রসের খোঁজে একঝাঁক তরুণ

তখন ঘড়ির কাটায় রাত ৮ টা বাজে। হঠাৎ করেই ফেসবুক গ্রুপে বন্ধুর মেসেজ। কে কে খেজুরের রস খেতে যাবি। ইচ্ছা থাকলে কাল ভোর সাড়ে ছয়টার মধ্য রেডি হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল পুকুর ঘাটে আসতে হবে। দুই একজন ব্যতিত তেমন কেউ  সাড়া দিলোনা। ওদের মধ্য এক বন্ধু সবাইকে বুঝাচ্ছে চল না সবাই মিলে ঘুরে আসি। অনেক দিন হলো একসাথে ঘোরাঘুরি হয় না। এদিকে ঘোরাঘুরি ও হবে খেজুরের রস খাওয়ার ইচ্ছা টাও পূর্ণ হবে।

কেউ বলছে এত সকালে ঘুম থেকে কি করে উঠবো। কেউ বলছে প্রচন্ড শীতের মধ্য কিভাবে সম্ভব! দেখা দিলো নানা মুনির নানা মত। সবশেষে কিছু বন্ধুর সাড়া পাওয়া গেলো। যেই কথা সেই কাজ। সকালে বের হতে হবে। তারপর যার যার মত গ্রুপ থেকে সেপারেট হয়ে রাতে দ্রুত ঘুমুনোর প্রস্তুতি নিলাম। ঘুম ভাঙ্গলেই খেজুরের রসের সন্ধানে বের হতে হবে।

আয়োজক বন্ধু সকাল সাড়ে ৫টায় উঠে সব বন্ধুদের ফোন দিতে লাগলো। ফোনের পর ফোন। সবাই এতটাই ঘুমে বিভোর যে ৪-৫ বার ফোন দেওয়ার পর একেক জন ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। পরে যার যার মতো রেডি হয়ে বঙ্গবন্ধু হল সংলগ্ন পুকুর ঘাটে একত্র হয়। এর মধ্য অনেকেই ভেবেছিল শুধু আমরাই যাব। কিন্তু ওখানে উপস্থিত হওয়া মাত্রই দেখা গেল বিভিন্ন বিভাগের বন্ধু ও বড় ভাইদের সমাগম।

তারপর সবাই মিলে ভ্যানের সন্ধান করা শুরু করলো। অনেক খোঁজাখুজির পর তিনটি ভ্যান পাওয়া গেল। কিন্তু দেখা গেল তিনটি ভ্যানে যাত্রী পূর্ণ হওয়ার পরও ১৩ জন থেকে যায়। এদিকে আর তেমন ভ্যান ও চোখে মেলেনি। রসের ঠিকানায় পৌছতে হবে দ্রুত। এজন্য তারা পায়ে হাটা শুরু করলো । শর্টকার্ট মাটির রাস্তা দিয়ে খেজুর রসের এলাকা ত্রিবেণির উদ্দেশ্য রওনা হলো। একদিকে ভ্যান পার্টি অন্য দিকে হাঁটাওয়ালা বন্ধুরা। দূর থেকে একে অপরের সাথে কুজকাওয়াজ করতে করতে হঠাৎই অরণ্যর ছায়ায় হারিয়ে গেলো তারা।

পায়ে হাটা বন্ধুরা ধীরে ধীরে দৌড়াচ্ছে। আর একে অপরের সাথে বিনোদন মূলক নাটকীয় কথা বলছে। এক সময় তারা রস ওয়ালার বাড়িতে এসে পৌছালো। সবাই যার যার মত রস খেয়ে মনের এক গুচ্ছ আকাঙ্খা পূর্ণ করলো।

এসময় রস ওয়ালার বাড়িতে ভিন্ন কিছু দেখতে পেলাম আমরা। তারা খেজুরের রস বড় একটা কড়াইয়ে তাপ দিচ্ছে। এ দিয়ে তারা গুড় বানাবে। এই রস দিয়ে বানানো গুড়কে আমরা খেজুরের গুড় বলে থাকি।

অবশেষে সবার খেজুরের রস খাওয়া শেষ হলে ভ্যানে চড়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। পথিমধ্য ভ্যান দিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাক্ষাত। ওরা পায়ে হেটে যাওয়া ১৩ জনের আগেই খেজুরের রস খেয়ে হাটা শুরু করে। এবার দেখা গেল ভ্যান দিয়ে যাওয়া বন্ধুরা আসার সময় পায়ে হেটে। আর হেটে যাওয়া বন্ধুরা আসার সময় ভ্যান দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেইটে এসে পৌছালো।

এভাবে কেটে গেলো এক চিলতি সকাল বেলা। পরিচয় হলো নতুন বন্ধুর সাথে। কাটলো নতুন এক সকাল। পূর্ণ হলো এ বছরের শীতের আমেজের খেজুরের রস খাওয়া।  বন্ধুদের সাথে কাটানো এই সময়টা হৃদয়ের স্মৃতিপটে জমা থাকবে আজীবন।

আর এম রিফাত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *