রাবির সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন তিন হাজার ৪৩৬ গ্র্যাজুয়েট

লাবু হক, রাবি প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পিএইচডি, এমফিল,  স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এ সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন বলে বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। এই দুই শিক্ষাবর্ষে মোট ৮ হাজার ৮১৪ জন ডিগ্রি অর্জনকারী থাকলেও সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন মাত্র তিন হাজার ৪৩৬ জন গ্র্যাজুয়েট।

গ্র্যাজুয়েটদের দাবি, অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি হওয়ার কারণে সমাবর্তনে অংশ নিতে পারছেন না বেশি গ্র্যাজুয়েটরা। তবে ব্যক্তিগত সমস্যা ও নিবন্ধনের সময় কম হওয়ায় কারণেও অংশ নিতে পারছেন না। নিবন্ধন ফি কমালে ও নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধি করলে সমাবর্তনে অংশ নিতে আগ্রহী বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ নভেম্বর একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। যাতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এবারের সমাবর্তনে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীরা অংশ নিতে পারবেন। সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন হাজার ৫৭০টাকা দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী জানান, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সালে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীরা গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা আট হাজার ৮১৪জন। এর মধ্যে কলা অনুষদে ১৪০২ জন, আইন অনুষদে ১৬১, বিজ্ঞান অনুষদে ৬৮৫ জন, বিজনেজ স্ট্যাডিজ অনুষদে ৭৭৬, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৬২২, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৬১০, কৃষি অনুষদে ১১৫, প্রকৌশল অনুষদে ২৪৬ জন, চিকিৎসা থেকে ৩৫৯৭ জন পিএইচডি, এমফিল, ¯স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, এবারের সমাবর্তনে তিন হাজার ৪৩৬ জন গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন করেছেন। রাবির ৬২৮ জন শিক্ষক অনলাইন ও অফলাইনে নিবন্ধন করেছেন। গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে কলা অনুষদে ৬৬৮ জন, আইন অনুষদে ৯০, বিজ্ঞান অনুষদে ৩৭৭, বিজনেস স্টাডিস অনুষদে ৫০৫, সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ৫৮৫, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৩১০, কৃষি অনুষদে ৪২, প্রকৌশল অনুষদে ১৩৫, চারুকলা অনুষদে ৪৩, ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদে ৩, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট অনুষদে ১, ডিভিএম-৪৩, এমবিবিএস- ৫১১, বিডিএস- ১২৩, মোট- ৩তিন হাজার ৪৩৬ জন।

যারা সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধন করেননি তারা কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত সমস্যা, নিবন্ধন ফি ‘অতিরিক্ত’সহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন।
২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ব্যস্ততার কারণে সমাবর্তনের নিবন্ধন করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এখন নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধি করে তাহলে সমাবর্তনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবো।
২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সৈকত রহিম জানান, তিনি কোন এক প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ায় সমাবর্তনে অংশ নিতে পারছেন না।

২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পড়াশুনা শেষে এখনো চাকরিতে যোগদান করার সুযোগ হয়নি। যার ফলে নিবন্ধন বাবদ এতো টাকা খরচ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন থেকে যদি নিবন্ধন ফি কমানো হয় এবং নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয় তাহলে সমাবর্তনে অংশ নেয়া সম্ভব হবে।’

২০১৬ সালে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন সৌরভ জোয়াদ্দার। সমাবর্তনের নিবন্ধন করেন নি তিনি। কেন নিবন্ধন করেন নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো চাকরিতে যোগদান করার সুযোগ হয়নি। বাড়ি থেকে টাকা চাইতেও আর ভালো লাগে না। এর মধ্যে সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি বেশি হওয়ায় তাতে অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। নিবন্ধন ফি দুহাজার টাকা হলে হয়তো নিবন্ধন করতে পারতাম।’

সমাবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘সমাবর্তনে অংশগ্রহনের অনিচ্ছা প্রকাশের কারণ হিসেবে আমি মনে করি তাদের বেকারত্ব। এর আগেরবার কয়েক বছর পর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন করেছিলো। কিন্তু এবার ২০১৫ থেকে ১৬ সালের গ্রাজুয়েটদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যাদের অধিকাংশ গ্রাজুয়েটরাই হয়তো এখনো চাকরি পায়নি। সমাবর্তনে নিবন্ধন না করার এটাও একটা কারণ হতে পারে।


‘অতিরিক্ত’ নিবন্ধন ফি’র বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আনন্দ বলেন, এবার নিবন্ধন ফি আরও বৃদ্ধির কথা চলছিলো, পরবর্তীতে উপাচার্যকে ফি না বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। এ জন্য পূর্বের ন্যায় নিবন্ধন ফি অপরিবর্তীত রয়েছে।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান প্রত্যেক বছর সমাবর্তন আয়োজনের ঘোষণা দেন। ওই সমাবর্তনে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েট শেষ করা ৬ হাজার ১৪ জন অংশ নেন।

 

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *