রাতের ঘুম কম হওয়ার জন্য এই ৫টি জিনিস দায়ী

অনলাইন থেকে:

রাতের রুটিন কথাটা শুনতে অনেকটা অদ্ভূত লাগে। আমরা সকালের রুটিন, দিনের রুটিন – ইত্যাদির গুরুত্ব প্রায়ই শুনে থাকি – কিন্তু রাতের রুটিন নিয়ে তেমন একটা কথা হয় না।

১/ পানি
প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পানি পান সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরি। তবে পানি পান করতে হবে সারাদিনে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অথবা ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়ার পর পানি পান করা উচিৎ নয়। কারণ সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তবে রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেমন কোন কাজ করা হয় না। ফলে শরীরে ঘাম হয় না। যার ফলে রাতে বেশী পানি পান করলে বা ঘুমানোর আগে পানি পান করলে অনেক বেশী প্রস্রাবের বেগ আসার জন্য ঘুমের ব্যঘাত ঘটে থাকে।


২/ কফি
কফি মূলত পান করা হয় জেগে থাকার জন্য। কফি পান করার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত নার্ভ সিস্টেম এক বেশী কার্যক্ষম থাকে। ক্যাফেইনে অনভ্যস্ত ব্যক্তি যদি রাতে অথবা ঘুমানোর আগে কফি পান করেন তবে রাতে ঘুমাতে সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। যেহেতু কফি পান করার পরে প্রায় আট ঘন্টা পর্যন্ত এর প্রভাব থেকে যায়, সেহেতু দুপুরে খাবারে আগেই কফি পান করে ফেলা সবচাইতে ভালো।


৩/ উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাদ্য
কিছু খাবার খুব সহজেই পরিপাকযোগ্য হলেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাদ্য পরিপাক হতে অনেক বেশী সময় নেয়। যদিও এমন ধরণের খাদ্য খাওয়ার ফলে অনেক বেশি সময় ধরে পেট ভরা থাকে, তবু এমন ধরণের খাবার রাতে ঘুমের আগে খেলে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


৪/ এসিডিক খাবার
অনেক বেশী মশলাযুক্ত এবং এসিডযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে রাতে ঘুমানোর সময় মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এমন ধরণের খাবার খাওয়ার ফলে বুকে এবং গলার ভেতরে তীব্র জ্বালাপোড়া ভাবের সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় শুয়ে থাকলে অবস্থা আরও বেশী খারাপ হয়ে যায়। বিশেষ করে অসুস্থতায় ভোগা মানুষদের রাতের বেলা এমন এসিডিক খাবার এবং মশলাযুক্ত খাবার খেলে বেশী সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। যে কারণে, এই ধরণের খাবার রাতেরবেলা একেবারেই না খাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধমানের কাজ।


৫/ পিৎজাঃ: সন্ধ্যা অথবা রাতের খাবার থেকে পিৎজা বেঁচে যাওয়ার পর বেশীরভাগ মানুষ মধ্যরাতের হালকা খাবার হিসেবে পিৎজা খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই পিৎজা খাওয়ার ফলেই রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। পিৎজাতে ব্যবহৃত চীজ এবং টমেটো সস, এই দুটি উপাদান ঘুমের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। চীজে থাকা ফ্যাট এবং টমেটো সসের এসিড একসাথে মিশে এমন একটি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে যা মারত্মকভাবে ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে দেয়। এছাড়াও এসিডিক খাবার বুকজ্বালা পোড়া তৈরি করে থাকে বলেও এমন ধরণের যে কোন খাবার এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *