রাবি উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ, আটক এক

রাবি প্রতিনিধিঃ

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে মিছিলটি কাজলা গেটে পৌঁছালে পুলিশ সেখানে লাঠিচার্জ করে। এতে ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি ছাড়াও সাভারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ ও দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি করা হয়।

ছাত্রদল নেতারা জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে কেন্দ্রীয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সুলতান আহমেদ রাহী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সামসুদ্দিন চৌধুরী সানিনসহ ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে এবং একজনকে পুলিশ আটক করেছে।

বিক্ষোভ মিছিলটি কাজলা গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এসময় রাবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, দেশটা দুর্নীতি, অপশাসন আর দখলদারত্বের আতুরঘরে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতার নামে চলছে লুটপাট আর ভক্ষণ নীতি। দলের দোহাই দিয়ে বারংবার পার পেয়ে যাচ্ছে হাজারো দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরো বলেন, অবিলম্বে দুর্নীতি দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যসহ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তার অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এতো সম্মানীয় পদে থেকে কেউ এমন কার্যসম্পাদনের সাহস না পায়।

পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এই পুলিশ বাহিনী সরকার পক্ষের দুর্নীতিবাজদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। এসময় নির্যাতন করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও হুশিয়ার করেন তিনি।

তবে মিছিলে কোনো ধরনের বাধা দেয়া বা লাঠিচার্জ করা হয়নি বলে জানান মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএম সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মিছিল তো যে কেউ করতে পারে। সবাই সবার দাবি জানাতেই পারে। সেখানে পুলিশ কেনো বাধা দিবে?’

আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে এএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মিছিলে রাজশাহী কলেজের একাউন্টিং বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল। তাই পুলিশ সন্দেহজনকভাবে তাকে থানায় ধরে নিয়ে এসেছে। সে এখনো থানায় আছে। তাঁর অবিভাবককে ডেকে নিয়ে এসে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।’

বিক্ষোভ মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাভারে সাবেক শিক্ষার্থীর মোস্তাফিজুর রহমানের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং তার পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *