ও কবি নজরুল হলের আবাসিক সদস্য রুবেল আহম্মেদ জানান, আবাসিক হলের বহু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেখানেও বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই। ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর মঝে মাত্র ১৩শ জন আবাসিক সুবিধা ভোগ কররে। খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। বিদ্যুতের বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই। বর্তমান সময়ে এসে শিক্ষার্থীদের উপর বিদ্যুত বিল চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যা শিক্ষার্থীরা কখনো মেনে নিবে না।

খেলার মাঠ নিয়ে জানতে চাইলে কলেজ ছাত্র সোহলে হুসাইন সাইফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা নিয়েতো নতুন কিছু বলার নেই। খেলার মাঠ না বলে এটাকে কচু ক্ষেত বললে ভালো হবে। সকল মাধ্যমে এ সংবাদ প্রচার হয়েছে। দুই যুগের এ সমস্যা জানে না, এমন লোক ভিক্টোরিয়া কলেজে নেই। তবে সমাধান করার জন্য এখন লোক দরকার।


ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্রী উম্মে হাবিবা জ্যোতি বলেন, অনার্স, মাষ্টার্স ও ডিগ্রিতে প্রায় ২৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী। প্রতিটি শিক্ষার্থীর বছরে কয়েক দফা ব্যাংকে যেতে হয় টাকা জমা দেওয়ার জন্য। যদি ধর্মপুর ক্যাম্পাসে কোন ব্যাংকের শাখা থাকতো তাহলে সময় ও অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া নষ্ট হতো না। কান্দিরপাড় গিয়ে টাকা জমা দেওয়া মেয়েদের জন্য ঝুঁকিও বটে।

কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মহসীন কবির মনে করেন, ভিক্টোরিয়া পরিবার থেকে যা পাবার কথা ছিলো তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সাফল্য ব্যর্থতা উভয়ে রয়েছে। যদি সাফল্যের পাল্লাকে ভারি বলি তাহলে ভুল হবে না, তবে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে প্রাপ্তিতা একটু বেশী। কারণ ভিক্টোরিয়া কলেজ হলো প্রাচীন সমতট অঞ্চলের মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানের মূল উপাদান। কলেজের সংকট সমস্যা সমাধান হউক এটাই চাই। ভিক্টোরিয়ার জয়ে যেমন আমরা খুশি হই, নেতিবাচক বিষয়ে আরও বেশী কষ্ট পাই।

ডিগ্রি শাখার জলাবদ্ধতা নিয়ে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, এ কলেজের ছাত্র থাকা কালিন এ সমস্যা দেখেছি। শিক্ষক হয়ে ও তা ভোগ করতে হচ্ছে। কলেজে প্রশাসন ও স্থানীয়দের যৌথ প্রয়াসে স্থায়ী ভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। গত কয়েক বছরে ধর্মপুর এলাকায় যে পরিমান বহুতল ভবন হয়েছে, আগামীদিনে জলাবদ্ধতা আরো ভয়ঙ্কর আকার ধারন করবে। শুধু ড্রেন করলে হবে না, ড্রেন যেন বড় কোন খালের সাথে সরাসরি সংযোগ থাকে তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

কলেজের সার্বিক অবস্থা নিয়ে অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, কলেজকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা অব্যাহত আছে। একজনের পক্ষে এ বিশাল কলেজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সবার আন্তরিকতা প্রয়োজন। খেলার মাঠ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র দুই মাস হলো। সমস্যাতো অনেক নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রেখে একে একে সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আশা করি, খাবার পানি, শৌচাগার সংকট, ছাত্রীদের নামাজের স্থান , পরিবহন সমস্যা, আবাসিক হলের সমস্যা ধারাবাহিক ভাবে ঠিক হয়ে যাবে। সবার সহযোগীতা আর আন্তরিকতা চাই।

 

সময় নিউজ ২৩৪.কম/এএসআর

ভিক্টোরিয়া কলেজে রতন সাহার দুর্নীতির সন্ধানে দুদক টিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *