রাজশাহীতে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের দাবি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

সড়ক দুর্ঘটনারোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করণে অবিলম্বে রাজশাহীসহ দেশব্যাপী সকল সড়কে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন ও কার্যকর করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর তরুণরা। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জলিলের মাধ্যামে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরবার স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রাজশাহীর তরুণ সংগঠন ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) এর সভাপতি শামীউল আলীম ও কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিক। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ইয়্যাস তরুণদের কাছে থেকে জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন তিনি। এসময় ইয়্যাসের নারী সদস্য রিনা আক্তার ও উন্নয়ন কর্মী তহুরা খাতুন লিলি উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত আটটি দাবি হলো: রাজশাহীসহ দেশজুড়ে প্রতিটি সড়কে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করতে হবে। একই সাথে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে ডিজিটালাইজেশন, সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) দ্বারা পর্যবেক্ষণ ও সকল ট্রাফিক পুলিশের কাছে ওয়্যারলেস প্রদান করতে হবে এবং ট্রাফিক বিভাগে দক্ষ লোকবল, ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ বা বরাদ্দ।

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ দ্রুত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি পথচারী, যাত্রী ও চালক তথা সর্বসাধারণকে সড়ক নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে আরো বেশি অবগত ও সচেতন করতে রাস্তার ধারে দৃশ্যমান স্থানে পর্যাপ্ত নির্দেশিকা প্রদান এবং নিয়মিত প্রচারণা চালাতে ট্রাফিক বিভাগের সাথে বিভিন্ন তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করণ।

রাজশাহীসহ দেশজুড়ে নিরাপদে চলাচল করার সুবিধার্থে সাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলো এবং ফায়ার সার্ভিস ও এম্বুলেন্সসহ জরুরী সেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্য পৃথক পৃথক লেনের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজশাহীসহ দেশজুড়ে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে ও ফুটপাতগুলোকে নিয়মিত সংস্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতের লক্ষ্যে সকল ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে।

রাজশাহীর শিরোইল বাস র্টামিনাল ও ঢাকা বাস র্টামিনালকে অবিলম্বে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল এ স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সাথে রাজশাহীসহ দেশজুড়ে রাস্তায় যত্রতত্র গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত সকল প্রকার যানবাহণের স্টপেজগুলোকে অবিলম্বে অপসারণ।

যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে রাস্তা দখল করে যাত্রী উঠানামা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধ করাসহ নির্দিষ্ট পার্কিং জোনে পার্কিং নিশ্চিতকরণ ও নির্দিষ্ট স্টপেজে/যাত্রী ছাউনিতে যাত্রী উঠা-নামা নিশ্চিত করতে হবে; রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী কলেজ গেট, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট ও শহিদ এএইচএম কামরুজ্জামান চত্ত্বর (রেলগেট), ভদ্রা মোড়, তালাইমারী মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, বিনোদপুর বাজার ও লক্ষ্মীপুর মোড় মিন্টু চত্ত্বরসহ রাজশাহী তথা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসূমহে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রপ্তি সহজ করতে হবে। ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও লাইসেন্স প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ’র মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। সকল ড্রাইভারকে লাইসেন্স প্রদানের পূর্বে স্মার্ট প্রশিক্ষণ ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে এবং ট্রাফিক আইনের উপকারীতা তুলে ধরে আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) সভাপতি শামীউল আলীম শাওন বলেন, অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ৩৬ লাখ টাকা, ২০০২ সালে ৪৯ লাখ টাকা পরে আরও ৫৫ লাখ টাকা মোট প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি, লক্ষ্মীপুর, বিন্দুর মোড়, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর ও তালাইমারী মেডিকেল কলেজ বন্ধ গেট, বহরমপুর বাইপাস রোড, কোর্ট স্টেশন মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা নতুন বাইপাস মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা পুরনো সড়ক মোড়, উৎসব সিনেমা হল মোড়, সাগরপাড়া, শিরোইল স্টেশন মোড়, জিয়া শিশুপার্কের সামনের মোড় ও নওদাপাড়ার আমচত্বর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হলেও সিটি করপোরেশন এলাকায় যানজট নিরসনে তা কাজে আসছে না। ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় চলছে ট্রাফিক সিস্টেম। বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজশাহীসহ দেশব্যাপী ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকেও ডিজিটালাইজড করে তোলা বর্তমানে সময়ের দাবি।

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ দ্রুত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে ইয়্যাস (ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ) কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিক বলেন, পথচারী, যাত্রী ও চালক তথা সর্বসাধারণকে সড়ক নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে আরো বেশি অবগত ও সচেতন করতে প্রচারণা চালানো উচিৎ। এতে সড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকাংশেই হ্রাস পাবে এবং সড়কের শৃঙ্খলা ঠিক থাকবে।

উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রোজ সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে (রেলগেট) রাজশাহীতে প্রতিটি স্থানে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনসহ ১৩ (তের) দফা দাবিতে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইডিজিনাস নলেজ) এর সহযোগিতায় ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছিল এবং সেইদিনই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বরাবর ১৩ দফা দাবি সম্বলিত পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা করেছিল। পরবর্তীতে বিগত ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করাসহ সড়কের অবকাঠামোর মান উন্নয়ন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও সর্তকতা বৃদ্ধি এবং সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য অদ্যবধি রাজশাহীতে ডিজিটাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হয়নি।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *