রোগী রেখে ডাক্তার ঘুমাচ্ছেন; ভোক্তভোগী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই

আবু সুফিয়ান রাসেল।।
সরকারী হাসপাতালে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার। রাতে হাসপাতালে যথাসময়ে ডাক্তার না পাওয়ার কথা জানান তিনি। ডাক্তরদের কর্কশ আচরণ ও অপ্রয়োজনীয় টেষ্ট ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি হবে বলে জানিয়েছেন কুমেক হাসপাতাল পরিচালক।

জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ১৬ আগষ্ট শুক্রবার রাত ৪টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অসুস্থ স্ত্রী জান্নাতকে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগ তখন ঘুমাচ্ছে, বহু কষ্টে ডিউটি ডাক্তারকে ঘুম ভাঙ্গালে তিনি ৪র্থ তলায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে আঘা ঘন্টা পর ঘুম থেকে উঠে ডাক্তার এলেন। তবে তার কলমে কালি শুন্য তাই তিনি কক্ষে গিয়ে আরো ১০/১২ মিনিট পর আসলেন। এসেই ৭টি টেষ্ট্রের স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে আদেশের মতো করে বললেন এ টেষ্টগুলো ওমুক ক্লিনিকে করাবেন। সাথে একটি কাগজে বেসরকারি ক্লিনিকের নাম লিখে দিয়েছেন।

বেসকারি ঐ ক্লিনিকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, যেকোন টেষ্টে যে ডাক্তারের রোগী আসবে তিনি ৩০-৪৫% কমিশন পেয়ে থাকেন। আর যদি কোন ব্যক্তির (দালাল) রেফারেন্সে আছে। তাহলে সে ঐ কমিশনের ২৫% টাকা মাস পেয়ে পেয়ে থাকে। এটা শুধু আমাদের এখানে না, কুমিল্লা জেলার সবাই এই সুবিধা দিয়ে থাকেন।

একই দিন দুপুরে ইমদাদুল হক তালুকদার স্ত্রীর জন্য অন্য একটি ডাক্তরের পরামর্শ গ্রহণ করেন। সেখানে কোন টেষ্ট্রের নাম নেই। তিনি অভিযোগ করেন কমিশন বাণিজ্যের জন্যই কুমেক হাসপাতালের ডাক্তার অতিরিক্ত টেষ্ট দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমেক পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী জানান, হাসপাতাল ডাক্তারের জন্য ঘুমানোর যায় না। ঘটনা শুক্রবার হওয়ায় এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। শনিবার প্রথম কার্যদিবসে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *